Logo
×

Follow Us

ইউরোপ

ইউরোপ অভিবাসনের খবর ১৭ আগস্ট ২০২৬

ভূমধ্যসাগরের গ্রিস উপকূলে ৯ বাংলাদেশির মৃত্যু

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১৭ আগস্ট ২০২৬, ১৮:২৩

ভূমধ্যসাগরের গ্রিস উপকূলে ৯ বাংলাদেশির মৃত্যু

লিবিয়া থেকে গ্রিস যাওয়ার পথে ভূমধ্যসাগরে ১১ দিন ধরে ভেসে থাকা একটি নৌকার ৯ বাংলাদেশি ও এক সুদানি নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত ৩ আগস্ট ৩৮ বাংলাদেশি ও চার সুদানিসহ মোট ৪২ জন লিবিয়া থেকে গ্রিসের উদ্দেশে রওনা হন।

রাবারের নৌকাটিতে পর্যাপ্ত নেভিগেশন ব্যবস্থা ছিল না এবং পরে জ্বালানি শেষ হয়ে গেলে এটি ভূমধ্যসাগরে নিয়ন্ত্রণহীনভাবে ভাসতে থাকে। প্রায় ১১ দিন পর ১৩ আগস্ট সন্ধ্যায় নৌকাটি মিসরের মার্সা মাতরুহ উপকূলে পৌঁছায়। তীব্র গরম, খাবার ও পানির সংকটে যাত্রাপথে ৯ বাংলাদেশি ও এক সুদানি মারা যান। পরে মরদেহগুলো পচে যেতে শুরু করলে সেগুলো সাগরে ফেলে দিতে বাধ্য হন জীবিতরা।

উদ্ধার হওয়া ২৯ বাংলাদেশির মধ্যে গুরুতর অসুস্থদের ১৮ জনকে মার্সা মাতরুহ জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং বাংলাদেশ দূতাবাস তাদের চিকিৎসার খোঁজখবর ও প্রয়োজনীয় কনস্যুলার সহায়তা দেওয়ার চেষ্টা করছে। বেঁচে যাওয়াদের মধ্যে সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জের আবদুল করিম জানিয়েছেন, নৌকাটির ধারণক্ষমতা ছিল মাত্র ২৫ জন, অথচ এতে ৪২ জনকে তোলা হয়েছিল এবং মাত্র একটি ইঞ্জিন ছিল। গ্রিসের কাছে পৌঁছানোর সময় ইঞ্জিন বিকল হয়ে যাওয়ার পর তারা আর এগোতে পারেননি।

দীর্ঘ সময় লবণাক্ত পানিতে থাকার কারণে বেঁচে থাকা অনেকের শরীরেও ক্ষত ও পচন দেখা দেয়। এদিকে ব্র্যাক ফ্রন্টেক্সের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত লিবিয়া থেকে সমুদ্রপথে গ্রিসে পৌঁছানো অভিবাসীদের মধ্যে বাংলাদেশির সংখ্যা সর্বোচ্চ, ৩ হাজার ৬০৮ জন। একই সময়ে ৪ হাজার ২৪৯ বাংলাদেশি ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইতালিতে পৌঁছেছেন।

২০০৯ সাল থেকে জুন ২০২৬ পর্যন্ত লিবিয়া হয়ে সেন্ট্রাল ভূমধ্যসাগরীয় রুটে প্রায় ১ লাখ ১০ হাজার বাংলাদেশি ইউরোপে প্রবেশ করেছেন। সর্বশেষ ঘটনাটি মার্চে লিবিয়া থেকে গ্রিসগামী আরেক নৌকাডুবির ঘটনায় অন্তত ১৮ বাংলাদেশির মৃত্যুর পর ঘটল। এদিকে সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জের আরো অন্তত পাঁচ ব্যক্তি, যাদের লিবিয়া থেকে গ্রিস যাওয়ার কথা ছিল, নিখোঁজ রয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্র খবর দিয়েছে।

Logo