Logo
×

Follow Us

ইউরোপ

ভূমধ্যসাগরে সাইক্লোনের কবলে পড়ে হাজারো অভিবাসী নিখোঁজ

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৯:৫৭

ভূমধ্যসাগরে সাইক্লোনের কবলে পড়ে হাজারো অভিবাসী নিখোঁজ

ভূমধ্যসাগরের সেন্ট্রাল রুটে ঘূর্ণিঝড় ‘হ্যারি’-এর প্রভাবে ভয়াবহ ট্র্যাজেডি ঘটেছে বলে আশঙ্কা করছে ইতালিয়ান এনজিও মেডিটেরানিয়া সেভিং হিউম্যানস। সংস্থাটি জানিয়েছে, জানুয়ারির মাঝামাঝি সময়ে সৃষ্ট দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে অন্তত এক হাজার অভিবাসী সাগরে নিখোঁজ হয়ে থাকতে পারেন। লিবিয়া ও তিউনিশিয়ার শরণার্থীদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য ইঙ্গিত দিচ্ছে, এটি সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে অন্যতম ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়।

এনজিওটির প্রেসিডেন্ট লরা মারমোরালে ২ ফেব্রুয়ারি এক বিবৃতিতে বলেন, “সাম্প্রতিক বছরগুলোর সবচেয়ে বড় ট্র্যাজেডির চিহ্ন সেন্ট্রাল ভূমধ্যসাগরীয় রুটে স্পষ্ট হচ্ছে। অথচ ইতালি ও মাল্টার সরকার এ বিষয়ে নীরব রয়েছে এবং কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না।” সংস্থাটি অভিযোগ করেছে, কর্তৃপক্ষ তথ্য গোপন করছে এবং উদ্ধার প্রচেষ্টায় ঘাটতি রয়েছে।  

স্যাটেলাইট টেলিযোগাযোগ প্রতিষ্ঠান ইনমারস্যাটের মাধ্যমে রোমের মেরিটাইম রেসকিউ কো-অর্ডিনেশন সেন্টার জানিয়েছে, ২৪ জানুয়ারির আগে অন্তত ৩৮০ জন অভিবাসী সাগরে নিখোঁজ হয়েছেন। তিউনিশিয়ার স্ফ্যাক্স শহর থেকে ১৪ থেকে ২১ জানুয়ারির মধ্যে আটটি নৌকা রওনা দিয়েছিল, যেগুলোতে নারী ও শিশুসহ মোট ৩৮০ জন ছিলেন। কিন্তু ২৪ জানুয়ারির পর থেকে কোনো নৌযান শনাক্ত হয়নি এবং কোনো নিশ্চিত উদ্ধারও নথিভুক্ত হয়নি।  

ঘূর্ণিঝড় হ্যারির সময় সেন্ট্রাল ভূমধ্যসাগরে ঢেউয়ের উচ্চতা ছিল ৭ মিটার বা ২২ ফুট এবং বাতাসের গতি ছিল ঘণ্টায় ৫৪ নটের বেশি। এনজিওটির দাবি, গত দুই দশকের মধ্যে ওই সময়ে সবচেয়ে বিপজ্জনক সামুদ্রিক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। এরপর থেকে ইউরোপীয় সামুদ্রিক কর্তৃপক্ষ আর কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।  

তিউনিশিয়ায় অবস্থানরত অভিবাসীদের বরাত দিয়ে সংস্থাটি জানিয়েছে, জানুয়ারির মাঝামাঝি সময়ে স্ফ্যাক্সের অস্থায়ী শিবিরগুলোতে নিরাপত্তা বাহিনীর চাপ বাড়লেও উপকূলীয় অঞ্চল থেকে একাধিক নৌকা সাগরে নামানো হয়েছিল। অভিবাসীরা জানিয়েছেন, অনেক নৌকা আর কখনো ফিরে আসেনি। এক দালাল পাঁচটি নৌকা পাঠিয়েছিল, প্রতিটিতে ৫০ থেকে ৫৫ জন করে মানুষ ছিলেন।  

২২ জানুয়ারি একটি নৌকা লাম্পেদুসায় পৌঁছেছিল। ওই নৌকা থেকে একজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয় এবং এক বছরের যমজ শিশুও নিখোঁজ হয়। অন্য নৌকাগুলো সাগরে হারিয়ে গেছে বলে ধারণা করছে এনজিওটি। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে মাল্টা কর্তৃপক্ষ সাগর থেকে ডজনখানেক মরদেহ উদ্ধার করেছে। ৩০ জানুয়ারি মাল্টার সার্চ অ্যান্ড রেসকিউ অঞ্চলে উদ্ধারকারী জাহাজ ওশান ভাইকিং এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করে সিরাকুজায় পাঠিয়েছে।  

মেডিটেরানিয়া সেভিং হিউম্যানস বলছে, তথ্য এখনো খণ্ডিত এবং কখনো কখনো পরস্পরবিরোধী। তবে সেন্ট্রাল ভূমধ্যসাগরে যা ঘটেছে তার ব্যাপ্তি সরকারি রিপোর্টের চেয়ে অনেক ভয়াবহ। নিখোঁজ ব্যক্তিদের শত শত পরিবার, আত্মীয় ও বন্ধুরা গভীর হতাশায় দিন কাটাচ্ছেন।

Logo