Logo
×

Follow Us

ইউরোপ

ভূমধ্যসাগরে অভিবাসীদের মৃত্যু ও নিখোঁজ: জাতিসংঘের সতর্কতা

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২৭ জানুয়ারি ২০২৬, ১৬:৩৮

ভূমধ্যসাগরে অভিবাসীদের মৃত্যু ও নিখোঁজ: জাতিসংঘের সতর্কতা

গত ১০ দিনে ভূমধ্যসাগর পার হতে গিয়ে একাধিক জাহাজডুবির ঘটনায় কয়েকশ মানুষ নিখোঁজ হয়েছেন অথবা মারা গেছেন বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের অভিবাসন সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন ফর মাইগ্রেশন (আইওএম)। সংস্থাটি বলছে, চূড়ান্ত সংখ্যাটি আরো অনেক বেশি হতে পারে। এ বাস্তবতা আবারো মনে করিয়ে দিচ্ছে যে ভূমধ্যসাগর এখন বিশ্বের সবচেয়ে প্রাণঘাতী অভিবাসন করিডোর।  

আইওএমের তথ্য অনুযায়ী, তিউনিসিয়ার স্ফ্যাক্স থেকে রওনা হওয়া একটি নৌকা ডুবে যাওয়ার পর উদ্ধারকৃতদের মধ্যে এক বছর বয়সী দুই যমজ শিশুসহ তিনজন ইতালির ল্যাম্পেডুজা দ্বীপে মারা যায়। শিশু দুটির গিনিয়ান মা বেঁচে গেছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, শিশু দুটি হাইপোথার্মিয়ায় মারা গেছে। একই কারণে একজন পুরুষেরও মৃত্যু হয়েছে।  

বেঁচে যাওয়া আরোহীরা জানিয়েছেন, স্ফ্যাক্স থেকে তাদের সঙ্গে আরেকটি নৌকা রওনা হয়েছিল কিন্তু সেটি আর আসেনি। তাদের ভাগ্যে কী ঘটেছে তা অজানা রয়ে গেছে। আইওএম বলছে, ঘূর্ণিঝড় হ্যারির কারণে ভূমধ্যসাগর উত্তাল হয়ে আছে। এর মধ্যে গত ১০ দিনে বেশ কয়েকটি নৌকা নিরুদ্দেশ হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। খারাপ আবহাওয়ার কারণে তল্লাশি অভিযানও ব্যাহত হচ্ছে।  

মাল্টার কাছে একটি বাণিজ্যিক জাহাজ আরেকটি ডুবে যাওয়া নৌকার আরোহীদের উদ্ধার করেছে। তবে ওই নৌকার ৫০ জন যাত্রী নিখোঁজ রয়েছেন অথবা মারা গেছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। পৃথক আরেক ঘটনায় লিবিয়ার তব্রুক উপকূলে একটি জলযান ডুবির ঘটনায় আরো ৫১ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে আইওএম।  

সংস্থাটি বলেছে, সমুদ্রযাত্রার জন্য অনুপযুক্ত নৌকায় অতিরিক্ত আরোহী নিয়ে অভিবাসীদের পাচার করা ফৌজদারি অপরাধ। তীব্র ঝড়ের সময় মানুষকে জেনেশুনে সমুদ্রে পাঠানো আরো নিন্দনীয়, কারণ এতে মৃত্যুর ঝুঁকি প্রায় নিশ্চিত হয়ে যায়।  

আইওএমের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত বছর অর্থাৎ ২০২৫ সালে ভূমধ্যসাগরের মধ্যাঞ্চলে অন্তত ১ হাজার ৩৪০ জন অভিবাসন প্রত্যাশীর মৃত্যু হয়েছে।  

সব মিলিয়ে, ভূমধ্যসাগর অভিবাসীদের জন্য সবচেয়ে বিপজ্জনক পথ হিসেবে আবারো প্রমাণিত হলো। জাতিসংঘের সংস্থাগুলো বলছে, মানব পাচারকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা না নিলে এই মৃত্যুর মিছিল থামানো সম্ভব নয়।

Logo