নর্ডিক দেশ সুইডেন নাগরিকত্ব পাওয়ার নিয়ম আরো কঠোর করছে। সোমবার দেশটির সরকার নতুন নিয়ম ঘোষণা করেছে, যা চলতি বছরের ৬ জুন থেকে কার্যকর হবে। ফলে বিদেশিদের জন্য নাগরিকত্ব পাওয়া আগের তুলনায় কঠিন হয়ে উঠবে।
সংবাদমাধ্যম ডয়েচে ভেলে বলছে, নতুন নিয়ম অনুযায়ী, নাগরিকত্ব পেতে হলে আবেদনকারীদের অন্তত আট বছর সুইডেনে বসবাস করতে হবে। আগে এই সময়সীমা ছিল পাঁচ বছর। এছাড়া মাসিক আয় কমপক্ষে ২০ হাজার সুইডিশ ক্রাউন (প্রায় দুই হাজার ডলার) থাকতে হবে। সুইডিশ ভাষায় দক্ষতা প্রমাণ করতে হবে এবং একটি সাংস্কৃতিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে।
যদি কোনো ব্যক্তি সুইডেনে বা অন্য কোনো দেশে অপরাধের সঙ্গে যুক্ত হয়ে দোষী সাব্যস্ত হন, তবে তাকে আরো বেশি সময় সুইডেনে থাকতে হবে নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করার আগে। উদাহরণস্বরূপ, চার বছরের সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে নাগরিকত্বের আবেদন করার আগে অন্তত ১৫ বছর সুইডেনে থাকতে হবে।
সুইডেনের অভিবাসনমন্ত্রী ইয়োহান ফোরসেল জানিয়েছেন, নতুন নিয়ম বর্তমানের তুলনায় কিছুটা কঠোর। তার মতে, এতদিন নাগরিকত্ব পাওয়ার ক্ষেত্রে কার্যকর কোনো নিয়ম ছিল না। তবে তিনি বলেন, মাসিক আয়ের যে অংক নির্ধারণ করা হয়েছে, তা সুইডেনের গড় আয়ের চেয়ে কম। ফলে পূর্ণকালীন চাকরিজীবীরা নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে পারবেন।
অভিবাসনমন্ত্রী জানিয়েছেন, সাংস্কৃতিক পরীক্ষা খুব সাধারণ হবে। যেমন সুইডেনে রাজতন্ত্র চলছে নাকি প্রজাতন্ত্র, এ ধরনের মৌলিক বিষয় জানা থাকলেই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া সম্ভব।
২০১৬ সালের পর থেকে সুইডেন নাগরিকত্ব প্রদানের নিয়ম ধাপে ধাপে কঠোর করছে। সে সময় প্রায় এক লাখ ৬০ হাজার শরণার্থী দেশটিতে আশ্রয় নিয়েছিলেন। নতুন নিয়মকে আসন্ন সেপ্টেম্বরের জাতীয় নির্বাচনের সঙ্গে সম্পর্কিত বলেও মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
সুইডেনের নতুন নিয়ম বিদেশিদের জন্য নাগরিকত্ব পাওয়ার পথ আরো দীর্ঘ ও কঠিন করে তুলছে। দীর্ঘ সময় বসবাস, নির্দিষ্ট আয়, ভাষা ও সাংস্কৃতিক দক্ষতা প্রমাণ এবং অপরাধীদের জন্য বাড়তি অপেক্ষা; সব মিলিয়ে নাগরিকত্ব অর্জন এখন আরো চ্যালেঞ্জিং হয়ে উঠছে।
logo-1-1740906910.png)