রোমে আন্তঃধর্মীয় আলোচনায় অংশগ্রহণকারীদের সঙ্গে বৈঠকে খ্রিস্টান ও মুসলিমদের একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন পোপ লিও। তিনি বলেন, “যেখানে মানবতা শীতল হয়ে গেছে, সেখানে তা পুনরুজ্জীবিত করতে হবে এবং উদাসীনতাকে রূপান্তরিত করতে হবে সংহতিতে।”
জর্ডানের রয়্যাল ইনস্টিটিউট ফর ইন্টার-ফেইথ স্টাডিজ এবং ভ্যাটিকানের ডিকাস্টারি ফর ইন্টাররিলিজিয়াস ডায়ালগের সদস্যরা এই বৈঠকে অংশ নেন। আলোচনার বিষয় ছিল “আধুনিক সময়ে মানবিক সহানুভূতি ও করুণা।”
পোপ বলেন, করুণা ও সহানুভূতি খ্রিস্টান ও ইসলাম উভয় ধর্মেই মৌলিক মনোভাব। ইসলামে করুণা (রা’ফা) আল্লাহর পক্ষ থেকে বিশ্বাসীদের হৃদয়ে দান করা হয়। আল-রউফ (‘সর্বদয় করুণাময়’) নামটি আল্লাহর ৯৯ নামের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় বোঝা যায় করুণার উৎস আল্লাহ নিজেই।
খ্রিস্টান ধর্মে করুণা দৃশ্যমান ও স্পর্শযোগ্য হয়ে ওঠে যিশুর মাধ্যমে। মানবদেহ ধারণ করে ঈশ্বর মানুষের দুঃখ-কষ্ট শুধু দেখেন বা শোনেন না, বরং নিজেই তা অনুভব করেন। এভাবে তিনি করুণার জীবন্ত প্রতিমূর্তি হয়ে ওঠেন।
পোপ লিও বলেন, করুণা ও সহানুভূতি কোনো অতিরিক্ত বা ঐচ্ছিক বিষয় নয়। এগুলোর সামাজিক প্রভাব রয়েছে। খ্রিস্টানদের জন্য দরিদ্রদের প্রতি ভালোবাসা এবং তাদের দুঃখ ভাগ করে নেওয়া অপরিহার্য। এ প্রসঙ্গে তিনি জর্ডানের শরণার্থীদের আশ্রয় দেওয়ার উদার প্রচেষ্টার প্রশংসা করেন।
পোপ লিও প্রযুক্তির প্রভাব নিয়েও কথা বলেন। তিনি বলেন, আজ আমরা আগের চেয়ে বেশি সংযুক্ত হলেও অন্যদের দুর্দশার ছবি ও ভিডিওর ধারাবাহিক প্রবাহ আমাদের হৃদয়কে উদাসীন করে তুলতে পারে। তিনি সতর্ক করে বলেন, মানুষ এখন অন্যের কষ্টকে নিজের সমস্যা মনে করে না, বরং তা এড়িয়ে যায়।
এই প্রেক্ষাপটে পোপ লিও খ্রিস্টান ও মুসলিমদের আহ্বান জানান তাদের ধর্মীয় ঐতিহ্যের সমৃদ্ধি থেকে শক্তি নিয়ে একটি সাধারণ মিশনে অংশ নিতে। সেই মিশন হলো—মানবতাকে পুনরুজ্জীবিত করা, কষ্টভোগীদের কণ্ঠ দেওয়া এবং উদাসীনতাকে রূপান্তরিত করা সংহতিতে।
পোপ লিওর বার্তা ছিল মানবতার প্রতি নতুন অঙ্গীকার। তিনি মনে করিয়ে দিয়েছেন, করুণা ও সহানুভূতি শুধু ধর্মীয় মূল্যবোধ নয়, বরং সামাজিক দায়িত্বও। খ্রিস্টান ও মুসলিমদের যৌথ প্রচেষ্টা বিশ্বকে আরো মানবিক ও সংহতিপূর্ণ করে তুলতে পারে।
logo-1-1740906910.png)