যুক্তরাজ্যে ‘ওয়ান ইন, ওয়ান আউট’ আশ্রয় নীতি নিয়ে বিতর্ক
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১০ জুলাই ২০২৬, ১৩:০৫
যুক্তরাজ্যে আশ্রয়প্রার্থীদের জন্য চালু হওয়া বিতর্কিত ‘ওয়ান ইন, ওয়ান আউট’ নীতির বিরুদ্ধে প্রশ্ন উঠেছে। এই নীতির আওতায় একজন আশ্রয়প্রার্থীকে বৈধভাবে যুক্তরাজ্যে আনা হয়, আর একই সময়ে ছোট নৌকায় আসা আরেকজনকে জোরপূর্বক ফ্রান্সে ফেরত পাঠানো হয়।
সম্প্রতি প্রথমবারের মতো বৈধভাবে যুক্তরাজ্যে আনা এক আশ্রয়প্রার্থী গণমাধ্যমে বলেন, “আমি এখানে আসতে পেরে খুশি, কিন্তু এটা ন্যায্য নয় যে আমার মতো একই পরিস্থিতির আরেকজনকে শুধু নৌকায় আসার কারণে ফেরত পাঠানো হলো।” তিনি আরো বলেন, “আমি চাই না অন্যদের ফেরত পাঠিয়ে আমাকে আনা হোক।”
গত জুলাই থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ৯০০ জনকে এই নীতির আওতায় যুক্তরাজ্যে আনা হয়েছে। একই সংখ্যক মানুষকে অনিয়মিতভাবে আসার কারণে ফেরত পাঠানো হয়েছে। ফ্রান্সে আশ্রয়প্রার্থী পরিবারগুলোকে সহায়তা করা দাতব্য সংস্থা সেইফ প্যাসেজ এই নীতিকে “আসল সুরক্ষার পথ নয়” বলে সমালোচনা করেছে।
আশ্রয়প্রার্থী জানিয়েছেন, তার যাত্রা ছিল নিরাপদ ও দ্রুত প্যারিস থেকে বিমানে যুক্তরাজ্যে আসা। তবে তিনি এখন অনিশ্চয়তায় আছেন, কারণ মূল সাক্ষাৎকারের জন্য অপেক্ষা করতে হচ্ছে। তিনি বলেন, “আমরা কাজ করতে পারি না, পড়াশোনাও করতে পারি না। শুধু অপেক্ষা করতে হয়। এতে আমাদের অলস করে দেওয়া হচ্ছে”।
তিনি জানান, অনলাইনে আবেদন করার পর প্যারিসে বায়োমেট্রিক ও পাসপোর্ট জমা দিতে হয়। বিকেলে জানানো হয় কারা অনুমোদন পেয়েছেন। অনুমোদিতদের বিমানযোগে যুক্তরাজ্যে আনা হয়। সেখানে হোম অফিসের ভবনে সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়। আশ্রয়প্রার্থী বলেন, কর্মকর্তারা খুবই ভদ্র ও বন্ধুত্বপূর্ণ ছিলেন।
সেইফ প্যাসেজের ক্যাম্পেইন প্রধান গুনেস কালকান বলেন, নিরাপদ পথ তৈরি করা প্রশংসনীয় হলেও দীর্ঘ সময় ধরে আবেদন প্রক্রিয়া চলায় এটি প্রকৃত সুরক্ষার পথ হয়ে উঠছে না। ফরাসি জাতীয় পরিষদের এক অনুসন্ধান কমিশন জানিয়েছে, এ পর্যন্ত আনা আশ্রয়প্রার্থীদের ৮৯ শতাংশই ২০ থেকে ৩৯ বছর বয়সী একক পুরুষ।
চ্যানেল পারাপার কমলেও নীতিটি কার্যকরভাবে প্রতিরোধ হিসেবে কাজ করছে না। চলতি বছরের প্রথম পাঁচ মাসে নৌকায় পারাপার গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এক-তৃতীয়াংশ কমেছে। তবে জুন মাসে এখনো দুই হাজারের বেশি মানুষ নৌকায় যুক্তরাজ্যে প্রবেশ করেছে।
হোম অফিস জানিয়েছে, যুক্তরাজ্যে আনা প্রত্যেককে কঠোর নিরাপত্তা ও পরিচয় যাচাইয়ের মধ্য দিয়ে যেতে হয়। যারা শর্ত পূরণ করতে পারে না, তাদের আনা হয় না। এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “আমরা অভিবাসন ব্যবস্থার অপব্যবহার কখনোই সহ্য করব না। বিদেশি কর্মীর ওপর নির্ভরতা কমাতে আমরা যোগ্যতার মান বাড়িয়েছি এবং অনেক পদকে তালিকা থেকে বাদ দিয়েছি।”
‘ওয়ান ইন, ওয়ান আউট’ নীতি নিয়ে যুক্তরাজ্যে বিতর্ক বাড়ছে। নিরাপদ পথে কিছু মানুষকে আনা হলেও একই সময়ে অন্যদের ফেরত পাঠানো ন্যায্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। আশ্রয়প্রার্থীদের অভিজ্ঞতা ও মানবাধিকার সংস্থার সমালোচনা দেখাচ্ছে, নীতিটি এখনো প্রকৃত সুরক্ষার পথ হয়ে উঠতে পারেনি।
logo-1-1740906910.png)