যুক্তরাজ্যে ছোট নৌকায় করে আসা অভিবাসীর সংখ্যা রেকর্ড ছাড়িয়েছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮ সাল থেকে এ পর্যন্ত ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দিয়ে দেশটিতে প্রবেশ করেছেন ২ লাখের বেশি মানুষ। শুধু ২০২৫ সালেই প্রায় ৪১ হাজার অভিবাসী ছোট নৌকায় যুক্তরাজ্যে পৌঁছেছেন, যা আগের বছরের তুলনায় ১৩ শতাংশ বেশি।
হোম অফিস জানিয়েছে, ২০১৮ সাল থেকে ছোট নৌকায় আসা অভিবাসীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ১৩ জন। সর্বশেষ শুক্রবার আরো ৭০ জন অভিবাসী চ্যানেল পাড়ি দিয়ে আসায় এই সংখ্যা রেকর্ড ছাড়ায়। ২০২২ সালে সর্বোচ্চ ৪৬ হাজার মানুষ এই পথে যুক্তরাজ্যে প্রবেশ করেছিলেন।
ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দেওয়া অত্যন্ত বিপজ্জনক। ২০১৮ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে ১৬২ জন অভিবাসী মারা গেছেন। শুধু ২০২৫ সালেই ২৪ জনের মৃত্যু হয়েছে, যদিও ২০২৪ সালে এই সংখ্যা ছিল ৭৩। সম্প্রতি ফ্রান্স থেকে যাত্রা করা একটি নৌকায় ৮২ জন অভিবাসীর মধ্যে এক কিশোরী ও এক নারী প্রাণ হারান।
প্রতি বছর নৌকায় যাত্রীসংখ্যা বাড়ছে। ২০১৮ সালে গড়ে প্রতি নৌকায় ৭ জন থাকলেও ২০২৫ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬২ জন।
ক্রমবর্ধমান এই প্রবাহ ঠেকাতে যুক্তরাজ্য সরকার ফ্রান্সের সঙ্গে কাজ করছে। সম্প্রতি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ ফ্রান্সের সঙ্গে ৬৬২ মিলিয়ন পাউন্ডের তিন বছরের চুক্তি করেছেন। এর আওতায় ফরাসি উপকূলে টহল বাড়ানো, নতুন রিমুভাল সেন্টার স্থাপন এবং উন্নত নজরদারি প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে।
এছাড়া আশ্রয়প্রার্থীদের নিয়ম পরিবর্তন এবং অবৈধভাবে থাকা অভিবাসীদের দ্রুত বহিষ্কারের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।
মোট আগত অভিবাসীদের মধ্যে ৭২ হাজারের বেশি লেবার সরকারের সময়ে (জুলাই ২০২৪ থেকে) এসেছে। বাকিরা কনজারভেটিভ সরকারের সময়ে এসেছে, যখন দেশটিতে টানা চারজন প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব পালন করেছেন; থেরেসা মে, বরিস জনসন, লিজ ট্রাস ও ঋষি সুনাক।
ছোট নৌকায় করে যুক্তরাজ্যে অভিবাসন এখন বড় মানবিক ও রাজনৈতিক ইস্যুতে পরিণত হয়েছে। রেকর্ড সংখ্যক মানুষ এই বিপজ্জনক পথ বেছে নিচ্ছেন, যা প্রাণহানি বাড়াচ্ছে। সরকার ফ্রান্সের সঙ্গে চুক্তি ও আশ্রয়প্রার্থীদের নিয়ম পরিবর্তনের মাধ্যমে প্রবাহ কমানোর চেষ্টা করছে। তবে বাস্তবতা হলো, সীমান্ত কড়াকড়ি বাড়লেও অভিবাসীরা ঝুঁকিপূর্ণ পথেই যুক্তরাজ্যে প্রবেশের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
logo-1-1740906910.png)