যুক্তরাজ্যের শরণার্থী আশ্রয় শিবির নিয়ে কোনো গোপনীয়তা নেই
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২৪ জুলাই ২০২৬, ১৪:২৯
যুক্তরাজ্যের হোম অফিস জানিয়েছে, পূর্ব সাসেক্সের ক্রোবরো সামরিক প্রশিক্ষণ ক্যাম্পে আশ্রয়প্রার্থীদের রাখার সিদ্ধান্ত গোপনে নেওয়া হয়নি। বরং সিদ্ধান্তের আগে ও পরে সংশ্লিষ্ট সংস্থার সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে। হাইকোর্টে চলমান মামলায় এ তথ্য তুলে ধরা হয়।
কমিউনিটি ইন্টারেস্ট কোম্পানি ‘ক্রোবরো শিল্ড’ সরকারের এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আইনি লড়াই করছে। তাদের দাবি, হোম অফিস যথাযথ স্বচ্ছতা বজায় রাখেনি। মামলায় বলা হয়েছে, জরুরি ক্ষমতা ব্যবহার করে আশ্রয়প্রার্থীদের সেখানে স্থানান্তর করা হয়েছে, যা পরিকল্পনা আইন অনুযায়ী সঠিক নয়।
হোম অফিসের আইনজীবী জেমস স্ট্রাচান কেসি আদালতে বলেন, স্বরাষ্ট্র সচিব পুলিশ, এনএইচএস ও স্থানীয় কাউন্সিলের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর একটি ফোরাম গঠন করা হয়, যেখানে স্থানীয়রা নিজেদের উদ্বেগ জানাতে পারেন। তিনি যুক্তি দেন, আশ্রয়প্রার্থীদের থাকার ব্যবস্থা করা সরকারের আইনগত দায়িত্ব, কারণ তারা অন্যথায় গৃহহীন হয়ে পড়তেন।
ক্রোবরো শিল্ডের আইনজীবী অ্যালেক্স গুডম্যান কেসি বলেন, আশ্রয়প্রার্থীদের থাকার প্রয়োজনকে ‘জরুরি অবস্থা’ হিসেবে দেখানো ভুল। তিনি প্রশ্ন তোলেন, “এখানে কি সত্যিই এমন জরুরি অবস্থা তৈরি হয়েছে, যা গৃহহীনতার মতো মানবিক বিপর্যয় ঘটাতে পারে?”
গত অক্টোবরে হোম অফিস পরিকল্পনা ঘোষণা করে এবং জানুয়ারিতে তা নিশ্চিত করে। এরপর থেকেই শহরে ব্যাপক প্রতিবাদ শুরু হয়। স্থানীয় কাউন্সিলও এ সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে। বিক্ষোভে অংশ নেওয়া মানুষজন ‘ক্রোবরো সেজ নো’ লেখা ব্যানার ও পতাকা নিয়ে রাস্তায় নেমে আসেন।
মামলার শুনানি শেষে বিচারক মোল্ড বলেন, তিনি যুক্তিগুলো নিয়ে সময় নিয়ে ভাববেন এবং পরে রায় দেবেন। এর আগে ডিসেম্বর মাসে ক্রোবরো শিল্ড মামলা করলেও তা খারিজ হয়ে যায়, কারণ তখনো সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে সিদ্ধান্ত নেয়নি। তবে বিচারক উল্লেখ করেন, নীতিগতভাবে এ সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জযোগ্য।
ক্রোবরো ক্যাম্পে আশ্রয়প্রার্থীদের রাখার সিদ্ধান্ত নিয়ে স্থানীয়দের প্রতিবাদ ও আইনি লড়াই চললেও হোম অফিস বলছে, তারা স্বচ্ছভাবে কাজ করেছে। আদালতের রায় এখনো আসেনি, তবে এ মামলা যুক্তরাজ্যে আশ্রয়প্রার্থীদের আবাসন নীতি নিয়ে নতুন বিতর্ক সৃষ্টি করেছে।
logo-1-1740906910.png)