Logo
×

Follow Us

ইউরোপ

পর্তুগালে কঠোর অভিবাসন আইন, অনিশ্চয়তায় প্রবাসীরা

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২৬, ০৯:০১

পর্তুগালে কঠোর অভিবাসন আইন, অনিশ্চয়তায় প্রবাসীরা

কিছুদিন আগেও পর্তুগালকে বলা হতো ইউরোপ অভিবাসীদের বৈধতার স্বর্গরাজ্য। বৈধভাবে প্রবেশ করলে ছয় মাসেই রেসিডেন্ট পারমিট পাওয়া যেত, আর অবৈধভাবে ঢুকলেও কাজের চুক্তি দেখিয়ে এক বছরের মধ্যে বৈধতা পাওয়া সম্ভব ছিল। কিন্তু এখন পরিস্থিতি সম্পূর্ণ বদলে গেছে।

ডানপন্থি সরকার ক্ষমতায় আসার পর একের পর এক কঠোর অভিবাসন আইন চালু করেছে। ২০২৫ সালে সরকার ঘোষণা দেয়, অনুমোদনহীনভাবে বসবাসরত প্রায় ১৮ হাজার বিদেশিকে ফেরত পাঠানো হবে। এর মধ্যে প্রায় ৪ হাজার ৫০০ জনকে স্বেচ্ছায় দেশ ছাড়ার নোটিস দেওয়া হয়, বাকিদের বিরুদ্ধে বহিষ্কারের প্রক্রিয়া শুরু হয়। একই সময়ে প্রায় ৪ লাখ পেন্ডিং অভিবাসন আবেদন পর্যালোচনার উদ্যোগ নেওয়া হয়।

আগে পাঁচ বছর বৈধভাবে বসবাসের পর নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করা যেত। নতুন প্রস্তাবে সেই সময়সীমা বাড়িয়ে ১০ বছর করা হয়েছে। আবেদন জমা দেওয়ার পর অনুমোদনের জন্য অপেক্ষার সময়কে বৈধ বসবাস হিসেবে গণ্য করার দাবি প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। পরিবার পুনর্মিলন ভিসাতেও সীমাবদ্ধতা আনা হয়েছে।

সরকার জানিয়েছে, ভবিষ্যতে কর্মসংস্থানভিত্তিক ভিসা মূলত উচ্চশিক্ষিত ও দক্ষ কর্মীদের জন্য সীমিত করা হবে। ভাষাজ্ঞানকেও মূল্যায়নের অংশ হিসেবে রাখা হবে। প্রধানমন্ত্রী লুইস মন্টিনেগ্রোর সরকার বলছে, নিম্ন দক্ষতার শ্রম অভিবাসনের পরিবর্তে উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন কর্মীদের আকৃষ্ট করাই তাদের অগ্রাধিকার।

২০২৬ সালে সংসদে নতুন আইন পাস হয়েছে, যেখানে বলা হয়েছে নাগরিকত্ব অর্জনের সময় ভুল তথ্য দিলে, প্রতারণা করলে বা গুরুতর অপরাধে জড়িত থাকলে নাগরিকত্ব বাতিল করা যাবে। সরকার বলছে, এটি জাতীয় নিরাপত্তা ও আইনের শাসন নিশ্চিত করার জন্য। তবে মানবাধিকার সংগঠনগুলো আশঙ্কা করছে, আইনটির অপব্যবহার হলে অভিবাসীদের প্রতি বৈষম্য বাড়তে পারে।

দীর্ঘদিন ধরে পর্তুগালে বসবাসরত অভিবাসীরা মনে করছেন, কর্মসংস্থান ও জনশক্তির ঘাটতিতে ভোগা দেশের জন্য এসব সিদ্ধান্ত আত্মঘাতী হতে পারে। নতুন আইন ও নীতির কারণে অনেক অভিবাসী নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন। বিশেষ করে নতুন নাগরিকত্ব পাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে অনিশ্চয়তা আরো বেশি।

Logo