ভারতের ৭৭তম প্রজাতন্ত্র দিবস উদযাপন উপলক্ষে এবার প্রধান অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ দুই নেতাকে ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন এবং ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও কস্তা। এটি প্রথমবারের মতো ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতৃত্বকে একসঙ্গে আমন্ত্রণ জানানো হলো, যা ভারত-ইইউ সম্পর্কের নতুন অধ্যায় সূচিত করছে।
দ্য ইকোনমিক টাইমসের প্রতিবেদন বলছে, ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রজাতন্ত্র দিবসে ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতৃত্ব ছাড়াও আরো কয়েকজন বিশ্বনেতা উপস্থিত থাকবেন। এর মধ্যে রয়েছে:
ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাক্রোঁ: ভারত-ফ্রান্স কৌশলগত অংশীদারিত্বের ধারাবাহিকতায় তাকে বিশেষভাবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
জার্মানির চ্যান্সেলর ওলাফ শলৎস: ইউরোপীয় ইউনিয়নের অন্যতম প্রভাবশালী নেতা হিসেবে তার উপস্থিতি ভারত-ইইউ সম্পর্ককে আরো দৃঢ় করবে।
জাপানের প্রধানমন্ত্রী ফুমিও কিশিদা: ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে সহযোগিতা বাড়াতে ভারত-জাপান সম্পর্কের গুরুত্ব তুলে ধরতে তাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান: উপসাগরীয় অঞ্চলে ভারতের অন্যতম বড় অংশীদার হিসেবে তার উপস্থিতি বিশেষ তাৎপর্য বহন করবে।
ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দ্য সিলভা: গ্লোবাল সাউথের প্রতিনিধিত্ব হিসেবে তাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
২০২৬ সালের অনুষ্ঠানে ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতৃত্বকে আমন্ত্রণ জানানোর মাধ্যমে ভারত স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে যে, ইউরোপকে তারা দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত অংশীদার হিসেবে দেখছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভারত-ইইউ সম্পর্ক উল্লেখযোগ্যভাবে ঘনিষ্ঠ হয়েছে। মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা চলছে, প্রযুক্তি ও সাইবার নিরাপত্তায় যৌথ উদ্যোগ বাড়ছে এবং জলবায়ু পরিবর্তন ও জ্বালানি নিরাপত্তায় ইইউ ভারতের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হয়ে উঠছে।
অতীতেও ভারতের প্রজাতন্ত্র দিবসে অতিথি নির্বাচন কূটনৈতিক বার্তা বহন করেছে। ২০১৫ সালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ছিলেন প্রধান অতিথি। ২০১৮ সালে আসিয়ান দেশগুলোর নেতাদের সম্মিলিতভাবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। ২০২৪ সালে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাক্রোঁ প্রধান অতিথি ছিলেন। এবার ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ দুই নেতাকে একসঙ্গে আমন্ত্রণ জানানো সেই ধারাবাহিকতার অংশ হলেও এটি আরো বড় কূটনৈতিক পদক্ষেপ।
প্রজাতন্ত্র দিবসের কুচকাওয়াজে ভারতীয় সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর শক্তি প্রদর্শিত হবে। পাশাপাশি ভারতের সাংস্কৃতিক বহুমাত্রিকতা তুলে ধরা হবে। বিদেশি অতিথিদের উপস্থিতি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ভারতের অবস্থানকে আরো দৃঢ় করে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের নেতাদের উপস্থিতি শুধু প্রতীকী নয়, বরং এটি ভারত-ইইউ সম্পর্কের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা। বাণিজ্য, প্রযুক্তি ও কৌশলগত সহযোগিতায় নতুন অধ্যায় সূচিত হতে পারে।
logo-1-1740906910.png)