ইতালির আকাশে ভোরের আলো ফোটার আগেই যেন অন্যরকম আবহ তৈরি হয়। প্রবাস জীবনের ব্যস্ততা, দূরত্ব আর না-পাওয়ার মাঝেও হৃদয়ে জমে ওঠা আনন্দের নাম ঈদ। সেই আনন্দকে ঘিরেই ইতালিতে বসবাসরত বাংলাদেশিসহ প্রায় ২৫ লাখ মুসলমান ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে উদযাপন করেছেন পবিত্র ঈদুল ফিতর।
২০ মার্চ মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্গে সময় মিলিয়ে ইতালিসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে একযোগে পালিত হয় ঈদ। দিনটি যেন প্রবাসীদের জন্য হয়ে ওঠে এক টুকরো বাংলাদেশ। পরিবার থেকে দূরে থেকেও তারা খুঁজে পান আপনজনের ছোঁয়া; মসজিদের কাতারে, ঈদগাহের ভিড়ে কিংবা বন্ধুদের সঙ্গে কোলাকুলিতে।
রাজধানী রোমে সকাল সাড়ে ৭টায় অনুষ্ঠিত হয় সবচেয়ে বড় ঈদের জামাত। ভোরের ঠান্ডা বাতাসে শত শত মুসল্লির সমাগমে মুখর হয়ে ওঠে ঈদগাহ। নামাজ শেষে একে অপরকে আলিঙ্গন করে ভাগ করে নেন আনন্দ, স্মৃতি আর আবেগ।
এবারের ঈদে বিশেষ নতুনত্ব দেখা গেছে ভেনিসের ভিছেন্সায়। সেখানে প্রথমবারের মতো খোলা স্থানে আয়োজন করা হয় ঈদের জামাত। মিলান কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ, তোরিনো, নাপোলি, বোলোনিয়া; দেশটির বিভিন্ন শহরে অনুষ্ঠিত হয়েছে শতাধিক ঈদ জামাত। কোথাও মসজিদে, কোথাও খোলা মাঠে, আবার অনেকেই বাসায় নামাজ আদায় করেছেন। তবে জায়গা ভিন্ন হলেও অনুভূতি ছিল এক; ঐক্য, ভ্রাতৃত্ব আর শান্তির আহ্বান।
নামাজ শেষে বিশ্ব মানবতার শান্তি কামনায় করা হয় বিশেষ দোয়া। যুদ্ধবিধ্বস্ত মুসলিম দেশগুলোর জন্য প্রার্থনা করেন সবাই। প্রবাসে থেকেও বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর সঙ্গে এই আবেগী সংযোগ যেন আরও গভীর হয়ে ওঠে।
ঈদের আনন্দকে আরও বর্ণিল করে তুলতে ইতালির বিভিন্ন বাংলা কমিউনিটির উদ্যোগে আয়োজন করা হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। গান, আড্ডা, খাবার আর হাসি; সব মিলিয়ে তৈরি হয় এক প্রাণবন্ত পরিবেশ। প্রবাসীরা একে অন্যের সঙ্গে ভাগ করে নেন ঈদের সুখ-দুঃখের গল্প, স্মৃতি আর ভালোবাসা।
প্রবাস জীবনের বাস্তবতায় ঈদ হয়তো কিছুটা ভিন্ন, তবুও এই দিনটিতে হৃদয়ে জেগে ওঠে শিকড়ের টান। ইতালির মাটিতে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশি মুসলমানরা যেন নতুন করে খুঁজে পান নিজেদের পরিচয়; ধর্মে, সংস্কৃতিতে এবং মানবিক বন্ধনে।
logo-1-1740906910.png)