স্পেনের সংসদের নিম্নকক্ষ পশ্চিম সাহারায় জন্ম নেওয়া হাজারো মানুষের নাগরিকত্ব দেওয়ার আইন অনুমোদন করেছে। এই সিদ্ধান্ত মরক্কোর সঙ্গে সম্পর্ককে নতুন করে উত্তেজনায় ফেলতে পারে।
সংবাদমাধ্যম ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস জানিয়েছে, ১০ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত ভোটে ১৬৮ জন আইনপ্রণেতা পক্ষে ভোট দেন। ৩১ জন বিরোধিতা করেন এবং ১৪৫ জন বিরত থাকেন। আইনটি পাস হলে ১৯৭৭ সালের আগে পশ্চিম সাহারায় জন্ম নেওয়া মানুষ ও তাদের উত্তরসূরিরা স্পেনের নাগরিকত্ব পাবেন। অনুমান করা হচ্ছে প্রায় ৮০ হাজার মানুষ এ সুবিধা পাবেন।
আইনটি প্রস্তাব করেছে সুমার, প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজের নেতৃত্বাধীন জোটের একটি বামপন্থি দল। তারা বলছে, সাহারাভি জনগণ দীর্ঘদিন ধরে আইনি ও রাজনৈতিক অনিশ্চয়তায় ছিলেন। স্পেনের ঔপনিবেশিক শাসন শেষে তাদের নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। এই আইন সেই ঐতিহাসিক ঋণ শোধের চেষ্টা।
কনজারভেটিভ পিপলস পার্টি বিরত থেকেছে। তারা বলছে, নাগরিকত্ব ফিরিয়ে দেওয়া উচিত, তবে তা বসবাসের মাধ্যমে হওয়া উচিত, সরাসরি প্রাকৃতিকীকরণের মাধ্যমে নয়। ডানপন্থি ভক্স দল আইনটির বিরোধিতা করেছে। তাদের মতে, স্পেনের নাগরিকত্ব সুরক্ষিত রাখা জরুরি।
মরক্কো পশ্চিম সাহারার ওপর সার্বভৌমত্ব দাবি করে আসছে। তারা মনে করছে, স্পেনের এই আইন তাদের অবস্থানকে দুর্বল করবে। মরক্কোর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা কোনোভাবেই স্পেনের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক খেলায় ‘রাজনৈতিক প্যাদা’ হতে চায় না। মরক্কোর সংবাদমাধ্যমে বলা হয়েছে, এই আইন স্পেনের ভেতরে সাহারাভি বিচ্ছিন্নতাবাদকে উসকে দিতে পারে।
জাতিসংঘ এখনো পশ্চিম সাহারাকে অ-স্বশাসিত অঞ্চল হিসেবে বিবেচনা করে। স্বাধীনতা বা মরক্কোর অংশ হওয়ার বিষয়ে গণভোটের প্রচেষ্টা বহু বছর ধরে স্থগিত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ২০২০ সালে মরক্কোর দাবি স্বীকৃতি দেয়। ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য এবং স্পেনও মরক্কোর স্বায়ত্তশাসন পরিকল্পনাকে সমর্থন করেছে। তবে নতুন নাগরিকত্ব আইন সেই অবস্থানকে জটিল করে তুলতে পারে।
২০২৪ সালে মরক্কো থেকে ৭০ হাজারের বেশি মানুষ সেউতা শহরে প্রবেশ করেছিল। তখন স্পেনের সঙ্গে সম্পর্ক তিক্ত হয়ে ওঠে। এবার নতুন আইন সেই উত্তেজনা আবারো বাড়াতে পারে। স্পেনের গোয়েন্দা সংস্থা জানিয়েছিল, মরক্কোর নিরাপত্তা বাহিনী তখন অভিবাসীদের প্রতি ‘নিষ্ক্রিয়তা’ দেখিয়েছিল। যদিও মরক্কো এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
logo-1-1740906910.png)