ফ্রান্সে আশ্রয়প্রার্থীদের ভাতা জালিয়াতি; ব্যবসায়ীর কারাদণ্ড
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১১ মে ২০২৬, ০৯:২৫
ফ্রান্সের দক্ষিণাঞ্চলীয় পর্যটন শহর নিসে আশ্রয়প্রার্থীদের জন্য নির্ধারিত ভাতা জালিয়াতির দায়ে এক ব্যবসায়ীকে তিন বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। ৭ মে নিসের প্রসিকিউটর দামিয়া মার্তিনেল্লি এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন বলে জানা গেছে ইনফো মাইগ্র্যান্টসের প্রতিবেদনে।
পুলিশি তদন্তে জানা গেছে, অভিযুক্ত ব্যবসায়ী ২০২২ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের আগস্ট পর্যন্ত প্রায় ৫০ লাখ ইউরো আত্মসাৎ করেছেন। এই অর্থ মূলত আশ্রয়প্রার্থীদের জন্য বরাদ্দ ভাতা থেকে নেওয়া হয়। প্রসিকিউটর জানান, প্রতি মাসের শুরুতে অভিবাসন ও ইন্টিগ্রেশন বিষয়ক ফরাসি দপ্তর (অফি)-এর ব্যাংক কার্ডধারীরা ওই ব্যবসায়ীর দোকানে গিয়ে ভুয়া কেনাকাটা দেখাতেন। বাস্তবে ব্যবসায়ী কার্ডের অর্থ তুলে নিতেন এবং পরে সেই অর্থের ৯০ শতাংশ কার্ডধারীদের ফেরত দিয়ে ১০ শতাংশ কমিশন হিসেবে রেখে দিতেন।
ফ্রান্সে অফি প্রদত্ত কার্ডের মাধ্যমে আশ্রয়প্রার্থীরা সুপারশপে কেনাকাটা করতে পারেন, তবে নগদ অর্থ তুলতে পারেন না। এই দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে ব্যবসায়ী কমিশনের বিনিময়ে নগদ অর্থে রূপান্তরের ব্যবস্থা করতেন।
তদন্ত শুরু হয় ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে। সে সময় পুলিশের এক অভিযানে এক ব্যক্তির কাছ থেকে অফির প্রায় ১০টি ব্যাংক কার্ড উদ্ধার করা হয়। পরে জানা যায়, বিভিন্ন দোকানে ‘ক্যাশব্যাক’ পদ্ধতির মাধ্যমে কার্ডের অর্থ নগদে তোলা হতো। তদন্তে একই মালিকানাধীন তিনটি দোকান চিহ্নিত হয়, যেখানে প্রতি মাসের শুরুতে ব্যাপকভাবে এই কার্যক্রম চালানো হতো।
ব্যাংক হিসাব পর্যালোচনায় দেখা গেছে, প্রায় ৩ হাজার ৯০০টি ‘আদা’ কার্ড ব্যবহার করে ২০২২ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে মোট ৫০ লাখ ইউরোর লেনদেন হয়েছে। প্রসিকিউটরের দপ্তর জানিয়েছে, এসব অর্থ পরে ইতালি, আলবেনিয়া, জার্মানি, জর্জিয়া, ইউক্রেনসহ বিভিন্ন দেশে পাঠানো হতো।
৫ মে ওই ৫৮ বছর বয়সী ব্যবসায়ীকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি অভিযোগ স্বীকার করেন। তার বাড়ি, দোকান ও ব্যাংক হিসাব থেকে দুটি গাড়ি ও নগদ অর্থ জব্দ করা হয়েছে, যার মূল্য এক লাখ ইউরোর বেশি।
আদালত তাকে সংঘবদ্ধ জালিয়াতি ও অর্থ পাচারের দায়ে দোষী সাব্যস্ত করেছে। কারাদণ্ডের পাশাপাশি তাকে দুই লাখ ইউরো জরিমানা করা হয়েছে। রাষ্ট্রের পাওনা অর্থ পরিশোধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং তার সব সম্পদ বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাকে আজীবনের জন্য কোনো প্রতিষ্ঠান পরিচালনার দায়িত্ব পালন থেকেও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
logo-1-1740906910.png)