অভিবাসনপ্রত্যাশী অর্ধকোটি মানুষের ভিড় আফ্রিকার উত্তর উপকূলে
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১১ মে ২০২৬, ০৯:২০
গ্রিস সরকার সতর্ক করেছে যে উত্তর আফ্রিকায় বিপুল সংখ্যক অভিবাসী ইউরোপে প্রবেশের অপেক্ষায় রয়েছে। দেশটির অভিবাসনমন্ত্রী থানোস প্লেভরিস জানিয়েছেন, শুধু লিবিয়াতেই প্রায় ৫ লাখ ৫০ হাজার অভিবাসী অবস্থান করছে, যারা সুযোগ পেলেই ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপে প্রবেশের চেষ্টা করবে।
তিনি বলেন, গ্রিস লিবিয়া ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সীমান্ত রক্ষী বাহিনী ফ্রন্টেক্সের সঙ্গে কাজ করছে, যাতে নৌকাগুলো ভূমধ্যসাগরে যাত্রা শুরু করতে না পারে। প্লেভরিস স্পষ্ট করে দিয়েছেন, যারা আশ্রয়ের যোগ্য নন, তাদের আটক করা হবে এবং আবেদন প্রত্যাখ্যাত হলে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হবে। মন্ত্রী জানান, “গ্রিসের সীমান্ত খোলার কোনো কারণ নেই। আমরা আইনগত কাঠামোর মধ্যে থেকে কাজ করব, তবে সীমান্ত রক্ষায় সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” তিনি আরো বলেন, আশ্রয় প্রত্যাখ্যাত হলে অভিবাসীদের দুটি পথ থাকবে; যেমন- জেল অথবা নিজ দেশে ফেরত যাওয়া।
২০১৫ সাল থেকে গ্রিস ইউরোপে প্রবেশের অন্যতম প্রধান পথ হয়ে উঠেছে। এ সময়ের মধ্যে প্রায় ১২ লাখ অভিবাসী দেশটিতে প্রবেশ করেছে। অনেকেই পরে ব্রিটেনে চলে গেছেন।
জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের শেষে প্রায় ৯ লাখ ৪০ হাজার অভিবাসী লিবিয়ায় অবস্থান করছিলেন। এদের বেশির ভাগই ত্রিপোলি ও বেনগাজি শহরে থাকেন। তারা মূলত চাদ, মিসর, নাইজার, নাইজেরিয়া ও সুদান থেকে এসেছেন।
গ্রিস সরকার অবৈধভাবে প্রবেশকে নির্দিষ্ট অপরাধ হিসেবে ঘোষণা করেছে। এ ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড এবং ১০ হাজার ইউরো জরিমানা হতে পারে। যারা ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও দেশে থাকেন বা আশ্রয় প্রত্যাখ্যাত হওয়ার পর না ফেরেন, তাদেরও একই শাস্তি দেওয়া হবে। এছাড়া অভিবাসীদের ইলেকট্রনিকভাবে নজরদারি করা হবে এবং দুই সপ্তাহের মধ্যে দেশ ছাড়তে হবে, নইলে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে।
গ্রিসের সতর্কবার্তার পাশাপাশি ব্রিটেনও অভিবাসন সংকটে পড়েছে। ২০১৮ সাল থেকে ছোট নৌকায় করে দেশটিতে প্রবেশকারীর সংখ্যা ২ লাখ ছাড়িয়েছে। সর্বশেষ ডোভার উপকূলে আরো ৭০ জন অভিবাসী আটক হওয়ার পর এই সংখ্যা রেকর্ড ছাড়ায়।
logo-1-1740906910.png)