যুক্তরাজ্যে দারিদ্র্য ও সরকারি ভাতা নেওয়ার শীর্ষে বাংলাদেশিরা
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৯:৫৬
যুক্তরাজ্যে বসবাসরত বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে দারিদ্র্যের হার ও সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরতায় শীর্ষে অবস্থান করছে বাংলাদেশি অভিবাসীরা। সাম্প্রতিক গবেষণা ও সরকারি পরিসংখ্যানে উঠে এসেছে, দেশটিতে বসবাসরত বাংলাদেশিদের অর্ধেকেরও বেশি দারিদ্র্যের শিকার।
জোসেফ রাউন্ট্রি ফাউন্ডেশনের (জেআরএফ) এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাজ্যের সামগ্রিক দারিদ্র্যের হার ২১ শতাংশ হলেও বাংলাদেশি পরিবারগুলোর মধ্যে এ হার ৫৩ শতাংশ। শ্বেতাঙ্গ পরিবারগুলোর মধ্যে দারিদ্র্যের হার ১৮ শতাংশ, পাকিস্তানি পরিবারে ৪৯ শতাংশ, চীনা পরিবারে ৩৬ শতাংশ এবং ভারতীয় পরিবারে ২৬ শতাংশ। অর্থাৎ বাংলাদেশিদের দারিদ্র্যের হার অন্যান্য অভিবাসী গোষ্ঠীর তুলনায়ও বেশি।
চরম দারিদ্র্যের ক্ষেত্রেও বাংলাদেশিরা শীর্ষে। শ্বেতাঙ্গ পরিবারে চরম দারিদ্র্যের হার ৮ শতাংশ হলেও বাংলাদেশি পরিবারে তা প্রায় ২৩ শতাংশ। শিশুদের ক্ষেত্রে চিত্র আরো ভয়াবহ। বাংলাদেশি শিশুদের ৬৫ শতাংশ দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করছে, যেখানে শ্বেতাঙ্গ শিশুদের মধ্যে এ হার ২৪ শতাংশ। অন্তত ২৮ শতাংশ বাংলাদেশি শিশু চরম দারিদ্র্যের মধ্যে বেড়ে উঠছে।
২০১১ থেকে ২০২৩ সালের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ১১ শতাংশ বাংলাদেশি পরিবার দীর্ঘমেয়াদি চরম দারিদ্র্যের শিকার, যেখানে শ্বেতাঙ্গদের ক্ষেত্রে এ হার মাত্র ২ শতাংশ। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কর্মসংস্থানের অভাব, পরিবারের বড় আকার এবং লন্ডনের মতো ব্যয়বহুল শহরে উচ্চ আবাসন ব্যয় বাংলাদেশি পরিবারগুলোর অর্থনৈতিক সংকটকে গভীর করছে।
সরকারি সহযোগিতার ওপর নির্ভরতায়ও বাংলাদেশিরা এগিয়ে। ২০১৮ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত ৫২ শতাংশ বাংলাদেশি কোনো না কোনো ধরনের সরকারি সহযোগিতা নিয়েছেন। পাকিস্তানিদের মধ্যে এ হার ৪৮ শতাংশ, ভারতীয়দের মধ্যে ৩৯ শতাংশ, চীনাদের মধ্যে ২৫ শতাংশ এবং কৃষ্ণাঙ্গদের মধ্যে ৪০ শতাংশ।
এ পরিস্থিতি যুক্তরাষ্ট্রেও আলোচনায় এসেছে। দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানুয়ারিতে প্রকাশিত এক তালিকায় দেখান, যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি অভিবাসী পরিবারগুলোর ৫৪.৮ শতাংশ সরকারি সুবিধা গ্রহণ করে। এর পরপরই বাংলাদেশসহ ২৫টি দেশকে ভিসা বন্ড শর্তযুক্ত তালিকায় যুক্ত করে যুক্তরাষ্ট্র। অভিবাসনসংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা করছেন, যুক্তরাজ্যও একই ধরনের পদক্ষেপ নিতে পারে।
অভিবাসন গবেষক তাসনিম সিদ্দিকী মনে করেন, এসব তথ্য উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ছড়ানো হচ্ছে। তিনি বলেন, “পশ্চিমা দেশগুলোতে অভিবাসনবিরোধী গণজোয়ার চলছে। বাংলাদেশিদের দারিদ্র্যকে অভিবাসনবিরোধী প্রচারণার হাতিয়ার বানানো হচ্ছে। যারা নাগরিকত্ব পেয়েছেন, তাদের এখনো ‘মাইগ্র্যান্ট’ বলা হচ্ছে, যা আইনগতভাবে সঠিক নয়।”
যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশি অভিবাসীদের দারিদ্র্য ও সরকারি সহযোগিতার ওপর নির্ভরতা শুধু অর্থনৈতিক সংকট নয়, বরং অভিবাসন নীতিতে নতুন কড়াকড়ির আশঙ্কাও তৈরি করছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উন্নত বিশ্বে অভিবাসীদের দারিদ্র্যের দায়ভার সেই রাষ্ট্রগুলোরই ব্যর্থতা, বাংলাদেশের নয়।
logo-1-1740906910.png)