ব্রিটিশ সম্ভাব্য নতুন প্রধানমন্ত্রী কে এই অ্যান্ডি বার্নহাম?
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১২ জুলাই ২০২৬, ১১:২৩
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের নাটকীয় পদত্যাগের পর লন্ডনের ওয়েস্টমিনস্টারে এখন সবার নজর অ্যান্ডি বার্নহামের দিকে। গ্রেটার ম্যানচেস্টারের সাবেক মেয়র এবং উত্তর-পশ্চিম ইংল্যান্ডের মেকারফিল্ড আসনের নতুন এমপি হিসেবে শপথ নিতে যাচ্ছেন তিনি। কয়েক দিন আগেই উপনির্বাচনে ল্যান্ডস্লাইড জয়ের মাধ্যমে বার্নহাম লেবার পার্টির ভেতরে নেতৃত্বের দাবিদার হয়ে উঠেছেন।
৫৬ বছর বয়সী বার্নহামকে ব্রিটেনের অন্যতম ক্যারিশম্যাটিক রাজনীতিবিদ বলা হয়। যদিও তিনি নিজেকে লন্ডনের অভিজাত রাজনীতির বাইরে দাবি করেন, বাস্তবে খুব অল্প বয়সেই সংসদীয় গবেষক, উপদেষ্টা এবং এমপি হিসেবে রাজনীতিতে প্রবেশ করেন। টনি ব্লেয়ার ও গর্ডন ব্রাউনের সরকারের সময় তিনি স্বাস্থ্যমন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করেছেন। দুবার লেবার পার্টির প্রধান হওয়ার চেষ্টা করলেও ব্যর্থ হন। ২০১৭ সালে ম্যানচেস্টারের মেয়র নির্বাচিত হয়ে তিনি লন্ডন ছেড়ে উত্তর ইংল্যান্ডে ফিরে যান, যা তার রাজনৈতিক জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।
ম্যানচেস্টারের মেয়র হিসেবে তিনি উত্তর-দক্ষিণ বৈষম্যের বিরুদ্ধে সোচ্চার হন। স্থানীয় গণপরিবহন সংস্কার, গৃহহীনদের জন্য আবাসন প্রকল্প এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি তার মেয়াদকালে অর্জিত সাফল্য। এজন্য মিডিয়া তাকে ‘কিং অব দ্য নর্থ’ নামে অভিহিত করেছে। তার শাসনপদ্ধতি এখন ‘ম্যানচেস্টারইজম’ নামে পরিচিত, যা ব্যবসা-বান্ধব সমাজতন্ত্রের ধারণা অর্থাৎ জরুরি জনসেবা সরকারি নিয়ন্ত্রণে এনে লন্ডনের বাইরে শহরগুলোকে স্বাবলম্বী করা।
স্টারমারের পদত্যাগের পর লেবার পার্টির নেতৃত্ব নেওয়া বার্নহামের জন্য সহজ হবে না। ব্রিটেনের অর্থনীতি সংকটে, রাজনৈতিক পরিস্থিতি উত্তপ্ত। অভিবাসন ও অর্থনীতির মতো ইস্যুতে তাকে ভারসাম্য বজায় রাখতে হবে। খুব বেশি ডানপন্থী হলে উদারপন্থি ভোটাররা গ্রিন পার্টির দিকে ঝুঁকতে পারে, আবার খুব বেশি বাম হলে শ্রমজীবী ভোটাররা দূরে সরে যেতে পারে।
মেকারফিল্ডে প্রচারণায় বার্নহাম এই কঠিন সমীকরণ দক্ষতার সঙ্গে সামলেছেন। তিনি শরণার্থীদের স্থায়ী নাগরিকত্ব দেওয়ার বিরোধিতা করেছেন, অবৈধ অভিবাসীদের সরকারি সুবিধা দেওয়ার দাবি থেকে সরে এসেছেন এবং ব্রেক্সিট ইস্যুতে ইউরোপীয় ইউনিয়নে ফেরার ইচ্ছা থেকেও দূরত্ব বজায় রেখেছেন।
আজ যখন তিনি এমপি হিসেবে পার্লামেন্টে প্রবেশ করবেন, তখন পুরো ব্রিটেনের চোখ থাকবে তার ওপর। ‘কিং অব দ্য নর্থ’ কি এবার ডাউনিং স্ট্রিটে বসে পুরো দেশকে এক সুতোয় বাঁধতে পারবেন- এটাই এখন ব্রিটিশ রাজনীতির বড় প্রশ্ন।
logo-1-1740906910.png)