পর্তুগিজ পুলিশ রাজধানী লিসবনের বাইরে পরিচালিত ‘মিরাকুলাস ল্যান্ড’ নামে বিশেষ অভিযানে অনিয়মিত অভিবাসন সহযোগী একটি বড় চক্র ভেঙে দিয়েছে। সোমবারের অভিযানে চক্রটির দুই প্রধান হোতাকে আটক করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, তারা ভুয়া কাগজপত্র ও জালিয়াতির মাধ্যমে অন্তত চার হাজার অনিয়মিত অভিবাসীকে বৈধ করার চেষ্টা করছিল।
তদন্তে জানা গেছে, চক্রটি বন্ধ হয়ে যাওয়া বা দেউলিয়া কোম্পানির সামাজিক নিরাপত্তা তথ্য ও পরিচয়পত্র চুরি করে অভিবাসীদের নিয়মিত করার প্রলোভন দেখাত। এভাবে তারা লাখ লাখ ইউরো হাতিয়ে নেয়। পুলিশ বলছে, ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর থেকে এ বিষয়ে তদন্ত শুরু হয়। আটক দুইজনের একজন ব্যবসায়ী এবং অন্যজন আইনজীবী। তাদের একজন পর্তুগিজ নাগরিক, অন্যজন বিদেশি।
সরকার জানিয়েছে, আগের প্রশাসনের কিছু ফাঁকফোকর কাজে লাগিয়ে অনেক বিদেশি সহজেই শ্রমবাজারে প্রবেশ করেছিল। এ সুযোগে অনিয়মিত অভিবাসী ও অপরাধ চক্র সক্রিয় হয়ে ওঠে। তাই বর্তমান সরকার অভিবাসন আইন কঠোর করছে।
পর্তুগালে অভিবাসন সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ব্যাপক বেড়েছে। দেশটির অভিবাসন সংস্থা এআইএমএ জানিয়েছে, ২০২৫ সালে অনিয়মিতভাবে বসবাসরত অভিবাসীর সংখ্যা ছিল ১৫ লাখের বেশি, যা তিন বছর আগের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। নিয়মিত অভিবাসীদের মধ্যে ব্রাজিলিয়ানরা শীর্ষে, সাড়ে চার লাখেরও বেশি ব্রাজিলিয়ান বৈধভাবে বসবাস করছেন।
সরকার অভিবাসনপ্রত্যাশীদের নিরুৎসাহিত করতে নতুন বিল অনুমোদন করেছে। বিলটি কার্যকর হলে পারিবারিক পুনর্মিলনের শর্ত কঠোর হবে। একজন অভিবাসীকে অন্তত দুই বছর বৈধভাবে বসবাস করতে হবে পুনর্মিলনের আবেদন করার আগে। তবে যদি কেউ পর্তুগালে আসার আগে এক বছরের বেশি সময় ধরে দাম্পত্য সম্পর্কে থাকেন, তিনি এক বছর পর আবেদন করতে পারবেন। এছাড়া ১৮ বছরের কম বয়সী সন্তান বা বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সদস্য থাকলে যে কোনো সময় আবেদন করা যাবে।
নতুন নীতির ফলে পর্যটন ভিসা নিয়ে এসে বৈধতা অর্জনের সুযোগ বন্ধ হয়ে যাবে। চাকরি খোঁজার ভিসাও শুধু উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন কর্মীদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে। আগে এক বছরের বেশি কাজ করলে এবং সামাজিক নিরাপত্তায় অবদান রাখলে রেসিডেন্স পারমিট পাওয়া যেত, কিন্তু ২০২৪ সাল থেকে তা বন্ধ করা হয়েছে।
logo-1-1740906910.png)