Logo
×

Follow Us

ইউরোপ

স্পেনে বৈধতার সুযোগে দক্ষিণ এশীয় অভিবাসীদের প্রস্তুতি

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১১:৪২

স্পেনে বৈধতার সুযোগে দক্ষিণ এশীয় অভিবাসীদের প্রস্তুতি

স্পেনে অনিয়মিত অবস্থায় থাকা পাঁচ লাখের বেশি অভিবাসীকে নিয়মিতকরণের ঘোষণায় দক্ষিণ এশীয় অভিবাসীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে। বাংলাদেশ, পাকিস্তান, ভারত, নেপাল ও শ্রীলঙ্কা থেকে আসা বহু অভিবাসী এখন আবেদনের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। আগামী এপ্রিল থেকে এই ডিক্রির অধীনে আবেদন গ্রহণ শুরু হবে। ইনফো মাইগ্র্যান্টস এ সংবাদ প্রকাশ করেছে।

গত ২৭ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজের নেতৃত্বাধীন সোশ্যালিস্ট জোট সরকার মন্ত্রিপরিষদের বৈঠকে একটি রয়্যাল ডিক্রি অনুমোদন দেয়। এর মাধ্যমে অনিয়মিত অভিবাসীদের বৈধতার আওতায় আনার পথ খুলে যায়। ইউরোপে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এমন উদ্যোগ বিরল হলেও স্পেনের এই সিদ্ধান্তকে যুগান্তকারী হিসেবে দেখা হচ্ছে। ইতালি, ফ্রান্স, গ্রিস ও পর্তুগালে অতীতে নিয়মিতকরণের উদ্যোগ দেখা গেলেও বর্তমানে ইউরোপজুড়ে প্রক্রিয়াটি কঠোর শর্তে সীমাবদ্ধ।  

ডানপন্থি রাজনৈতিক দলগুলো এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছে। তবে প্রধানমন্ত্রী সানচেজ বলেছেন, স্পেন মর্যাদা, সহমর্মিতা ও ন্যায়ের পথে এগোচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, অধিকার স্বীকৃতি দেওয়া কখনো চরমপন্থা নয়, বরং মানবিক দায়িত্ব। সরকারি ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, যারা ইতোমধ্যে স্পেনের সামাজিক ও অর্থনৈতিক জীবনের সঙ্গে যুক্ত, তাদের জন্য বসবাসের একটি সুশৃঙ্খল ও আইনি পথ তৈরি হবে।  

এই উদ্যোগের পেছনে ছিল একটি নাগরিক আন্দোলন, যেখানে সাত লাখের বেশি মানুষ স্বাক্ষর করেছেন। ক্যাথলিক চার্চের বড় অংশ এবং প্রায় নয়শটি সামাজিক সংগঠন এতে সমর্থন জানিয়েছে। দীর্ঘদিন ঝুলে থাকা প্রস্তাবটি অবশেষে পোদেমোস দলের সঙ্গে চুক্তির মাধ্যমে অনুমোদনের পথে এগোয়।  

দক্ষিণ এশীয় অভিবাসীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি সাড়া দেখা যাচ্ছে। পাকিস্তানি নাগরিকরা ইতোমধ্যে কনস্যুলেটের সামনে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে প্রয়োজনীয় নথি সংগ্রহ করছেন। মাদ্রিদে বাংলাদেশ দূতাবাস বার্সেলোনাসহ বিভিন্ন শহরে ভ্রাম্যমাণ কনস্যুলার সেবা চালু করেছে, যাতে প্রবাসীরা দ্রুত কাগজপত্র সংগ্রহ করতে পারেন। একই ধরনের তৎপরতা ভারত, নেপাল ও শ্রীলঙ্কার নাগরিকদের মধ্যেও দেখা যাচ্ছে।  

সরকারি ডিক্রি অনুযায়ী, আবেদনকারীদের ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫-এর আগে স্পেনে প্রবেশ করতে হবে এবং আবেদনের সময় অন্তত পাঁচ মাসের বসবাসের প্রমাণ দেখাতে হবে। ফৌজদারি অপরাধের রেকর্ড থাকলে আবেদন গ্রহণযোগ্য হবে না। আন্তর্জাতিক সুরক্ষার জন্য আবেদন করা আশ্রয়প্রার্থীরাও এই প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্ত হবেন। বৈধতা পাওয়া অভিবাসীদের অপ্রাপ্তবয়স্ক সন্তানরা সরাসরি পাঁচ বছরের রেসিডেন্স পারমিট পাবেন।  

তবে ভাষাগত দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়ে কিছু অসাধু প্রতিষ্ঠান অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। কমিউনিটি সাংবাদিক নুরুল ওয়াহিদ জানিয়েছেন, একটি বাংলাদেশি পুলিশ ক্লিয়ারেন্স নিজে আবেদন করলে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা খরচ হয়, অথচ কিছু প্রতিষ্ঠান এর জন্য ২৫০ ইউরো পর্যন্ত নিচ্ছে। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, নতুন করে স্পেনে এলে বৈধতার কোনো সুযোগ নেই, কারণ এটি শুধু যারা গত বছরের শেষ নাগাদ স্পেনে ছিলেন তাদের জন্য।

Logo