Logo
×

Follow Us

ইউরোপ

এস্তোনিয়ায় কর্মসংস্থানের বিরাট সুযোগ; যৌথ বৈঠকে আলোচনা

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১২ আগস্ট ২০২৬, ১১:০৪

এস্তোনিয়ায় কর্মসংস্থানের বিরাট সুযোগ; যৌথ বৈঠকে আলোচনা

বাংলাদেশ ও এস্তোনিয়া দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরো শক্তিশালী করার অঙ্গীকার করেছে। ১১ আগস্ট তাল্লিনে অনুষ্ঠিত দুই দেশের দ্বিতীয় পররাষ্ট্র দপ্তর পরামর্শ (FOC) বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়। বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে নেতৃত্ব দেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দ্বিপক্ষীয় (পূর্ব ও পশ্চিম) সচিব ড. এম নাজরুল ইসলাম এবং এস্তোনিয়ার পক্ষে নেতৃত্ব দেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের প্রধান মাটি মুর্ড।

দুই পক্ষই স্বীকার করে, পারস্পরিক সহযোগিতার অনেক সুযোগ রয়েছে এবং সম্পর্ক পুনর্গঠন ও সম্প্রসারণে উচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া প্রয়োজন। তারা রাজনৈতিক সম্পর্ক আরো গভীর করতে পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের পারস্পরিক সফর আয়োজনের প্রস্তাব দেন এবং সংসদ সদস্যদের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ বাড়াতে বাংলাদেশ-এস্তোনিয়া সংসদীয় গ্রুপ গঠনের বিষয়ে আলোচনা করেন।

বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা বিষয়ে উভয় দেশ বেসরকারি খাতের মধ্যে যোগাযোগ ও ব্যবসায়িক প্রতিনিধি বিনিময় বাড়ানোর বিষয়ে একমত হয়। বাংলাদেশ প্রতিনিধি দল এস্তোনিয়াকে তৈরি পোশাক, পাটজাত পণ্য ও ওষুধ শিল্পে বাংলাদেশের বৈশ্বিক নেতৃত্বের কথা তুলে ধরে। তারা এস্তোনিয়ান বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিনিয়োগের আহ্বান জানায় এবং বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা বিষয়ে যৌথ কার্যকরী দল গঠন ও চেম্বারগুলোর মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের প্রস্তাব দেয়।

মানবসম্পদ উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান সহযোগিতা নিয়েও আলোচনা হয়। বাংলাদেশ জানায়, দেশে আইটি বিশেষজ্ঞ, প্রকৌশলী, ইলেকট্রিশিয়ান, প্লাম্বার ও স্বাস্থ্যকর্মীসহ দক্ষ জনশক্তির বড় একটি ভাণ্ডার রয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের ট্যালেন্ট পার্টনারশিপ প্রোগ্রামের আওতায় তথ্যপ্রযুক্তি, স্বাস্থ্যসেবা, নির্মাণ, পর্যটন ও কৃষি খাতে বাংলাদেশি কর্মীদের এস্তোনিয়ায় কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়। এস্তোনিয়া এ বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে।

দুই দেশ তথ্যপ্রযুক্তি, ডিজিটাল প্রশাসন, ই-আইডি সিস্টেম, নিরাপদ ডেটা বিনিময় ও উদ্ভাবনে সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেয়। এস্তোনিয়া বাংলাদেশে ই-গভর্ন্যান্সে সহায়তা দিতে প্রস্তুতি জানায় এবং জানায়, তাদের অনেক ডিজিটাল কোম্পানি বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী।

শিক্ষা, সংস্কৃতি ও খেলাধুলায় সহযোগিতা বাড়াতে শিক্ষার্থী বিনিময়, গবেষণা, পর্যটন ও সাংস্কৃতিক দল বিনিময়ের বিষয়ে আলোচনা হয়। এছাড়া দ্বিপক্ষীয় চুক্তি দ্রুত সম্পন্ন করার বিষয়ে সম্মতি হয়, যার মধ্যে রয়েছে বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা, সাংস্কৃতিক বিনিময়, পর্যটন উন্নয়ন, দ্বৈত কর পরিহার, বিনিয়োগ সুরক্ষা ও শিল্প খাতে সহযোগিতা।

বৈঠকের শেষে উভয় পক্ষ সিদ্ধান্ত নেয়, আগামী তৃতীয় পররাষ্ট্র দপ্তর পরামর্শ সভা ঢাকায় অনুষ্ঠিত হবে পারস্পরিক সুবিধাজনক সময়ে।

Logo