দীর্ঘদিন ধরে সুইজারল্যান্ডকে মূলধন সংরক্ষণের নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে দেখা হতো। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, শৃঙ্খলাপূর্ণ শাসনব্যবস্থা ও আর্থিক নিরাপত্তার কারণে বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার সময়ে বিনিয়োগকারীরা সেখানে ছুটে যেতেন। তবে বর্তমানে ইউরোপে নতুন এক নিরাপদ বিনিয়োগের কেন্দ্র হিসেবে উঠে আসছে পর্তুগাল।
দেশটির জনপ্রিয় সংবাদমাধ্যম দ্য পর্তুগাল নিউজ বলছে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র পর্তুগালে অন্যতম বৃহৎ বিদেশি বিনিয়োগকারী হয়ে উঠেছে। চীন ও যুক্তরাজ্যকে ছাড়িয়ে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিলিয়ন ইউরো প্রবাহিত হচ্ছে অবকাঠামো, জ্বালানি, প্রযুক্তি, পর্যটন ও বেসরকারি বিনিয়োগ খাতে। এটি কোনো আকস্মিক প্রবাহ নয়, বরং কৌশলগত পুনর্বিন্যাস।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য হওয়ায় পর্তুগাল রাজনৈতিকভাবে স্থিতিশীল। দেশটির বৈশ্বিক সংযোগ, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং জীবনযাত্রার মান ইউরোপে অন্যতম আকর্ষণীয়। একই সময়ে বৈশ্বিক বিনিয়োগকারীরা যুক্তরাষ্ট্রের ঋণ সংকট, ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা ও বাজারের অস্থিরতা থেকে বেরিয়ে আসতে চাইছেন। ফলে পর্তুগাল হয়ে উঠছে নতুন আলোচনার কেন্দ্র।
সুইজারল্যান্ডের মতো ঐতিহ্যবাহী নিরাপদ আশ্রয়স্থল মূলত মূলধন সংরক্ষণে সীমাবদ্ধ ছিল। সেখানে প্রবৃদ্ধি কম হলেও স্থিতিশীলতা ছিল বেশি। কিন্তু পর্তুগাল ভিন্ন ধারা তৈরি করছে। এখানে স্থিতিশীলতার পাশাপাশি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ঘটছে।
পর্তুগালের পর্যটন খাত দ্রুত পুনরুদ্ধার হচ্ছে। সংস্কৃতি, খাবার, ওয়াইন, স্বাস্থ্যসেবা ও জীবনধারার অভিজ্ঞতা নিতে আন্তর্জাতিক পর্যটকরা ভিড় করছেন। এর ফলে আতিথেয়তা ও পর্যটন-সম্পর্কিত ব্যবসায় প্রবৃদ্ধি ঘটছে। বিনিয়োগকারীরা এখন বুঝতে পারছেন, অভিজ্ঞতাভিত্তিক খাতগুলো দীর্ঘমেয়াদে সবচেয়ে শক্তিশালী সুযোগ তৈরি করতে পারে।
অনেক বিনিয়োগকারী এখনো কেবল রিয়েল এস্টেট বা উন্নয়ন প্রকল্পে মনোযোগ দিচ্ছেন। অথচ প্রকৃত সুযোগ তৈরি হচ্ছে এমন ব্যবসায়, যেগুলো সরাসরি গ্রাহক, রাজস্ব ও নগদ প্রবাহের সঙ্গে যুক্ত। আধুনিক নিরাপদ আশ্রয়ের সংজ্ঞা বদলে যাচ্ছে। এখন শুধু মূলধন রক্ষা নয়, বরং স্থিতিশীল ও টেকসই প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করাই মূল লক্ষ্য।
logo-1-1740906910.png)