অভিবাসীদের ফেরত পাঠানোর জন্য ইইউর বাইরে তৃতীয় দেশে ফেরত কেন্দ্র বা ‘রিটার্ন হাব’ স্থাপনের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাঁচ দেশ—ডেনমার্ক, জার্মানি, নেদারল্যান্ডস, অস্ট্রিয়া ও গ্রিস। সংবাদমাধ্যম ইইউ টু'ডে জানিয়েছে- কোপেনহেগেনে অনুষ্ঠিত বৈঠকে তারা তিনটি মূলনীতি ও একটি সাধারণ কাঠামোতে একমত হয়েছে।
কোপেনহেগেন বৈঠকে অংশ নেওয়া দেশগুলো জানিয়েছে, ফেরত কেন্দ্রের মডেল এমনভাবে তৈরি করতে হবে যাতে অনিয়মিত অভিবাসন কমে, ইউরোপীয় ও আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলে এবং অংশীদার দেশের সঙ্গে সমান ও পারস্পরিকভাবে লাভজনক সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এ জন্য সম্ভাব্য অংশীদার দেশগুলোতে কূটনৈতিক মিশন পাঠানো হবে এবং স্থানীয় পরিস্থিতি যাচাই করা হবে।
এই কেন্দ্রগুলো মূলত তাদের জন্য, যাদের আশ্রয়ের আবেদন প্রত্যাখ্যাত হয়েছে কিন্তু তারা এখনও ইউরোপ ছাড়েনি। সমর্থকদের মতে, ইইউর বাইরে এ ধরনের কেন্দ্র স্থাপন করলে ফেরত পাঠানোর সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে, পালিয়ে যাওয়ার প্রবণতা কমবে এবং ইউরোপে প্রবেশ মানেই স্থায়ীভাবে থাকার ধারণা দুর্বল হবে।
সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো, ফেরত পাঠানো ব্যক্তির আইনি অবস্থান কী হবে। কোন রাষ্ট্র তাদের হেফাজতে থাকবে, আপিলের সুযোগ কীভাবে নিশ্চিত হবে এবং যদি নিজ দেশে ফেরত পাঠানো সম্ভব না হয় তবে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে—এসব বিষয় স্পষ্ট করতে হবে। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী, কাউকে এমন জায়গায় পাঠানো যাবে না যেখানে নির্যাতন বা অমানবিক আচরণের ঝুঁকি রয়েছে।
শুধু ইউরোপ থেকে বিমানে পাঠানোই যথেষ্ট নয়। ফেরত কেন্দ্রগুলোতে আইনজীবী, স্বাধীন পর্যবেক্ষক ও চিকিৎসা সেবার প্রবেশাধিকার থাকতে হবে। কোনো কেন্দ্রকে ‘কারাগার নয়’ ঘোষণা করলেই হবে না, বাস্তবে যদি স্বাধীন চলাফেরায় সীমাবদ্ধতা থাকে তবে সেটি আটক কেন্দ্র হিসেবে বিবেচিত হবে।
সম্ভাব্য অংশীদার দেশগুলো আর্থিক সহায়তা, ভিসা সুবিধা, বাণিজ্য ছাড়, নিরাপত্তা সহযোগিতা বা সরাসরি অর্থপ্রদান চাইতে পারে। পাঁচ দেশ বলছে সম্পর্ক হবে সমান ভিত্তিতে, তবে বাস্তবে কোনো চুক্তি টেকসই হবে কিনা তা নির্ভর করবে অংশীদার দেশের অভ্যন্তরীণ বিরোধিতা ও আইনি চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার সক্ষমতার ওপর।
একাধিক দেশ মিলে ফেরত কেন্দ্র চালু করলে জাতীয় আইনগুলোকে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে হবে এবং ইইউর নিয়মের সঙ্গে সম্পর্ক স্পষ্ট করতে হবে। বৈঠকে একটি সময়সূচি নির্ধারণ করা হলেও বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি।
তবে কোন দেশ অংশীদার হবে এবং কী ধরনের সুরক্ষা ব্যবস্থা থাকবে তা এখনও অজানা। রাজনৈতিকভাবে তারা একমত হলেও এখন মূল আলোচনার বিষয় হলো—কোন তৃতীয় দেশ এই দায়িত্ব নিতে রাজি হবে।
logo-1-1740906910.png)