জার্মানির শ্রমবাজারে দক্ষ কর্মীর সংকট দিন দিন প্রকট হয়ে উঠছে। দেশটির শিল্প ও অর্থনীতিকে সচল রাখতে প্রতি বছর বিপুল সংখ্যক বিদেশি কর্মী প্রয়োজন। এ সংকট মোকাবিলায় জার্মানি নতুন উদ্যোগ নিয়েছে- ‘উই-ফেয়ার অ্যালায়েন্স ফর দ্য ফেয়ার রিক্রুটমেন্ট অব স্কিলড ওয়ার্কার্স’।
ডয়েচে ভেলের প্রতিবেদন বলছে, জার্মান কোম্পানিগুলো ইতোমধ্যেই বিদেশি কর্মী আনার চেষ্টা করছে। উদাহরণস্বরূপ, বিদ্যুৎ লাইন নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান ওমেক্সম হাই ভোল্টেজ ভিয়েতনামের সঙ্গে যৌথ প্রকল্পে কাজ করছে। ভিয়েতনামের বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ইভিএন একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র গড়ে তুলেছে, যেখানে জার্মান মান অনুযায়ী কর্মী তৈরি করা হবে। প্রশিক্ষণ শেষে প্রায় ২০০ জন কর্মীকে জার্মানিতে চাকরির সুযোগ দেওয়া হবে।
জার্মান উন্নয়ন মন্ত্রণালয় (BMZ) বলছে, এ ধরনের প্রকল্পে শুধু বিদেশি কর্মী আনা নয়, বরং তাদের নিজ দেশে প্রশিক্ষণ কাঠামোও শক্তিশালী করা হবে। উন্নয়নমন্ত্রী রীম আলাবালি রাদোভান বার্লিনে উদ্যোগটির উদ্বোধন করে বলেন, “জার্মানির জনসংখ্যা দ্রুত বুড়িয়ে যাচ্ছে। আগামী ১০ বছরে কর্মীদের এক-পঞ্চমাংশ অবসর নেবে। এ শূন্যতা পূরণে প্রতি বছর ৪ লাখ বিদেশি দক্ষ কর্মী প্রয়োজন।”
এ কারণে এশিয়া, আফ্রিকা ও লাতিন আমেরিকার তরুণ জনগোষ্ঠীর দিকে নজর দিচ্ছে জার্মানি। এসব দেশে শিক্ষিত তরুণের সংখ্যা বাড়ছে এবং তারা বিদেশে সুযোগ খুঁজছে। জার্মানি প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, স্বচ্ছ নিয়মে নিয়োগ হবে, কর্মপরিবেশ ও বেতন সম্পর্কে স্পষ্ট তথ্য দেওয়া হবে এবং প্রশিক্ষণ উভয় দেশের জন্যই কার্যকর হবে।
তবে বাস্তবে অনেক বাধা রয়েছে। মিউনিখভিত্তিক পরামর্শক এডিথ ওটিয়েন্ডে-লাওয়ানি বলেন, “অনেক কোম্পানি মনে করে কর্মীরা আসবে, সঙ্গে সঙ্গে কাজ শুরু করবে। কিন্তু বাস্তবে ভাষা, সংস্কৃতি ও নেতৃত্বের ধরন ভিন্ন হওয়ায় সময় লাগে।” জার্মান ব্যবসা পরামর্শক গেরহার্ড হাইনও বলেন, “প্রায় ৮০ শতাংশ ক্ষেত্রে বিদেশি কর্মীরা জার্মানদের মতো কাজের ধরণে অভ্যস্ত নয়। তাই ধৈর্য দরকার।”
সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা। নুরেমবার্গ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রি অ্যান্ড কমার্সের প্রধান মার্কুস লোটজশ বলেন, “দ্রুত নিয়োগ প্রক্রিয়া চালু হলেও বাস্তবে তা অনেক সময় নেয়। নানা দপ্তরের কারণে বছরের পর বছর অপেক্ষা করতে হয়।” এ কারণে অনেক কর্মী হতাশ হয়ে দেশে ফিরে যায়।
২০২৪ সালে প্রথমবারের মতো জার্মানি থেকে বেশি মানুষ চলে গেছে, আসেনি। উদ্যোক্তা জাসমিন আরবাবিয়ান-ভোগেল মনে করেন, এর পেছনে জার্মানদের অভিবাসীদের প্রতি মনোভাব দায়ী। তিনি বলেন, “আমরা কর্মী প্রশিক্ষণ দিই, কিন্তু পরে তারা বহিষ্কারের নোটিশ পায়। এতে পুরো প্রক্রিয়া ভেঙে পড়ে।”
জার্মানি দক্ষ কর্মী আনার জন্য নতুন উদ্যোগ নিলেও বাস্তবায়নে বড় চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে। জনসংখ্যা সংকট মোকাবিলায় বিদেশি কর্মী অপরিহার্য হলেও তাদের ধরে রাখতে রাজনৈতিক ও সামাজিক মানসিকতার পরিবর্তন জরুরি।
logo-1-1740906910.png)