Logo
×

Follow Us

ইউরোপ

ইইউর অভিবাসন ও আশ্রয় চুক্তি: কঠোর নিয়ন্ত্রণের নতুন যুগ

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৬, ১৯:৩৩

ইইউর অভিবাসন ও আশ্রয় চুক্তি: কঠোর নিয়ন্ত্রণের নতুন যুগ

ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) অভিবাসন ও আশ্রয় সংক্রান্ত নতুন চুক্তি আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হয়েছে। কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় সংস্কার হিসেবে বিবেচিত এই চুক্তির লক্ষ্য হলো অভিবাসীদের প্রবাহ নিয়ন্ত্রণে আনা এবং আশ্রয় প্রক্রিয়াকে আরো কঠোর করা।

অবৈধ অভিবাসন দীর্ঘদিন ধরে ইউরোপের জন্য একটি বড় সমস্যা। দারিদ্র্য ও সহিংসতা থেকে বাঁচতে লক্ষ লক্ষ মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ইউরোপে প্রবেশের চেষ্টা করে। এর ফলে অর্থনীতি, সমাজ, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং নিরাপত্তা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নতুন চুক্তি এই সংকট মোকাবিলায় একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

চুক্তির আওতায় ইইউ সীমান্তে অভিন্ন স্ক্রিনিং ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। আশ্রয়ের আবেদন প্রত্যাখ্যাত হলে অভিবাসীদের জোটের বাইরের দেশে স্থাপিত “প্রত্যাবাসন কেন্দ্র”-এ পাঠানো হবে। নথিপত্রহীন অভিবাসীদের সর্বোচ্চ আটকাদেশের মেয়াদ বর্তমান ছয় মাস থেকে বাড়িয়ে ২৪ মাস করা হয়েছে। জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচিত হলে এই সময়সীমা আরো বাড়ানো যেতে পারে।

যারা নিয়ম মানতে অস্বীকার করবেন, তাদের বিরুদ্ধে সামাজিক সুবিধা কর্তন, নথি বাজেয়াপ্তকরণ বা আটক করার মতো কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এভাবে ইইউ আশ্রয় ব্যবস্থার সবচেয়ে বড় ফাঁক প্রত্যাখ্যাত অভিবাসীদের দেশ ছাড়তে অস্বীকৃতি দূর করার চেষ্টা করছে।

পরিসংখ্যান বলছে, বর্তমানে ইইউ ছাড়তে বলা ব্যক্তিদের মধ্যে মাত্র ৩০ শতাংশ প্রকৃতপক্ষে নিজ দেশে ফিরে যান। বাকিরা কর্তৃপক্ষকে এড়িয়ে অন্য দেশে চলে যান বা অবৈধভাবে থেকে যান। নতুন চুক্তি এই প্রবণতা ঠেকাতে কঠোর পদক্ষেপের ওপর জোর দিয়েছে।

তবে ফ্রান্স ও স্পেনের মতো কিছু সদস্য রাষ্ট্র প্রত্যাবাসন কেন্দ্রের কার্যকারিতা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছে। অতীতে অনুরূপ উদ্যোগ প্রত্যাশিত ফল দেয়নি। মানবাধিকার সংস্থাগুলোও উদ্বেগ জানিয়েছে, এতে অভিবাসীদের মৌলিক অধিকার ক্ষুণ্ণ হতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শরণার্থীদের জন্য ব্যয় সামাজিক কল্যাণ তহবিল ও জাতীয় বাজেটের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। এর ফলে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে বিভেদ বাড়ছে এবং উগ্র ডানপন্থি দলগুলোর উত্থান ঘটছে। নিরাপত্তার দিক থেকেও ঝুঁকি বাড়ছে, কারণ চরমপন্থি শক্তিগুলো শরণার্থী স্রোতে অনুপ্রবেশ করে সন্ত্রাসী কার্যকলাপ চালাতে পারে।

ইইউ কমিশন বলছে, এই চুক্তি কেবল শুরু। অভিবাসন সংকটের মূল কারণ সংঘাত ও দারিদ্র্য সমাধান না হলে এককভাবে ইউরোপ এই সমস্যার মোকাবিলা করতে পারবে না।

Logo