Logo
×

Follow Us

ইউরোপ

জার্মানিতে ‘অপরচুনিটি সেন্টার’: অভিবাসীদের জন্য নতুন দিগন্ত

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২৬ আগস্ট ২০২৬, ০৮:০৩

জার্মানিতে ‘অপরচুনিটি সেন্টার’: অভিবাসীদের জন্য নতুন দিগন্ত

জার্মানির পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য ব্র্যান্ডেনবার্গে অভিবাসীদের জন্য চালু হয়েছে নতুন ধরনের উদ্যোগ। ‘অপরচুনিটি সেন্টার’ নামের এই কেন্দ্রটি এমন অভিবাসীদের জন্য যারা দেশে থাকার বৈধ অনুমতি নেই, আবার বিভিন্ন কারণে নিজ দেশে ফিরতেও পারছেন না। তাদের শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দেওয়ার লক্ষ্যেই এই কেন্দ্র চালু করা হয়েছে।

চলতি বছরের ১ জুন থেকে পরীক্ষামূলকভাবে চালু হওয়া এই কেন্দ্রটি বছরে প্রায় ২০০ থেকে ৩০০ জন অভিবাসীকে সহায়তা করবে। এখানে ভাষা শিক্ষা, কারিগরি প্রশিক্ষণ, শিশুদের জন্য যত্নসেবা এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। বর্তমানে প্রায় ১০০ জন অভিবাসী পুরুষ, নারী ও শিশু এই কেন্দ্রে অবস্থান করছেন।

প্রথম জার্মান ভাষা কোর্সে ১৭ জন অংশ নিয়েছেন, যাদের বেশির ভাগই ক্যামেরুন, কেনিয়া, আফগানিস্তান ও দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে এসেছেন। তারা আগে আইজেনহুটেনস্টাড্টের প্রাথমিক আশ্রয়কেন্দ্রে ছিলেন।

২১ আগস্ট উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ব্র্যান্ডেনবার্গের অভিবাসন ও সংহতি বিষয়ক মন্ত্রী রেনে উইলকে বলেন, “সংহতি একটি প্রস্তাব এবং একই সঙ্গে ব্যক্তিগত প্রচেষ্টা। এটি উভয় পক্ষের কাজ। দেশ সুযোগ তৈরি করে, অভিবাসীরা তাদের সামর্থ্য অনুযায়ী অংশগ্রহণ করে।” তিনি আরো বলেন, অভিবাসনকে সম্পদে পরিণত করতে হলে আইন, নিয়ম, কাঠামো এবং সময় প্রয়োজন।

ব্র্যান্ডেনবার্গ রাজ্য জানিয়েছে, ২০৩১ সালের মধ্যে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার কর্মীর ঘাটতি দেখা দিতে পারে। পরিবহন, লজিস্টিকস, হোটেল-রেস্তোরাঁ, কৃষি ও সেবা খাত সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাই বিদেশি কর্মীদের শ্রমবাজারে অন্তর্ভুক্ত করা জরুরি।

একজন নাইজেরিয়ান অভিবাসী জানিয়েছেন, তিনি এখানে পার্সেল হ্যান্ডলিং শিখছেন এবং ভবিষ্যতে লজিস্টিকস খাতে কাজ করতে চান। রাজ্য কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন কোম্পানির সঙ্গে যোগাযোগ করে অভিবাসীদের চাকরি বা ইন্টার্নশিপের সুযোগ করে দিচ্ছে।

২০২৫ সালে ব্র্যান্ডেনবার্গে নতুন আগমনকারীর সংখ্যা ছিল ৬ হাজার ৮৯, যা আগের বছরের তুলনায় এক-চতুর্থাংশ কম। প্রধান উৎস দেশগুলো হলো ইউক্রেন, আফগানিস্তান, সিরিয়া, রাশিয়া ও তুরস্ক। একই সময়ে প্রায় ১,২৭৫ জনের অবস্থান শেষ হয়েছে, যার মধ্যে ১,০৯০ জন স্বেচ্ছায় দেশ ছেড়েছেন এবং ১৮৫ জনকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

সারা জার্মানিতে ২০২৫ সালের শেষে প্রায় ৩ লাখ ৬১ হাজার আশ্রয়প্রার্থীর আবেদন এখনো বিচারাধীন ছিল। এছাড়া প্রায় ১ লাখ ৭৮ হাজার আবেদন প্রত্যাখ্যাত হয়েছে। এদের মধ্যে অনেকেই ‘ডুলডুং’ বা সাময়িক বহিষ্কার স্থগিতাদেশে রয়েছেন।

ব্র্যান্ডেনবার্গ রিফিউজি কাউন্সিলের মুখপাত্র কিরস্টিন নয়মান বলেছেন, কেন্দ্রটি ভালো উদ্যোগ হলেও স্থানীয় পর্যায়ে কাঠামো শক্তিশালী করা জরুরি। তিনি অভিবাসীদের জন্য সরাসরি শ্রমবাজারে প্রবেশের সুযোগ দাবি করেছেন।

অন্যদিকে, ডানপন্থি দল ‘আলটারনেটিভ ফর জার্মানি’ (AfD) কেন্দ্রটির বিরোধিতা করেছে। তারা উদ্বোধনের দিন বিক্ষোভ করে। দলের নেতা হান্স-ক্রিস্টোফ বার্ন্ডট বলেন, “জার্মানি জার্মানদের দেশই থাকা উচিত। তাই আমরা বলি, কোনো ‘অপরচুনিটি সেন্টার’ নয়, প্রত্যাখ্যাত আশ্রয়প্রার্থীদের দেশ ছাড়তে হবে।”

মন্ত্রী উইলকে বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশে বলেন, “শুনুন এবং বুঝুন। আমি নিশ্চিত এটি একটি ভালো ও গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প। আপনারাও একে ভালো বলতে পারবেন।”

Logo