ইউরোপের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত জার্মানি তার উন্নত অবকাঠামোর কারণে পরিবহন খাতে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। দেশটির অর্থনীতির অন্যতম বড় স্তম্ভ হলো লজিস্টিকস। প্রতিদিন হাজার হাজার পরিবহন অনুরোধ পূরণ হয় এখানে। ফলে পণ্য ও যাত্রী পরিবহনে দক্ষ চালকের প্রয়োজনীয়তা দিন দিন বাড়ছে।
জার্মানিতে অধিকাংশ পণ্য পরিবহন হয় ভারী যানবাহন বা ট্রাকের মাধ্যমে। এরপর রেলপথ, সমুদ্রপথ ও অভ্যন্তরীণ নদীপথে পরিবহন হয়। এই বিশাল চাহিদা পূরণে দক্ষ চালকের ঘাটতি স্পষ্ট। ২০২৩ সালে দেশটিতে ৭০ হাজারের বেশি পেশাদার চালকের অভাব দেখা দেয়। ফলে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হচ্ছে প্রতি বছর।
শুধু পণ্য নয়, যাত্রী পরিবহনও জার্মানির অর্থনীতি ও সমাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। স্থানীয় গণপরিবহন ব্যবহারের হার এখন সর্বোচ্চ পর্যায়ে। বাস ও ট্রেন চালাতে দক্ষ জনবল প্রয়োজন। ২০২১ সালে প্রায় ৪ লাখ ৮০ হাজার মানুষ পেশাদার চালক হিসেবে কাজ করেছেন। ২০২৪ সালে ট্রেন চালকের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫৮ হাজারে।
যদি কেউ ইউরোপীয় ইউনিয়ন বা ইউরোপীয় অর্থনৈতিক অঞ্চলের ড্রাইভিং লাইসেন্সধারী হন, তবে জার্মানিতে সহজেই কাজ শুরু করা যায়। তবে অন্য দেশের লাইসেন্সধারীদের ক্ষেত্রে লাইসেন্স বদলানো বা নতুন করে পরীক্ষা দিতে হয়। কিছু দেশের জন্য প্রক্রিয়া সহজ করা হয়েছে।
পেশাদার চালকরা প্রতি পাঁচ বছরে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন, যা নিরাপত্তা বাড়ায়। বর্তমানে এই পেশায় কর্মরতদের ৩৯ শতাংশই বিদেশি নাগরিক। ফলে আন্তর্জাতিক কর্মীদের জন্যও সুযোগ রয়েছে।
রেলপথ জার্মানির টেকসই পরিবহন ব্যবস্থার অন্যতম স্তম্ভ। পণ্য ও যাত্রী পরিবহনে ট্রেন চালকের ভূমিকা অপরিহার্য। ডিজিটালাইজেশন ও অটোমেশনের কারণে এই পেশায় নতুন দক্ষতার প্রয়োজন হচ্ছে। ফলে প্রশিক্ষিত ট্রেন চালকের চাহিদা আগামী দিনে আরও বাড়বে।
যারা অভিজ্ঞ নন, তাদের জন্যও রয়েছে শিক্ষানবিশ হওয়ার সুযোগ। জার্মানিতে পেশাদার চালক বা ট্রেন চালক হওয়ার জন্য প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। শিক্ষানবিশরা বেতনসহ কাজ শিখতে পারেন।
logo-1-1740906910.png)