Logo
×

Follow Us

ইউরোপ

রোমানিয়ায় অবৈধ কর্মীদের বৈধ হওয়ার সুযোগ

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:৫০

রোমানিয়ায় অবৈধ কর্মীদের বৈধ হওয়ার সুযোগ

রোমানিয়া সরকার সম্প্রতি জরুরি অধ্যাদেশ নং-৩২ জারি করেছে, যা অফিসিয়াল গেজেটে প্রকাশিত হয়েছে। এই অধ্যাদেশ অনুযায়ী নন-ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশ থেকে আগত বিদেশি কর্মীরা যারা বিভিন্ন কারণে অবৈধ অবস্থায় পড়েছেন, তারা শর্তসাপেক্ষে বৈধ হওয়ার সুযোগ পাবেন। বাংলাদেশ দূতাবাস এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে, কারণ এর ফলে বহু বাংলাদেশি কর্মী তাদের অবস্থান বৈধ করার সুযোগ পাবেন।

বিশেষ করে যারা বৈধভাবে রোমানিয়ায় প্রবেশ করার পর অনিচ্ছাকৃতভাবে অবৈধ হয়ে পড়েছেন, তারা এই সুবিধা গ্রহণ করতে পারবেন। উদাহরণস্বরূপ, কেউ যদি ওয়ার্ক ভিসায় প্রবেশ করার পর নিয়োগকর্তার অস্বীকৃতির কারণে চাকরি না পান এবং ৯০ দিনের মধ্যে নতুন নিয়োগকর্তা খুঁজে না পান, তাহলে তিনি স্বাভাবিকভাবেই অবৈধ অবস্থায় পড়েন। আবার অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, নিয়োগকর্তা কর্মীর বেতন থেকে ট্যাক্স কেটে নিলেও তা সরকারকে জমা দেয় না বা সময়মতো টিআরসি (TRC) আবেদন সম্পন্ন করে না। এসব কারণেও অনেক কর্মী অনিচ্ছাকৃতভাবে অবৈধ হয়ে পড়েন।

নতুন আইনের আওতায় বৈধভাবে প্রবেশ করে পরবর্তী সময়ে অবৈধ হয়ে যাওয়া কর্মীরা রোমানিয়ার ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের শরণাপন্ন হতে পারবেন। তবে তাদের অবশ্যই নতুন ও বৈধ নিয়োগকর্তা খুঁজে নিতে হবে, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের অধীনে ওয়ার্ক পারমিট সংগ্রহ করতে হবে এবং পরবর্তী সময়ে টিআরসি কার্ডের জন্য আবেদন করতে হবে। আইন কার্যকর হওয়ার পর ৬০ দিনের মধ্যে অবৈধ কর্মীদের ইমিগ্রেশনে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।

বাংলাদেশ দূতাবাস জানিয়েছে, যেহেতু এ ব্যবস্থা নতুন, তাই প্রাথমিক পর্যায়ে কিছু জটিলতা দেখা দিতে পারে। সে কারণে প্রয়োজনে দূতাবাসের সহায়তা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তবে যেসব ব্যক্তি ইতোমধ্যে ‘রিটার্ন ডিসিশন’ (দেশত্যাগের নির্দেশ) পেয়েছেন বা যারা অবৈধভাবে রোমানিয়ায় প্রবেশ করেছেন, তারা এই সুবিধার আওতায় পড়বেন না।

সর্বশেষ সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে রোমানিয়ার ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হবে। জানা গেছে, আগামী ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত এ সুযোগ কার্যকর থাকবে।

বাংলাদেশ দূতাবাসের মতে, এই উদ্যোগ প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য একটি বড় সুযোগ। যারা অনিচ্ছাকৃতভাবে অবৈধ হয়ে পড়েছেন, তারা এখন বৈধ হওয়ার মাধ্যমে নিরাপদে কাজ চালিয়ে যেতে পারবেন। এতে প্রবাসী পরিবারগুলোর নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত হবে।

Logo