Logo
×

Follow Us

ইউরোপ

ব্রিটেনে দরিদ্রদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বাংলাদেশি

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২৮ জানুয়ারি ২০২৬, ০৯:১৭

ব্রিটেনে দরিদ্রদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বাংলাদেশি

বিশ্বের অন্যতম উন্নত দেশ যুক্তরাজ্যে দারিদ্র্য আবারো বেড়েছে। জোসেফ রাউনট্রি ফাউন্ডেশন (জেআরএফ) প্রকাশিত সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে সেখানে প্রায় ৬৮ লাখ মানুষ অতিদারিদ্র্যের মধ্যে বসবাস করছেন, যা গত তিন দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ।  

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, যুক্তরাজ্যে বসবাসরত বাংলাদেশি ও পাকিস্তানি সম্প্রদায়ের মধ্যে দারিদ্র্যের হার সবচেয়ে বেশি। বাংলাদেশিদের মধ্যে প্রায় ৫৩ শতাংশ এবং পাকিস্তানিদের মধ্যে প্রায় ৪৯ শতাংশ পরিবার অতিদারিদ্র্যের শিকার। শিশুদের ক্ষেত্রে এই হার আরো বেশি; বাংলাদেশি শিশুদের মধ্যে ৬৫ শতাংশ এবং পাকিস্তানি শিশুদের মধ্যে ৬০ শতাংশ দারিদ্র্যের মধ্যে বেড়ে উঠছে।

ব্রিটেনে ‘অতিদারিদ্র্য’ বলতে বোঝায় এমন পরিবারকে, যাদের বাড়ি ভাড়া দেওয়ার পর হাতে থাকা আয় জাতীয় গড় আয়ের তুলনায় অনেক কম। যেমন- দুই সন্তানসহ একটি পরিবারের বার্ষিক আয় যদি ১৬ হাজার ৪০০ পাউন্ডের নিচে হয়, তবে তারা অতিদারিদ্র্য শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত। এর অর্থ ব্রিটেনে বসবাসরত বেশির ভাগ বাংলাদেশি পরিবারের আয় গড় আয়ের তুলনায় প্রায় ৪০ শতাংশ কম।  

জেআরএফ জানিয়েছে, সামগ্রিক দারিদ্র্যের হার কিছুটা কমেছে। ১৯৯৪-৯৫ সালে যেখানে দারিদ্র্যের হার ছিল ২৪ শতাংশ, সেখানে ২০২৩-২৪ সালে তা নেমে এসেছে ২১ শতাংশে। তবে অতিদারিদ্র্যের হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০ শতাংশে, যা আগের ৮ শতাংশের তুলনায় বেশি। অর্থাৎ প্রায় অর্ধেক মানুষই কোনো না কোনোভাবে দারিদ্র্যের মধ্যে রয়েছেন।  

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দারিদ্র্যের সবচেয়ে বড় শিকার শিশুরা। বর্তমানে প্রায় ৪৫ লাখ শিশু দারিদ্র্যের মধ্যে বড় হচ্ছে। গত তিন বছর ধরে টানা দরিদ্র শিশুর সংখ্যা বেড়েছে। এছাড়া শারীরিক প্রতিবন্ধীরাও দারিদ্র্যের বড় ভুক্তভোগী।  

২০১৭ সালে ব্রিটিশ সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, নিম্ন আয়ের পরিবারে দুই সন্তানের বেশি সন্তান থাকলে তারা সামাজিক সুরক্ষা সহায়তা পাবে না। তবে গত এপ্রিলে বর্তমান অর্থমন্ত্রী র‌্যাচেল রিভস এই নিয়ম বাতিল করেছেন। জেআরএফ এই উদ্যোগকে ইতিবাচক বলে উল্লেখ করলেও সতর্ক করেছে যে, শুধু এই পদক্ষেপই শিশু দারিদ্র্য কমাতে যথেষ্ট নয়।   

দারিদ্র্যবিরোধী সংস্থা বিগ ইস্যুর প্রতিষ্ঠাতা জন বার্ড এই প্রতিবেদনের ফলাফলকে ‘সমাজের জন্য বড় দুঃসংবাদ’ বলে মন্তব্য করেছেন। তার মতে, উন্নত দেশে এত বিপুল সংখ্যক মানুষ অতিদারিদ্র্যে বসবাস করা একটি গুরুতর সামাজিক সংকেত।

Logo