Logo
×

Follow Us

ইউরোপ

ঢাকায় দূতাবাস দাবি গ্রিস প্রবাসীদের

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ০২ জুন ২০২৬, ১০:৪৯

ঢাকায় দূতাবাস দাবি গ্রিস প্রবাসীদের

ইউরোপের দেশ গ্রিসে প্রবাসী বাংলাদেশিদের বড় অংশ কাজ করেন গার্মেন্টস, রেস্টুরেন্ট ও কৃষি খাতে। জীবিকার তাগিদে পরিবার থেকে দূরে বছরের পর বছর কাটাচ্ছেন তারা। ঈদ কিংবা উৎসবের সময়ও তাদের জীবনে আনন্দ নেই। শহিদুল ইসলাম নামের এক প্রবাসী বলেন, “পরিবার ছাড়া এখানে কোনো কাজেই মন বসছে না। কাগজপত্রের জটিলতার কারণে দেশে যেতেও পারছি না।”

শহিদুলের মতো হাজারো প্রবাসীর একই কষ্ট, পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন জীবন। ইউরোপের অনেক দেশে পরিবার আনার প্রক্রিয়া সহজ হলেও গ্রিসে পারিবারিক ভিসা যেন এক বড় চ্যালেঞ্জ। বাংলাদেশে গ্রিসের কোনো দূতাবাস না থাকায় ভিসা সংক্রান্ত সব কাজ করতে হয় ভারতের গ্রিক দূতাবাসে গিয়ে। আর সেখানেই শুরু হয় নতুন ভোগান্তি।

গ্রিস প্রবাসীরা অভিযোগ করেছেন, ভারতের গ্রিক দূতাবাসকে ঘিরে একটি দালালচক্র সক্রিয় রয়েছে। নির্দিষ্ট দালাল ছাড়া আবেদন এগোয় না। অ্যাপয়েন্টমেন্ট পাওয়া থেকে শুরু করে নথি সত্যায়ন; সবকিছুতেই অঘোষিত বাধা। ফলে অনেককে লাখ লাখ টাকা খরচ করেও খালি হাতে ফিরতে হয়।

অনেক প্রবাসী ২০ থেকে ২৫ বছর ধরে গ্রিসে বৈধভাবে বসবাস করছেন, এমনকি স্থায়ী রেসিডেন্সও পেয়েছেন। তারপরও স্ত্রী-সন্তানদের কাছে নিতে পারছেন না। রফিকুল ইসলাম জানান, মাসে দুই থেকে আড়াই লাখ টাকা আয় করলেও পরিবার ছাড়া তার জীবনে আনন্দ নেই। আবদুল মালেক বলেন, বহুবার চেষ্টা করেও স্ত্রী-সন্তানদের ভিসা হয়নি। দুই মাস ভারতে অবস্থান করেও কোনো অগ্রগতি হয়নি।

বাংলাদেশ কমিউনিটি ইন গ্রিসের সাধারণ সম্পাদক এইচ এম জাহিদ ইসলাম বলেন, “ঢাকায় গ্রিসের স্থায়ী দূতাবাস চালুর দাবিতে আমরা দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করছি। গণস্বাক্ষর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে স্মারকলিপি দেওয়ার প্রস্তুতিও চলছে।”

বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, প্রথমে সব নথি সত্যায়ন করে ঢাকার ভিএফএস অফিসে জমা দিতে হয়। এরপর সেই ফাইল পাঠানো হয় ভারতের নয়াদিল্লিতে অবস্থিত গ্রিক দূতাবাসে। সেখান থেকে গ্রিসের অভিবাসন মন্ত্রণালয়ের যাচাই-বাছাই শেষে সিদ্ধান্ত আসে। এই ত্রিমুখী প্রক্রিয়ায় দীর্ঘ সময় লাগে এবং দালাল সিন্ডিকেট সক্রিয় থাকে।

বর্তমানে প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ হাজার বাংলাদেশি গ্রিসে বসবাস করছেন। বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠিয়ে দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখছেন তারা। গ্রিসের আইন অনুযায়ী, বৈধ অভিবাসীরা পারিবারিক পুনর্মিলন ভিসায় স্ত্রী ও সন্তানদের নেওয়ার অধিকার রাখেন। কিন্তু বাস্তবে সেই প্রক্রিয়া অত্যন্ত জটিল। প্রবাসীরা আশা করছেন, বাংলাদেশে গ্রিসের দূতাবাস চালু করা এবং ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করার জন্য দ্রুত কূটনৈতিক উদ্যোগ নেওয়া হবে।

Logo