বিশ্বকাপের মঞ্চে আইভরি কোস্টের ঐতিহাসিক জয়ে নায়ক হয়ে উঠেছেন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের উইঙ্গার আমাদ দিয়ালো। ইকুয়েডরের বিপক্ষে গ্রুপ ‘ই’-এর প্রথম ম্যাচে শেষ মুহূর্তে তার করা গোলেই আফ্রিকার দলটি পূর্ণ ৩ পয়েন্ট অর্জন করে। তবে এই জয়ের আড়ালে লুকিয়ে আছে দিয়ালোর বেদনাবিধুর মানব পাচারের ইতিহাস এবং অজানা শৈশবের সংগ্রাম।
মাত্র ১২ বছর বয়সে ২০১৫ সালে দিয়ালো মানব পাচার চক্রের মাধ্যমে আইভরি কোস্ট থেকে ইতালিতে পৌঁছান। ভূমধ্যসাগর পেরিয়ে ইউরোপে আনার সময় তার জন্য জাল কাগজপত্র ব্যবহার করা হয়। ইউরোপে পৌঁছে তাকে ভুয়া পরিচয়ে বিভিন্ন পরিবারের কাছে রাখা হয়। এমনকি তার কাগজপত্রে এমন একজনের সন্তান হিসেবে নাম দেওয়া হয়েছিল, যাদের তিনি চিনতেনও না। একইভাবে আরেক ফুটবলার হামেদ জুনিয়র ত্রাওরেকে তার ভাই হিসেবে দেখানো হয়েছিল, যা পরে সম্পূর্ণ মিথ্যা প্রমাণিত হয়।
২০২০ সালে এই মানব পাচার চক্রের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ইতালিতে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। কিন্তু দিয়ালো কখনোই নিজের জন্মদাতা বাবা-মায়ের পরিচয় জানতে পারেননি। এই অজানা শূন্যতা নিয়েই তিনি বড় হয়েছেন এবং ফুটবল ক্যারিয়ার গড়ে তুলেছেন।
কঠিন অতীতকে পাশে রেখে দিয়ালো নিজের প্রতিভা ও পরিশ্রম দিয়ে ফুটবলে জায়গা করে নেন। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে খেলার সুযোগ পান এবং জাতীয় দলের জার্সিতে হয়ে ওঠেন আইভরি কোস্টের অন্যতম ভরসা। বিশ্বকাপের মঞ্চে ইকুয়েডরের বিপক্ষে তার শেষ মুহূর্তের গোলেই ১-০ ব্যবধানে জয় পায় আইভরি কোস্ট। এই জয় শুধু দলের আত্মবিশ্বাস বাড়ায়নি, দিয়ালোকে বানিয়েছে ম্যাচের অবিস্মরণীয় নায়ক।
দিয়ালোর গল্প প্রমাণ করে, মানব পাচারের শিকার হয়েও কেউ নিজের স্বপ্ন পূরণে লড়াই চালিয়ে যেতে পারে। তবে একই সঙ্গে এটি মানব পাচারের ভয়াবহতা ও শিশুদের জীবনে এর দীর্ঘস্থায়ী প্রভাবের দিকেও দৃষ্টি আকর্ষণ করে। আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো বলছে, আফ্রিকা থেকে ইউরোপে মানব পাচারের প্রবণতা এখনো উদ্বেগজনক।
logo-1-1740906910.png)