গ্রিসের ক্রিট দ্বীপে লিবিয়া থেকে ছোট নৌকায় করে আসা ২৪২ জন অভিবাসীকে উদ্ধার করেছে দেশটির কোস্টগার্ড। বৃহস্পতিবার বিকেল পর্যন্ত পাঁচটি পৃথক অভিযানে ছয়টি নৌকা থেকে তাদের উদ্ধার করা হয়। ক্রিটের দক্ষিণে সাগরে এই অভিযান পরিচালিত হয়।
হেলেনিক কোস্টগার্ড জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া অভিবাসীদের মধ্যে ৬৫ জনকে আগিয়া গালিনি বন্দরে, ১৩৯ জনকে কালোই লিমেনেসে এবং ৩৮ জনকে পালাইওখোরায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে এসব অভিযান চালানো হয়।
সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ক্রিটের দক্ষিণে অবস্থিত ছোট দ্বীপ গাভদোস এবং দক্ষিণ ক্রিটে লিবিয়া থেকে আসা অভিবাসীদের সংখ্যা মে মাসে আগের মাসের তুলনায় ৫০ শতাংশ বেড়েছে। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত সময়ে আগত অভিবাসীর সংখ্যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২৩ শতাংশ বেশি।
গ্রিস সরকার জানিয়েছে, পূর্ব লিবিয়ার তব্রুক উপকূল থেকে ক্রিটে অভিবাসীদের প্রবাহ ঠেকাতে তিনটি টহল জাহাজ লিবিয়ার কোস্টগার্ডকে দেওয়া হবে। অভিবাসনমন্ত্রী থানোস প্লেভরিস বলেছেন, ক্রিটে অভিবাসীদের আগমন বাড়তে থাকায় সরকার আরো কঠোর ব্যবস্থা নেবে।
অভিবাসীদের ক্রমবর্ধমান আগমন নিয়ে শুক্রবার ক্রিটের বিভিন্ন পৌরসভার মেয়ররা বৈঠকে বসার পরিকল্পনা করেছেন। রেথিমনোর মেয়র গিওর্গিওস মারিনাকিস জানিয়েছেন, ২০২৬ সালের প্রথম পাঁচ মাসেই ক্রিটে আগত অভিবাসীর সংখ্যা ২০২৫ সালের প্রথম ছয় মাসের মোট সংখ্যাকে ছাড়িয়ে গেছে।
অভিবাসন ও আশ্রয় মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবিত আইনে বলা হয়েছে, নতুন আগতদের সাত দিনের মধ্যে যাচাই-বাছাই করা হবে। তারা আশ্রয়ের যোগ্য কিনা অথবা বহিষ্কার করা হবে কিনা, সে বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এতে ধারণা করা হচ্ছে, ক্রিটে বড় কোনো অভিবাসী গ্রহণকেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনা থেকে সরকার সরে আসছে।
৩ জুন ক্রিটে আরো ২০০ জনের বেশি অভিবাসী পৌঁছেছেন। দক্ষিণ ক্রিটের কাটার্তি ও সালামিয়া উপকূলে ১৮২ জন নারী, পুরুষ ও শিশুকে পাওয়া যায়। তাদের অধিকাংশই বাংলাদেশ, পাকিস্তান, ইথিওপিয়া ও মিশরের নাগরিক। একই দিনে আরো ৩৮ জন অভিবাসী আগিয়া গালিনি গ্রামে পৌঁছেছেন।
গ্রিস সরকার জানিয়েছে, ক্রিটে নির্মাণাধীন দুটি নতুন অভিবাসী শিবিরকে আটককেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা হবে। ইরাক্লিও ও হানিয়া এলাকায় এসব কেন্দ্র তৈরি হচ্ছে। অভিবাসনমন্ত্রী প্লেভরিস বলেছেন, যারা অনিয়মিতভাবে দেশে প্রবেশ করেছেন, তারা আটক অবস্থায় থাকবেন, যতক্ষণ না নির্ধারণ করা হচ্ছে তারা শরণার্থী নাকি অর্থনৈতিক অভিবাসী।
logo-1-1740906910.png)