লিবিয়া হয়ে ইউরোপে যাওয়ার পথে মানব পাচারের ভয়ংকর চিত্র আবারো সামনে এসেছে। সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ও মানবাধিকার সংস্থার প্রতিবেদনে দেখা যাচ্ছে, বাংলাদেশসহ আফ্রিকা ও এশিয়ার অভিবাসীরা লিবিয়ার ট্রানজিট ক্যাম্পে আটক হয়ে মুক্তিপণ দাবি, নির্যাতন এবং জোরপূর্বক শ্রমে বিক্রয়ের শিকার হচ্ছেন।
জাতিসংঘ মানবাধিকার কমিশনের ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, লিবিয়ার সীমান্তবর্তী এলাকায় পাচারকারীরা অভিবাসীদের আটক করে পরিবারের কাছে মুক্তিপণ দাবি করছে। অনেক ক্ষেত্রে মোবাইল ফোনে নির্যাতনের ভিডিও বা অডিও পাঠিয়ে পরিবারকে ভয় দেখানো হয়। দ্যা ডেইলি স্টারের এপ্রিল ২০২৬-এর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, সুনামগঞ্জের এক যুবককে আটক করে তার পরিবারের কাছে প্রায় ১০ লাখ টাকা দাবি করা হয়েছিল। টাকা পাঠানোর পরও তাকে আরো কয়েক মাস বন্দি রাখা হয়।
বিবিসি ও আল জাজিরার সাম্প্রতিক রিপোর্টে বলা হয়েছে, আটক অভিবাসীদের অনেককে স্থানীয় ব্যবসায়ী বা কৃষি খামারে জোরপূর্বক শ্রমে বিক্রি করে দেওয়া হয়। প্রত্যাগতরা জানিয়েছেন, তাদের প্রতিদিন ১২ ঘণ্টার বেশি কাজ করতে বাধ্য করা হয়, কিন্তু কোনো পারিশ্রমিক দেওয়া হয় না। নারীদের ক্ষেত্রে যৌন সহিংসতার ঘটনাও ঘটছে।
আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (IOM) জানিয়েছে, ২০২৫ সালে ইউরোপে পৌঁছানো অভিবাসীদের মধ্যে বাংলাদেশির সংখ্যা ছিল সর্বাধিক ২০ হাজারের বেশি। ২০২৬ সালের প্রথম কয়েক মাসেও বাংলাদেশ শীর্ষে রয়েছে। অথচ এদের অনেকেই লিবিয়ার ক্যাম্পে আটক হয়ে অমানবিক পরিস্থিতির শিকার হয়েছেন।
জাতিসংঘের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, লিবিয়ার রাজনৈতিক অস্থিরতা ও নিরাপত্তাহীনতার কারণে পাচারকারীরা একটি “ডিটেনশন ইকোনমি” তৈরি করেছে। এতে অভিবাসীদের দুর্বলতা ও দারিদ্র্যকে কাজে লাগিয়ে তাদের শোষণ করা হচ্ছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলছে, এই পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার নৈতিক ভিত্তিকে চ্যালেঞ্জ করছে।
বাংলাদেশের অভিবাসন আইন ২০১৩ এবং মানব পাচার প্রতিরোধ আইন ২০১২ অনুযায়ী, বিদেশে কর্মসংস্থানের নামে প্রতারণা, আটক, মুক্তিপণ দাবি বা জোরপূর্বক শ্রমে বিক্রি করা গুরুতর অপরাধ। এসব অপরাধে সর্বোচ্চ আজীবন কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে। প্রত্যাগতদের সাক্ষ্য, রেকর্ডেড কল বা মুক্তিপণের রশিদ আদালতে প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে।
logo-1-1740906910.png)