Logo
×

Follow Us

ইউরোপ

ইতালিতে জাহাজ ডুবির ঘটনায় পুলিশ ও কোস্টগার্ডের বিচার শুরু

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১১:৪৪

ইতালিতে জাহাজ ডুবির ঘটনায় পুলিশ ও কোস্টগার্ডের বিচার শুরু

ইতালিতে ২০২৩ সালে সংঘটিত অভিবাসনপ্রত্যাশীদের বহন করা এক ভয়াবহ জাহাজ ডুবির ঘটনায় পুলিশ ও কোস্টগার্ডের ছয় সদস্যের বিচার শুরু হয়েছে। দক্ষিণ ইতালির কালাব্রিয়া উপকূলে ঘটে যাওয়া এই দুর্ঘটনায় অন্তত ৯৪ জন প্রাণ হারান, যাদের মধ্যে ৩৫ জন ছিল শিশু। এটি গত এক দশকের মধ্যে ইতালির সবচেয়ে ভয়াবহ নৌ দুর্ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।  

তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে সময়মতো উদ্ধার তৎপরতা চালাতে ব্যর্থ হওয়ার কারণে। প্রসিকিউটররা বলছেন, পুলিশ ও কোস্টগার্ডের অবহেলা এবং দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতার কারণে এই দুর্ঘটনা আরো ভয়াবহ হয়ে ওঠে।  

২০২৩ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি পর্যটন শহর কুত্রোর উপকূলে পাথরে আছড়ে পড়ে নৌকাটি। তুরস্ক থেকে যাত্রা শুরু করা এই নৌকায় আফগানিস্তান, ইরান, পাকিস্তান ও সিরিয়ার নাগরিক ছিলেন। প্রায় ৮০ জন প্রাণে বেঁচে গেলেও অনেকের লাশ আর উদ্ধার করা যায়নি। দুর্ঘটনার পর সৈকতে ভেসে আসে বহু লাশ, যা কাছের একটি ক্রীড়া হলে রাখা হয়, প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য বাদামি রঙের এবং শিশুদের জন্য সাদা কফিনে।  

নিকটবর্তী ক্রোটোনে শহরে ইতালির গার্দিয়া দ্য ফিনানজা (জিডিএফ) আর্থিক অপরাধ দমন পুলিশের চার কর্মকর্তা এবং কোস্টগার্ডের দুই সদস্যের বিরুদ্ধে অনিচ্ছাকৃত হত্যাকাণ্ড ও দায়সাপেক্ষ জাহাজ ডুবির অভিযোগ আনা হয়েছে। ইতালির দণ্ডবিধি অনুযায়ী, দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতার ফলে এমন দুর্ঘটনার জন্য শাস্তির বিধান রয়েছে।  

ইউরোপীয় ইউনিয়নের সীমান্ত সংস্থা ফ্রন্টেক্সের একটি বিমান বিপদগ্রস্ত নৌকাটিকে ইতালির উপকূল থেকে প্রায় ৩৮ কিলোমিটার দূরে শনাক্ত করেছিল। সঙ্গে সঙ্গে বিষয়টি ইতালীয় কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়। এরপর জিডিএফ পুলিশের একটি নৌযান পাঠানো হলেও বৈরী আবহাওয়ার কারণে সেটি মাঝপথ থেকে ফিরে আসে। শেষ পর্যন্ত অভিবাসনপ্রত্যাশীদের নৌকাটি সৈকতের কাছে পাথরের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে উল্টে যায়।  

প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, পুলিশ উপকূলরক্ষীদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়েছে। অন্যদিকে উপকূলরক্ষী বাহিনীর সদস্যরাও পুলিশের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করেননি, যা পরিস্থিতির জরুরি গুরুত্ব তাদের সামনে স্পষ্ট করতে পারত।  

এই দুর্ঘটনার পর ইতালির কট্টর ডানপন্থি প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়। উত্তর আফ্রিকা থেকে নৌপথে আসা অভিবাসীদের বিষয়ে সরকারের কঠোর অবস্থানকে অনেকেই দায়ী করেন।

Logo