Logo
×

Follow Us

ইউরোপ

রাশিয়ায় চাকরির প্রলোভনে গিয়ে যুদ্ধক্ষেত্রে বাংলাদেশি শ্রমিকরা

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২৭ জানুয়ারি ২০২৬, ১৬:৩৯

রাশিয়ায় চাকরির প্রলোভনে গিয়ে যুদ্ধক্ষেত্রে বাংলাদেশি শ্রমিকরা

অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে ভয়াবহ এক বাস্তবতা। বাংলাদেশি শ্রমিকদের রাশিয়ায় চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে নিয়ে গিয়ে ইউক্রেনের যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানো হয়েছে। অনেকে ভেবেছিলেন তারা পরিচ্ছন্নতাকর্মী, ইলেকট্রিশিয়ান বা রাঁধুনি হিসেবে কাজ করবেন। কিন্তু পৌঁছানোর পর তাদের হাতে ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে সামরিক চুক্তি, অস্ত্র এবং যুদ্ধের প্রশিক্ষণ।  

লক্ষ্মীপুরের মাকসুদুর রহমান, মুন্সীগঞ্জের মোহন মিয়াজীসহ কয়েকজন বাংলাদেশি শ্রমিক এপিকে জানিয়েছেন, তারা রাশিয়ায় পৌঁছানোর পর জোর করে সামরিক চুক্তিতে সই করানো হয়। এরপর তাদের ড্রোন যুদ্ধ, চিকিৎসা সহায়তা এবং ভারী অস্ত্র ব্যবহারের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। মাকসুদুর বলেন, তিনি প্রতিবাদ করলে রুশ কমান্ডার অনুবাদ অ্যাপের মাধ্যমে বলেন, “তোমাদের এজেন্ট তোমাদের এখানে পাঠিয়েছে। আমরা তোমাদের কিনে এনেছি।”  

শ্রমিকদের অভিযোগ, তাদের ভয় দেখানো হয়েছে ১০ বছরের কারাদণ্ডের। কেউ কাজ করতে অস্বীকার করলে মারধর করা হয়েছে। মাকসুদুর সাত মাস পর পালিয়ে দেশে ফেরেন। তার সঙ্গে থাকা অনেকেই নিখোঁজ।  

মোহন মিয়াজী জানান, তাকে বলা হয়েছিল ইলেকট্রিশিয়ান হিসেবে কাজ করতে হবে। কিন্তু তাকে পাঠানো হয় ইউক্রেন সীমান্তে। সেখানে তাকে মৃতদেহ সংগ্রহ, আহত সৈন্য বহন এবং সামনের সারিতে কাজ করতে বাধ্য করা হয়। অস্বীকার করলে তাকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয়েছে।  

লক্ষ্মীপুরের সালমা আক্তার মাসের পর মাস স্বামী আজগর হোসেনের কোনো খোঁজ পাননি। শেষবার তিনি জানিয়েছিলেন, তাকে রুশ সেনাবাহিনীতে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। একই জেলার মোহাম্মদ সিরাজ তার ছেলে সাজ্জাদের মৃত্যুর খবর পান সহযোদ্ধার কাছ থেকে। সাজ্জাদ রাঁধুনি হিসেবে কাজ করতে গিয়েছিলেন, কিন্তু যুদ্ধক্ষেত্রে ড্রোন হামলায় নিহত হন।  

এপির হাতে থাকা নথি, ভিসা, সামরিক চুক্তি ও চিকিৎসা প্রতিবেদন প্রমাণ করছে যে, বাংলাদেশি শ্রমিকদের যুদ্ধক্ষেত্রে জোরপূর্বক পাঠানো হয়েছে। কতজন এভাবে প্রতারিত হয়েছেন তা স্পষ্ট নয়। তবে প্রত্যক্ষদর্শীরা শত শত বাংলাদেশিকে রুশ বাহিনীর সঙ্গে দেখেছেন।  

বাংলাদেশি পরিবারগুলো এজেন্টদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন। ব্র্যাকের অনুসন্ধানে অন্তত ১০ জন নিখোঁজের তথ্য পাওয়া গেছে। পুলিশও একটি মানব পাচার চক্রের সন্ধান পেয়েছে, যারা বাংলাদেশি এজেন্টদের মাধ্যমে শ্রমিক পাঠাচ্ছিল। তদন্তে জানা গেছে, প্রায় ৪০ জন বাংলাদেশি হয়তো প্রাণ হারিয়েছেন।  

এই ভয়াবহ ঘটনার পেছনে রয়েছে দারিদ্র্য ও কর্মসংস্থানের সংকট। বিদেশে কাজ করে পরিবার চালানো বাংলাদেশের অনেক পরিবারের জন্য অপরিহার্য হয়ে উঠেছে। কিন্তু রাশিয়ার চাকরির প্রলোভন তাদের জীবনকে যুদ্ধক্ষেত্রে ঠেলে দিয়েছে।  

সব মিলিয়ে রাশিয়ায় চাকরির নামে বাংলাদেশি শ্রমিকদের যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানো মানব পাচারের এক ভয়াবহ রূপ। পরিবারগুলো এখন শুধু প্রিয়জনদের ফেরার অপেক্ষায় দিন কাটাচ্ছে।

Logo