Logo
×

Follow Us

ইউরোপ

যুক্তরাজ্যে শিশুদের নাগরিকত্ব অধিকার নিয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ০৬ জুলাই ২০২৬, ১৭:২৮

যুক্তরাজ্যে শিশুদের নাগরিকত্ব অধিকার নিয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি

যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট সম্প্রতি জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ রায় দিয়েছে। এই রায় যুক্তরাজ্যের প্রেক্ষাপটে নতুন আলো ফেলেছে। কারণ যুক্তরাজ্যে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব ১৯৮৩ সালের ১ জানুয়ারি থেকে বাতিল করা হয়। এর পরিবর্তে ব্রিটিশ ন্যাশনালিটি অ্যাক্ট ১৯৮১ অনুযায়ী, যুক্তরাজ্যে জন্ম নেওয়া প্রতিটি শিশুর নাগরিকত্বের অধিকার রয়েছে, তবে তা সর্বোচ্চ ১০ বছরের মধ্যে নিবন্ধন করতে হয়, যদি তারা দেশটিতে বসবাস করে। দেশটির জনপ্রিয় সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান এ নিয়ে প্রকাশ করেছে বিশেষ প্রতিবেদন।

কিছু শিশু জন্ম থেকেই নাগরিকত্ব পায়, কিন্তু অনেকের ক্ষেত্রে তা আনুষ্ঠানিকভাবে নিবন্ধন করতে হয়। বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, অনেক প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ, যাদের বয়স এখন ৩০ বা ৪০; শৈশব থেকেই যুক্তরাজ্যে বসবাস করলেও নাগরিকত্ব পাননি। একইভাবে বহু শিশু এখনো নাগরিকত্ব নিবন্ধনের অপেক্ষায় রয়েছে।

সোলাঞ্জ ভ্যালডেজ-সাইমন্ডস, যিনি শিশুদের নাগরিকত্ব নিবন্ধন প্রকল্পে কাজ করছেন, বলেছেন- “শৈশব কাটিয়ে দেওয়া মানুষদের মধ্যে নাগরিকত্ব না পাওয়ার যে বঞ্চনা তৈরি হয়, তা অত্যন্ত কষ্টদায়ক। সরকার তাদের এখানে থাকার অধিকার নেই বলে আচরণ করছে। অথচ আইন অনুযায়ী তাদের নাগরিকত্বের অধিকার রয়েছে।” তিনি জোর দিয়ে বলেন, সরকারকে অবশ্যই জনসচেতনতা বাড়াতে হবে, যাতে অভিভাবকরা সময়মতো শিশুদের নাগরিকত্ব নিবন্ধন করেন।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সচেতনতার অভাবের কারণে অনেক পরিবার জানেই না যে তাদের সন্তানদের নাগরিকত্ব নিবন্ধন করতে হবে। ফলে শিশুরা বড় হয়ে নাগরিকত্বহীন অবস্থায় থেকে যায়। এটি শুধু সামাজিক বিচ্ছিন্নতা নয়, বরং তাদের শিক্ষা, চাকরি ও স্বাস্থ্যসেবার মতো মৌলিক অধিকার থেকেও বঞ্চিত করে।

যুক্তরাজ্যে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব বাতিলের সিদ্ধান্ত দীর্ঘ সংসদীয় বিতর্কের পর কার্যকর হয়েছিল। তবে আইনটি স্পষ্টভাবে বলছে, যুক্তরাজ্যে জন্ম নেওয়া শিশুদের নাগরিকত্বের অধিকার রয়েছে, শুধু তা নিবন্ধনের মাধ্যমে নিশ্চিত করতে হবে।

Logo