পর্তুগালে শিশু পাচার চক্রে বাংলাদেশিরা সন্দেহের তালিকায়
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১৯ মার্চ ২০২৬, ২৩:৩৫
পর্তুগালে শিশু পাচারের একটি আন্তর্জাতিক চক্র শনাক্ত হয়েছে। জাল নথিপত্র ব্যবহার করে অপ্রাপ্তবয়স্কদের ইউরোপে প্রবেশ করানো হচ্ছিল। তদন্তে উঠে এসেছে, এই চক্রে বাংলাদেশিদের নামও সন্দেহভাজন হিসেবে রয়েছে।
অ্যাঙ্গোলা থেকে শিশু পাচারের ঘটনায় এক নারীকে ইতোমধ্যেই গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তিনি বর্তমানে প্রাক-বিচার আটক অবস্থায় রয়েছেন। পাবলিক প্রসিকিউটর অফিস তার বিরুদ্ধে অবৈধ অভিবাসনে সহায়তার ১৬টি, নথিপত্র জালিয়াতির ১৩টি এবং অন্যের পরিচয় ব্যবহার করে জালিয়াতির চারটি অভিযোগ এনেছে।
তদন্তে জানা গেছে, ২০২৪ সালের মে থেকে ২০২৫ সালের মার্চ পর্যন্ত এই চক্র সক্রিয় ছিল। অভিযুক্ত নারী একটি সুসংগঠিত নেটওয়ার্কের অংশ হিসেবে মূলত অ্যাঙ্গোলা থেকে নাগরিকদের পর্তুগালের মাধ্যমে ইউরোপের শেঞ্জেন জোনে প্রবেশের নিশ্চয়তা দিতেন। এজন্য তারা পর্তুগিজ-অ্যাঙ্গোলান নাগরিকদের পরিচয় এবং লুয়ান্ডায় অবস্থিত পর্তুগিজ কনস্যুলার সার্ভিস থেকে ইস্যু করা অন্যদের অস্থায়ী ভ্রমণ নথি ব্যবহার করতেন।
প্রতিটি সফল অনুপ্রবেশের জন্য গ্রাহকদের কাছ থেকে নেওয়া হতো ৬ হাজার থেকে ৮ হাজার ইউরো, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় সাড়ে সাত থেকে ১০ লাখ টাকা। তবে এই অর্থের মধ্যে বিমান ভাড়া অন্তর্ভুক্ত ছিল না। গ্রাহকদের নিজেদেরই সেই খরচ বহন করতে হতো।
তদন্তকারী সংস্থার দাবি, এই চক্রে কয়েকজন বাংলাদেশির নামও এসেছে। তারা অন্যের সন্তানকে নিজের পরিচয়ে দেখিয়ে জাল নথি ব্যবহার করেছেন বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত অনুসন্ধান চলছে।
মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন, শিশু পাচারের এই ঘটনা শুধু আইন ভঙ্গ নয়, বরং মানবিক বিপর্যয়ও বয়ে আনছে। পাচার হওয়া শিশুদের ভবিষ্যৎ অন্ধকারে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে জাল নথিপত্রের মাধ্যমে ইউরোপে প্রবেশের চেষ্টা আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার জন্যও বড় হুমকি।
logo-1-1740906910.png)