ইউরোপীয় ইউনিয়ন অভিবাসন ও আশ্রয় নীতিতে নতুন করে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ বাড়ানো, দ্রুত বহিষ্কার, দীর্ঘ সময় আটক রাখা এবং আশ্রয় দাবিগুলো আরো কঠোরভাবে যাচাই করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইইউ। বিশেষ করে ধনী দেশগুলো এখন “নিরাপদ দেশ” থেকে আসা আবেদনকারীদের দাবিকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।
ইইউ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অভিবাসন প্রবাহ নিয়ন্ত্রণে সীমান্তে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আশ্রয় দাবির ক্ষেত্রে আবেদনকারীর দেশকে নিরাপদ হিসেবে বিবেচনা করা হলে তাদের আবেদন দ্রুত বাতিল হতে পারে। এর ফলে যুদ্ধবিধ্বস্ত অঞ্চল থেকে পালিয়ে আসা মানুষদের জন্য আশ্রয় পাওয়া আরো কঠিন হয়ে যাবে।
ইইউর বিভিন্ন দেশে অভিবাসন ইস্যু রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল হয়ে উঠেছে। ভোটারদের চাপের কারণে সরকারগুলো কঠোর অবস্থান নিতে বাধ্য হচ্ছে। অনেক দেশ মনে করছে, নিরাপদ দেশ থেকে আসা আবেদনকারীরা প্রকৃত শরণার্থী নন, বরং অর্থনৈতিক কারণে অভিবাসন করছেন।
মানবাধিকার সংগঠনগুলো আশঙ্কা প্রকাশ করেছে, এই নীতি শরণার্থীদের অধিকার ক্ষুণ্ণ করতে পারে। দীর্ঘ সময় আটক রাখা এবং দ্রুত বহিষ্কার মানবিক সংকটকে আরো বাড়িয়ে তুলতে পারে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ইউরোপ এখন কিছুটা যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসনের মতো কৌশল গ্রহণ করছে। অর্থাৎ সীমান্তে শক্ত নিয়ন্ত্রণ, আশ্রয় দাবিকে সীমিত করা এবং অভিবাসন ঠেকাতে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া।
এই নীতির ফলে ইউরোপে অভিবাসীদের প্রবেশ আরো কঠিন হবে। রেমিট্যান্স ও শ্রমবাজারে প্রভাব পড়তে পারে। একই সঙ্গে রাজনৈতিকভাবে অভিবাসন ইস্যু আরো বিতর্কিত হয়ে উঠবে। ধনী দেশগুলো নিরাপদ দেশ থেকে আসা আবেদনকারীদের দাবিকে প্রশ্নবিদ্ধ করায় অভিবাসন প্রক্রিয়া আরো জটিল হয়ে উঠবে।
logo-1-1740906910.png)