নেদারল্যান্ডসের সিনেট ইউরোপীয় অভিবাসন চুক্তির জাতীয় বাস্তবায়ন অনুমোদন দিয়েছে। এর ফলে দেশটিতে আশ্রয়প্রার্থীদের জন্য কঠোরতম কয়েকটি নিয়ম কার্যকর হতে যাচ্ছে। নতুন কাঠামোর আওতায় আশ্রয়প্রার্থীরা আর স্থায়ী বসবাসের অনুমতি পাবেন না, বরং তিন বছরের জন্য অস্থায়ী অনুমতি দেওয়া হবে। মেয়াদ শেষে পুনরায় মূল্যায়ন করে অনুমতি নবায়ন করা হবে।
আগামী ১২ জুন থেকে এই নিয়ম কার্যকর হবে বলে আশা করা হচ্ছে। একই সময়ে ইইউর অন্যান্য সদস্য রাষ্ট্রও নতুন ব্যবস্থার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। পারিবারিক পুনর্মিলনের ক্ষেত্রেও কঠোর শর্ত আরোপ করা হচ্ছে। আগে পাঁচ বছর মেয়াদি অস্থায়ী অনুমতি দেওয়া হলেও এখন তা কমিয়ে তিন বছরে আনা হয়েছে।
ডাচ সরকার আশ্রয়প্রার্থীদের আপিলের সময়সীমা চার সপ্তাহ থেকে কমিয়ে দুই সপ্তাহ করেছে। একই সঙ্গে বাতিল করা হয়েছে “ইনটেনশন প্রসিডিউর” নামক নিয়ম, যার মাধ্যমে অভিবাসন কর্তৃপক্ষ আশ্রয় মামলার সম্ভাব্য সিদ্ধান্ত আগাম জানাতো। সমালোচকরা বলছেন, এতে বিচারপ্রক্রিয়ায় অপ্রয়োজনীয় বিধিনিষেধ তৈরি হবে এবং আশ্রয়প্রার্থীরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।
ডাচ বার অ্যাসোসিয়েশন ও বিভিন্ন আশ্রয় সংগঠন সরকারের এই পদক্ষেপের সমালোচনা করেছে। তাদের মতে, ইইউ অভিবাসন চুক্তির বাধ্যতামূলক বাস্তবায়নকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে নেদারল্যান্ডস আশ্রয় নিয়ম আরো কঠোর করছে। এনএল টাইমস জানিয়েছে, ইউরোপব্যাপী চুক্তির মধ্যে থাকা কঠোরতম বিকল্পগুলোকে জাতীয় আইনে সংযুক্ত করেছে ডাচ সরকার।
বিতর্কিত আশ্রয় গ্রহণ কেন্দ্র টের অ্যাপেলে ইতোমধ্যেই ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। দুই হাজার জনের ধারণক্ষমতা থাকলেও সেখানে ১০ শতাংশ বেশি মানুষ আশ্রয় পেয়েছেন। নতুন নিবন্ধন প্রকল্পের মাধ্যমে আগতদের গ্রোনিঙ্গেনের মাধ্যমে পরিচালনা করা হবে।
ডাচ সিনেটে প্রস্তাবিত আশ্রয় জরুরি ব্যবস্থা আইন পাস না হলেও তার নয়টি প্রস্তাবের মধ্যে ছয়টি ইতোমধ্যেই বাস্তবায়ন করা হয়েছে। বাকি তিনটির মধ্যে দুটি নিম্নকক্ষে আলোচনায় রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে দোষী সাব্যস্ত আশ্রয়প্রার্থীদের দ্রুত প্রত্যাবাসন এবং সিদ্ধান্তের সময়সীমা মিস করলে জরিমানা বাতিল।
আইএনডি জানিয়েছে, তারা ১২ জুন থেকে জমা দেওয়া নতুন আশ্রয় আবেদনগুলোকে অগ্রাধিকার দেবে। এর ফলে পুরোনো আবেদনকারীদের সিদ্ধান্ত জানতে আরো দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হবে। আনুমানিক ৫০ হাজার আশ্রয়প্রার্থী এই পরিবর্তনের প্রভাব ভোগ করতে পারেন।
এমন সময়ে এই পরিবর্তন আসছে যখন নেদারল্যান্ডসে অভিবাসীবিরোধী মনোভাব বাড়ছে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে আশ্রয়কেন্দ্রের বাইরে বিক্ষোভ, অগ্নিসংযোগ ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। লুসড্রেক্ট ও অ্যাপেলডর্নে স্থানীয়রা আশ্রয়প্রার্থীদের থাকার পরিকল্পনার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করেছে।
ইইউ প্রেক্ষাপটে দেখা যায়, এই চুক্তি বহির্সীমান্তে নতুন আগমনকারীদের দ্রুত স্ক্রিনিং এবং যাদের থাকার অধিকার নেই তাদের দ্রুত প্রত্যাবাসনের পথ তৈরি করবে। ইউরোপীয় কমিশন জানিয়েছে, জুনের সময়সীমা কেবল শুরু, শেষ নয়। জুলাই ও অক্টোবরে মূল্যায়ন করে দেখা হবে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে স্থানান্তর প্রক্রিয়ায় কোনো ত্রুটি তৈরি হচ্ছে কিনা।
logo-1-1740906910.png)