ইইউতে জোরপূর্বক বিয়ে, অবৈধ দত্তক ও ভাড়া মাতৃত্ব এখন অপরাধ
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২১ জুলাই ২০২৬, ১০:১১
ইউরোপীয় ইউনিয়ন মানব পাচারবিরোধী আইন হালনাগাদ করেছে। ২০২৪ সালের নির্দেশনা অনুযায়ী এবার প্রথমবারের মতো জোরপূর্বক বিয়ে, অবৈধ দত্তক এবং জোরপূর্বক ভাড়া মাতৃত্বকে মানবপাচারের অপরাধ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে ২০২৬ সালের ১৫ জুলাইয়ের মধ্যে এই নির্দেশনা জাতীয় আইনে রূপান্তর করতে বলা হয়েছিল।
জাতিসংঘের পালার্মো প্রোটোকল অনুযায়ী মানব পাচার বলতে বোঝায়, কোনো ব্যক্তিকে নিয়োগ, পরিবহন বা লুকিয়ে রাখা; প্রতারণা বা জোরপূর্বক নিয়ন্ত্রণ এবং শোষণের উদ্দেশ্যে ব্যবহার। এই তিনটি শর্ত পূরণ হলেই তা মানব পাচার হিসেবে গণ্য হয়। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, জোরপূর্বক বিয়ে তখনই মানবপাচার হবে যখন শোষণের উদ্দেশ্যে তা সংঘটিত হয়। অবৈধ দত্তককে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে শিশু অপহরণ, বিক্রি বা প্রতারণার মাধ্যমে দত্তক দেওয়ার ঘটনা হিসেবে। আর ভাড়া মাতৃত্ব তখন মানব পাচার হবে যখন তা শোষণের উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হয়।
২০২৫ সালের মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্টের ‘ট্রাফিকিং ইন পারসনস’ রিপোর্টে দেখা যায়, জার্মানি, ফ্রান্স, লাটভিয়া ও সুইডেনসহ পশ্চিম ও উত্তর ইউরোপের দেশগুলো মানব পাচার প্রতিরোধে সর্বোচ্চ মানদণ্ড পূরণ করেছে। তবে গ্রিস, রোমানিয়া, বুলগেরিয়া ও হাঙ্গেরি দ্বিতীয় স্তরে রয়েছে, যেখানে প্রচেষ্টা থাকলেও মানদণ্ড পূর্ণ হয়নি। রিপোর্টে অভিবাসীদের জন্য ঝুঁকি বেশি বলে উল্লেখ করা হয়েছে। যেমন- নিয়োগকর্তার হাতে পাসপোর্ট জব্দ করা বা অতিরিক্ত ফি আদায় করা।
জার্মানির এনজিও নেটওয়ার্ক KOK জানিয়েছে, নতুন নির্দেশনা ভুক্তভোগীদের সুরক্ষায় যথেষ্ট নয়। তারা বলছে, ভুক্তভোগীদের নিরাপদ আবাসনের অধিকার নিশ্চিত না হলে সঠিক সেবা পাওয়া কঠিন। বর্তমানে জার্মানিতে মানব পাচারের শিকার বিদেশিদের অস্থায়ী আবাসনের অনুমতি দেওয়া হয় কেবল তখনই যখন তারা আদালতে সাক্ষ্য দিতে রাজি হন। কিন্তু অনেক ভুক্তভোগী মানসিকভাবে এতটাই বিপর্যস্ত থাকেন যে সাক্ষ্য দেওয়া সম্ভব হয় না। ফলে তারা সুরক্ষা থেকে বঞ্চিত হন।
KOK দাবি করেছে, নির্দেশনার পূর্ণ বাস্তবায়ন জরুরি। এর মধ্যে থাকতে হবে বিশেষায়িত সহায়তা কেন্দ্র, পর্যাপ্ত অর্থায়ন, আশ্রয়কেন্দ্র বৃদ্ধি, ভুক্তভোগী শনাক্তকরণে উন্নতি এবং আবাসন আইনে সংস্কার।
নতুন ইইউ মাইগ্রেশন ও আশ্রয় চুক্তিতে দ্রুত আশ্রয় ও প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া চালুর কথা বলা হয়েছে। তবে KOK সতর্ক করেছে, এই দ্রুত প্রক্রিয়া যেন মানব পাচারের শিকারদের সুরক্ষা ব্যাহত না করে। তারা বলছে, প্রাথমিক পর্যায়ে ভুক্তভোগী শনাক্ত হলেই তাদের সুরক্ষা ও সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে।
logo-1-1740906910.png)