Logo
×

Follow Us

ইউরোপ

অস্ট্রিয়ায় স্কুলে ১৪ বছরের কম বয়সীদের হিজাব নিষিদ্ধ

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৩০

অস্ট্রিয়ায় স্কুলে ১৪ বছরের কম বয়সীদের হিজাব নিষিদ্ধ

অস্ট্রিয়ায় নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ১৪ বছরের কম বয়সী মেয়েদের জন্য স্কুলে হিজাব নিষিদ্ধের আইন কার্যকর হয়েছে। সরকারি ও বেসরকারি সব স্কুলে হিজাব বা বোরকার মতো মাথা ঢাকার ঐতিহ্যবাহী মুসলিম পোশাক পরিধানের ওপর এই নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।

বিবিসির তথ্য অনুযায়ী, দেশের তিনটি মধ্যপন্থি দল ওভিপি, এসপিও এবং নিওসের সমন্বয়ে গঠিত রক্ষণশীল জোট সরকার আইনটি পাস করেছে। আইনটিকে তরুণীদের অধিকার রক্ষার পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সামাজিক সম্প্রীতি মন্ত্রী ক্লাউডিয়া বাউয়ার হিজাবকে ‘নিপীড়নের চিহ্ন’ এবং ‘শৈশব থেকেই মেয়েদের নিয়ন্ত্রণ করার উপায়’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

উগ্র-ডানপন্থি ফ্রিডম পার্টি (এফপিও) এই নিষেধাজ্ঞাকে অপ্রতুল বলে দাবি করেছে। তারা শিক্ষক-শিক্ষার্থী উভয়ের জন্যই পূর্ণাঙ্গ মুখাবরণ নিষিদ্ধ করার দাবি জানিয়েছে।

কোনো শিক্ষার্থী হিজাব পরলে প্রথমে শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে আলোচনা হবে। নিয়ম বারবার ভাঙলে শিশু সুরক্ষা বিভাগকে জানাতে হবে। শেষ ধাপে অভিভাবকদের সর্বোচ্চ ৮০০ ইউরো (প্রায় ১ লক্ষ টাকা) পর্যন্ত জরিমানা করা হতে পারে।

অস্ট্রিয়ার আনুষ্ঠানিক ইসলামী সম্প্রদায় এই আইনের কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছে। তারা একে মৌলিক ধর্মীয় স্বাধীনতার ওপর আঘাত হিসেবে দেখছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে আইনি সহায়তা দিয়ে সাংবিধানিক আদালতে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০২০ সালে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দেওয়া একই ধরনের হিজাব নিষেধাজ্ঞা দেশটির আদালত বাতিল করেছিল। মুসলিম সংগঠনগুলো বলছে, ইউরোপজুড়ে সংখ্যালঘুদের লক্ষ্য করে এমন আইন করার প্রবণতা তৈরি হয়েছে, যা গভীর উদ্বেগজনক।

ফ্রান্সসহ কয়েকটি ইউরোপীয় দেশে দীর্ঘদিন ধরে স্কুলে স্পষ্ট ধর্মীয় প্রতীক পরা নিষিদ্ধ। তবে অস্ট্রিয়ার নতুন আইনটি বিশেষভাবে মুসলিম নারীদের মাথা ঢাকার পোশাককে কেন্দ্র করে তৈরি করা হয়েছে।

অস্ট্রিয়ায় স্কুলে হিজাব নিষিদ্ধের আইন কার্যকর হওয়ায় মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। সরকার আইনটিকে লিঙ্গ সমতার প্রতীক হিসেবে দেখলেও মুসলিম সংগঠনগুলো একে ধর্মীয় স্বাধীনতার ওপর আঘাত বলে মনে করছে। আদালতে চ্যালেঞ্জের পর আইনটির ভবিষ্যৎ নিয়ে এখনই বিতর্ক শুরু হয়েছে।

Logo