Logo
×

Follow Us

ইউরোপ

জার্মানির অভিবাসন নীতিতে বড় সংস্কার

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২৬ এপ্রিল ২০২৬, ১০:৪৪

জার্মানির অভিবাসন নীতিতে বড় সংস্কার

জার্মানি অভিবাসন নীতিতে কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় সংস্কার চালু করেছে। নতুন কাঠামোতে দক্ষ কর্মীদের জন্য তিনটি প্রধান পথ তৈরি করা হয়েছে— পুনর্গঠিত স্কিল্ড ওয়ার্কার্স অ্যাক্ট, পয়েন্টভিত্তিক সুযোগ কার্ড (Chancenkarte) এবং সহজীকৃত নাগরিকত্ব ব্যবস্থা। এর ফলে অ-ইইউ দেশ থেকে আসা পেশাজীবীরা দ্রুত ও পূর্বানুমানযোগ্য প্রক্রিয়ায় জার্মানিতে স্থায়ী হতে পারবেন।

প্রথমত, স্কিল্ড ওয়ার্কার্স অ্যাক্ট এখন বিদেশি প্রশিক্ষণ ও অভিজ্ঞতাকে আরো বিস্তৃতভাবে স্বীকৃতি দিচ্ছে। পূর্বে নির্দিষ্ট পেশার সঙ্গে জার্মান স্বীকৃতি মিলতে হতো। এখন অভিজ্ঞতা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে ভিন্ন খাতে কাজের সুযোগ পাওয়া যাবে।

দ্বিতীয়ত, সুযোগ কার্ড চালু হয়েছে, যা কানাডা ও অস্ট্রেলিয়ার মডেলের মতো পয়েন্টভিত্তিক। চাকরির চুক্তি ছাড়াই দক্ষ কর্মীরা জার্মানিতে এসে এক বছরের মধ্যে চাকরি খুঁজতে পারবেন। শিক্ষাগত যোগ্যতা, ভাষা দক্ষতা, বয়স, অভিজ্ঞতা ও আর্থিক সক্ষমতার ভিত্তিতে পয়েন্ট দেওয়া হবে। চাকরি পাওয়ার পর সহজেই কর্মভিসায় রূপান্তর করা যাবে।

তৃতীয়ত, নাগরিকত্ব আইন সহজ করা হয়েছে। পূর্বে নাগরিকত্ব পেতে টানা আট বছর বসবাস করতে হতো, এখন তা কমে পাঁচ বছর হয়েছে। বিশেষ যোগ্যতা বা বিনিয়োগকারীদের জন্য তিন বছরেই নাগরিকত্বের সুযোগ রয়েছে। দ্বৈত নাগরিকত্বও এখন অনুমোদিত। সন্তান জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব পাওয়া সহজ হয়েছে এবং পরিবারভিত্তিক আবেদনে সময়সীমা কমানো হয়েছে।

জার্মান সরকার বলছে, জনসংখ্যা হ্রাস ও শ্রম সংকট মোকাবিলায় এই সংস্কার জরুরি। তবে বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া রাজ্যভেদে ভিন্ন হতে পারে। স্থানীয় অভিবাসন অফিসগুলোতে নথি যাচাই ও প্রক্রিয়াকরণে সময়ের তারতম্য দেখা দিতে পারে।

এই সংস্কার জার্মানিকে দক্ষ কর্মীদের জন্য আরও আকর্ষণীয় গন্তব্যে পরিণত করেছে। দ্রুত নাগরিকত্ব, সহজ ভিসা প্রক্রিয়া এবং পেশাগত অভিজ্ঞতার স্বীকৃতি প্রবাসীদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করবে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এটি ইউরোপের শ্রমবাজারে জার্মানিকে প্রতিযোগিতায় এগিয়ে রাখবে।

Logo