Logo
×

Follow Us

ইউরোপ

জার্মানিতে দক্ষ কর্মীর চরম সংকট, দরকার লাখ লাখ অভিবাসী

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৯:২১

জার্মানিতে দক্ষ কর্মীর চরম সংকট, দরকার লাখ লাখ অভিবাসী

জার্মানিতে বর্তমানে দক্ষ কর্মীর ভয়াবহ সংকট দেখা দিয়েছে। নার্স, শিক্ষক থেকে শুরু করে আইটি বিশেষজ্ঞ পর্যন্ত বিভিন্ন পেশায় কর্মী ঘাটতি এতটাই তীব্র যে দেশটির অর্থনীতিকে সচল রাখতে লাখ লাখ অভিবাসী কর্মী প্রয়োজন। তবে বিদেশ থেকে কর্মী আনার প্রক্রিয়া নানা প্রশাসনিক জটিলতা ও রাজনৈতিক বাধায় ধীরগতিতে চলছে।  

চেন্নাইয়ের একটি শ্রেণিকক্ষে প্রায় ২০ জন নার্স জার্মান ভাষা শিখছেন। তাদের লক্ষ্য ছয় মাসের মধ্যে ভাষায় দক্ষ হয়ে জার্মানিতে গিয়ে কাজ করা। রামলক্ষী নামে এক নার্স জানান, পরিবারের আর্থিক সংগ্রামের মধ্য দিয়ে পড়াশোনা করেছেন। এখন বিদেশে গিয়ে কাজ করে পরিবারকে স্বাবলম্বী করতে চান এবং নিজের একটি বাড়ি বানানোর স্বপ্ন দেখছেন।  

জার্মানির বেবি-বুমার প্রজন্মের কর্মীরা আগামী কয়েক বছরের মধ্যে অবসরে যাচ্ছেন। জন্মহারও কমে যাওয়ায় নতুন কর্মী পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। হাসপাতালগুলোতে নার্সের ঘাটতি, স্কুলে শিক্ষক সংকট এবং আইটি খাতে ডেভেলপার খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। নিউরেমবার্গের ইনস্টিটিউট ফর এমপ্লয়মেন্ট রিসার্চ (আইএবি) জানিয়েছে, বর্তমান অবস্থা বজায় রাখতে প্রতি বছর প্রায় তিন লাখ দক্ষ কর্মী বিদেশ থেকে আনা প্রয়োজন।  

আইএবির গবেষক মাইকেল ওবারফিখটার বলেন, কর্মী না থাকলে জার্মানদের বেশি সময় কাজ করতে হবে, অবসর নিতে হবে দেরিতে অথবা জীবনযাপনের মান কমে যাবে।  

বর্তমানে বিদেশি কর্মীরা জার্মানিতে কাজের অনুমতি পেতে নানা সমস্যায় পড়ছেন। ইরানি তরুণী জাহরা জার্মান বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা শেষ করার পরও এক বছর ধরে ভিসা রূপান্তরের জন্য অপেক্ষা করেছেন। তিনি বলেন, ছয় বছর পার হলেও স্থায়ী কাজের অনুমতি পাননি। অভিবাসন আইনজীবীরা বলছেন, এ ধরনের সমস্যা সারাদেশেই রয়েছে।  

জার্মানির অভিবাসন ও শরণার্থী অফিসের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে প্রায় ১ লাখ ৬০ হাজার বিদেশি দক্ষ কর্মী হিসেবে নিবন্ধিত। তবে যুদ্ধ ও সংঘাতের কারণে আসা শরণার্থীদের আবেদনও একই অফিসে জমা পড়ায় প্রক্রিয়া আরো ধীর হচ্ছে। ডিজিটালাইজেশনের অভাব ও প্রশাসনিক জটিলতা অভিবাসী কর্মী নিয়োগে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।  

এ অবস্থায় জনসমর্থন বেড়েছে উগ্র ডানপন্থি দল ‘অলটারনেটিভ ফর জার্মানি’-র প্রতি। বিদেশিদের প্রতি বিদ্বেষ, বর্ণবৈষম্য, সাংস্কৃতিক মানিয়ে নেওয়ার সমস্যা এবং চুক্তির মেয়াদ সীমিত হওয়ায় অনেক বিদেশি কর্মী স্থায়ীভাবে থাকতে চান না।  

তবে কিছু ইতিবাচক উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। জার্মানির ক্লিনিকগুলো এখন ভারতীয় তরুণদের জন্য শিক্ষানবিশ প্রোগ্রাম চালু করেছে, যা নিয়োগ প্রক্রিয়া দ্রুততর করছে। কিন্তু দেশটির ১৬টি রাজ্যে ভিন্ন নিয়ম এবং জটিল নথিপত্র যাচাইয়ের কারণে সময় অনেক বেশি লাগছে।  

ক্লিনিকের কর্মকর্তা জার্গ বিয়েব্রাচ বলেন, প্রতিটি দেশই দক্ষ কর্মীর প্রয়োজনের কথা বলছে, কিন্তু সবকিছু সুষ্ঠুভাবে চালানোর পথ এখনো অনেক দূরে।

Logo