ইউরোপে কাজের সুযোগ খুঁজছেন অনেক বাংলাদেশি। তাদের জন্য রোমানিয়া একটি সম্ভাবনাময় গন্তব্য। তবে সেখানে কাজের ভিসা বা ওয়ার্ক পারমিট পেতে কিছু নির্দিষ্ট ধাপ অনুসরণ করতে হয়। চাকরির অফার থেকে শুরু করে রেসিডেন্স পারমিট পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়াটি জানা জরুরি।
প্রথমেই রোমানিয়ার কোনো কোম্পানি থেকে চাকরির অফার পেতে হবে। নিয়োগদাতা প্রমাণ করবে যে ওই কাজের জন্য রোমানিয়া বা ইউরোপীয় ইউনিয়নের নাগরিক পাওয়া যাচ্ছে না। এরপর তারা General Inspectorate for Immigration (IGI)-তে আবেদন করবে। কোম্পানির আর্থিক অবস্থা, কর পরিশোধ ও বাজেট সংক্রান্ত শর্তও পূরণ করতে হবে।
নিয়োগকর্তা আইজিআইতে কাজের অনুমোদনের জন্য আবেদন করলে সাধারণত ৩০ দিন সময় লাগে। অতিরিক্ত যাচাই প্রয়োজন হলে সময় আরো বাড়তে পারে। অনুমোদন পাওয়ার পর আইজিআই থেকে কাজের পারমিট ইস্যু করা হয়।
ওয়ার্ক পারমিট হাতে পাওয়ার পর আবেদনকারীকে ভারতের দিল্লিতে অবস্থিত রোমানিয়ার দূতাবাস বা কনস্যুলেটে D/AM টাইপের দীর্ঘমেয়াদি ভিসা নিতে হবে। এ সময় প্রয়োজন হয় ওয়ার্ক পারমিট, বৈধ পাসপোর্ট, পুলিশ ক্লিয়ারেন্স, ট্রাভেল হেলথ ইন্স্যুরেন্স এবং ভিসা ফি জমা দেওয়ার প্রমাণ।
ভিসা নিয়ে রোমানিয়ায় পৌঁছানোর পর আবেদনকারীকে টেম্পোরারি রেসিডেন্স পারমিট নিতে হবে। এর জন্য দরকার চাকরির চুক্তি, ন্যূনতম গ্রস বেতনের প্রমাণ, মেডিকেল সার্টিফিকেট, পাসপোর্ট ও বাসস্থানের প্রমাণপত্র। সাধারণত প্রথমবারের রেসিডেন্স পারমিট এক বছরের জন্য দেওয়া হয়।
২০২৪ সালের Law no. 28/2024 অনুযায়ী উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন কর্মীদের জন্য পারমিট প্রক্রিয়ায় কিছু পরিবর্তন এসেছে। নিয়োগদাতাদের আর্থিক অবস্থা, বেতন কাঠামো ও অন্যান্য শর্ত পূরণে আরো কঠোর নজরদারি করা হচ্ছে। ফলে আবেদনকারীদের প্রস্তুতি ও সময় ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ফলে পুরো কার্যক্রমে ৪টি প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতা নিতে হয়। প্রথমত রোমানিয়ার নিয়োগকর্তার চাহিদাপত্র, বাংলাদেশের রিক্রুটিং এজেন্সির কর্মী সংগ্রহ, ভারতের রোমানিয়ান দূতাবাসের নিবন্ধনকৃত এজেন্সি যাদের মাধ্যমে ভিসা প্রসেসিং হবে এবং দিল্লিস্থ রোমানিয়ান দূতাবাস। সব প্রতিষ্ঠানের ধাপে ধাপে কর্ম সম্পাদনের পরই কেবল একজন কর্মী কাজের ভিসা নিয়ে রোমানিয়া যেতে পারেন।
logo-1-1740906910.png)