পর্তুগালের আলেন্তেজো অঞ্চলকে পর্যটকদের কাছে সবচেয়ে সস্তা গন্তব্য হিসেবে চিহ্নিত করেছে ইউনিভার্সিটি অব এভোরা পরিচালিত এক গবেষণা। আঞ্চলিক পর্যটন সংস্থা আলেন্তেজো ও রিবাতেজোর জন্য করা এই গবেষণায় দেখা গেছে, এখানে ভ্রমণকারীরা গড়ে দুই রাত অবস্থান করেন এবং প্রতিদিন মাথাপিছু প্রায় ১৩৩ ইউরো খরচ করেন।
গবেষণায় বলা হয়েছে, আলেন্তেজোতে আসা দুই-তৃতীয়াংশ পর্যটকই পর্তুগিজ নাগরিক। তাদের বেশির ভাগই গ্রেটার লিসবন অঞ্চল থেকে আসেন। বিদেশি পর্যটকদের মধ্যে ইউরোপীয়রা সংখ্যায় বেশি, এরপর রয়েছে আমেরিকা মহাদেশের পর্যটকরা।
২০২৪ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৫ সালের এপ্রিল পর্যন্ত শীত মৌসুমে ৮০০ জন এবং আগস্ট থেকে অক্টোবর পর্যন্ত গ্রীষ্ম মৌসুমে ১,২০০ জন পর্যটকের ওপর জরিপ চালানো হয়। মোট ২ হাজার জনের এই জরিপে ৬৮ শতাংশ ছিলেন পর্তুগিজ এবং ৩২ শতাংশ বিদেশি।
গবেষণায় দেখা গেছে, পর্যটকদের প্রোফাইল বেশ ভারসাম্যপূর্ণ। নারী-পুরুষের সংখ্যা প্রায় সমান, অধিকাংশই বিবাহিত বা সিভিল ইউনিয়নে আবদ্ধ, বিশ্ববিদ্যালয় ডিগ্রিধারী এবং চাকরিজীবী। তাদের মাসিক আয় সাধারণত ২,০০১ থেকে ৪,০০০ ইউরোর মধ্যে।
শীত মৌসুমে ৩০ শতাংশ পর্যটক দুই রাত থাকার পরিকল্পনা করেন, তবে গ্রীষ্ম মৌসুমে প্রায় ২৮ শতাংশ পর্যটক রাতযাপন না করেই ভ্রমণ শেষ করেন। বেশির ভাগ পর্যটক দম্পতি বা পরিবার নিয়ে আসেন এবং অনেকেই প্রথমবারের মতো আলেন্তেজো ভ্রমণ করেন। প্রথমবার আসা পর্যটকদের অধিকাংশই আবার ফিরে আসার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।
পর্যটকদের প্রধান আকর্ষণ হলো প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, নিরাপত্তা এবং স্থানীয় আতিথেয়তা। শীত মৌসুমে গ্যাস্ট্রোনমি বা খাবার বেশি জনপ্রিয়, আর গ্রীষ্মে সমুদ্রসৈকত। এছাড়া ঐতিহাসিক স্থাপনা ও প্রকৃতি পর্যটকদের কাছে সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হিসেবে ধরা পড়েছে।
গবেষণায় আরো বলা হয়েছে, পর্যটকরা সাধারণত ব্যক্তিগত গাড়িতে ভ্রমণ করতে পছন্দ করেন। তাদের ভ্রমণ পরিকল্পনা গড়ে ওঠে অনলাইন অনুসন্ধান বা পরিচিতদের সুপারিশের ভিত্তিতে।
logo-1-1740906910.png)