Logo
×

Follow Us

ইউরোপ

যেভাবে একটি যুদ্ধ পাল্টে দিল বিশ্ব

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১২ মার্চ ২০২৬, ০৯:৫৯

যেভাবে একটি যুদ্ধ পাল্টে দিল বিশ্ব

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বে ইরানের বিরুদ্ধে শুরু হওয়া যুদ্ধ মাত্র দুই সপ্তাহের মাথায় বৈশ্বিক অর্থনীতি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনছে। ট্রাম্প এটিকে ‘সংক্ষিপ্ত ব্যাঘাত’ বলে দাবি করলেও বাস্তবে এর প্রভাব ছড়িয়ে পড়ছে জ্বালানি বাজার, ভ্রমণ, বাণিজ্য পথ, জীবনযাত্রার খরচ ও কূটনৈতিক সম্পর্কের ওপর। মার্কিন সংবাদ সংস্থা নিউ ইয়র্ক টাইমস এ নিয়ে প্রকাশ করেছে এক বিস্তারিত প্রতিবেদন।

প্রতিবেদন বলছে, ইসরায়েলি হামলায় তেহরানের জ্বালানি ডিপোতে আগুন ধরে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ হয়েছে। হাজারো মানুষ নিহত হয়েছেন, অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গালফ অঞ্চলের দেশগুলো, যেগুলো নিজেদের নিরাপদ বিনিয়োগ কেন্দ্র হিসেবে তুলে ধরত, এখন ইরানি হামলার শিকার। পাঁচ তারকা হোটেল, ডেসালিনেশন প্ল্যান্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, পর্যটকরা পালিয়ে যাচ্ছেন। দুবাই ও আবুধাবির বিমানবন্দরেও হামলা হয়েছে। ইউরোপীয় নাগরিকদের জরুরি ভিত্তিতে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।  

হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল পরিবহন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম ১০০ ডলারের ওপরে উঠে যায়। যদিও পরে কিছুটা কমেছে, তবু আশঙ্কা রয়ে গেছে। ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ ১০টি যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছেন, যাতে তেলবাহী জাহাজ নিরাপদে চলাচল করতে পারে। অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করছেন, যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে এটি ১৯৭৯ সালের মতো মুদ্রাস্ফীতি ও প্রবৃদ্ধি হ্রাস স্ট্যাগফ্লেশনের দিকে ঠেলে দিতে পারে।  

চীনের জন্য সস্তা তেল হারানো বড় ঝুঁকি। মধ্যপ্রাচ্যের বাজারে চীনা পণ্যের বিক্রি কমে গেলে তাদের প্রবৃদ্ধি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। অন্যদিকে তেলের দাম বাড়ায় রাশিয়া লাভবান হচ্ছে, যা ইউক্রেন যুদ্ধের অর্থায়নে সহায়তা করছে। ইউরোপীয়রা উদ্বিগ্ন, কারণ ইরান মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্র ও মিত্ররা যে প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করছে, তা ইউক্রেনের জন্য কমে যেতে পারে।  

দেশে যুদ্ধের জনপ্রিয়তা কম। ডেমোক্র্যাটরা বাড়তি জ্বালানি খরচকে রাজনৈতিক ইস্যু বানাচ্ছে। আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনে এটি বড় প্রভাব ফেলতে পারে। ট্রাম্প যে বিশ্বকাপকে তার সাফল্যের প্রতীক বানাতে চেয়েছিলেন, সেটিও অনিশ্চয়তায় পড়েছে। ইরান দল অংশ নিতে পারবে কি না তা স্পষ্ট নয়।  

জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্জ বলেছেন, “প্রতিদিন যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হচ্ছে, কিন্তু দ্রুত সমাধানের কোনো পরিকল্পনা নেই।” ইউরোপে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, ইরানের অর্থনীতি ভেঙে পড়লে নতুন অভিবাসন সংকট দেখা দিতে পারে, যা এক দশক আগের শরণার্থী স্রোতের স্মৃতি ফিরিয়ে আনবে।  

ট্রাম্পের ইরান যুদ্ধকে তিনি সাময়িক ব্যাঘাত বললেও বাস্তবে এটি বৈশ্বিক অর্থনীতি, জ্বালানি বাজার, ভ্রমণ ও কূটনৈতিক সম্পর্ককে গভীরভাবে নাড়িয়ে দিয়েছে। তেলের দাম থেকে শুরু করে অভিবাসন সংকট পর্যন্ত নানা প্রভাব বিশ্বকে নতুন অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

Logo