Logo
×

Follow Us

ইউরোপ

ইইউ ছাড়ার নোটিশ পেয়েছে এক লাখেরও বেশি অভিবাসী

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২৭ জানুয়ারি ২০২৬, ১০:০৭

ইইউ ছাড়ার নোটিশ পেয়েছে এক লাখেরও বেশি অভিবাসী

২০২৫ সালের শেষ তিন মাসে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) বিভিন্ন দেশ থেকে মোট এক লাখ ১৫ হাজার ৪৪০ জন অভিবাসীকে দেশ ছাড়ার আইনি নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ইউরোপীয় কমিশনের পরিসংখ্যান দপ্তর ইউরোস্ট্যাটের সর্বশেষ প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে।  

এই সংখ্যা ২০২৪ সালের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ২ দশমিক ৭ শতাংশ বেশি। ইউরোস্ট্যাট জানিয়েছে, ইইউভুক্ত দেশগুলোতে অনিয়মিত অবস্থানের কারণে এসব অভিবাসীর বিরুদ্ধে দেশ ছাড়ার বাধ্যবাধকতা জারি করা হয়েছে।  

জাতীয়তার ভিত্তিতে দেখা যায়, সবচেয়ে বেশি আদেশ পেয়েছেন আলজেরিয়ার নাগরিকেরা। ২০২৫ সালের শেষ তিন মাসে ১২ হাজার ৩২৫ জন আলজেরীয়কে ইউরোপের বিভিন্ন দেশ ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যা মোট আদেশের প্রায় ১০ শতাংশ। এরপর মরক্কোর ৬ হাজার ৬৭০ জন এবং তুরস্কের ৬ হাজার ৩৫০ জন নাগরিককে একই ধরনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।  

দেশভিত্তিক হিসাবে ফ্রান্স শীর্ষে রয়েছে। দেশটি ৩৩ হাজার ৭৬০ জন অভিবাসীর বিরুদ্ধে দেশ ছাড়ার আদেশ দিয়েছে। দ্বিতীয় অবস্থানে জার্মানি, যেখানে ১২ হাজার ৫০০ জনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গ্রিসে এই সংখ্যা ১০ হাজার ১০০ জন। এই তিনটি দেশ মিলেই ইইউতে জারি করা মোট আদেশের প্রায় অর্ধেকের প্রতিনিধিত্ব করছে।

২০২৫ সালের শেষ তিন মাসে যাদের বিরুদ্ধে দেশ ছাড়ার আদেশ জারি হয়েছিল, তাদের মধ্যে ৩৪ হাজার অভিবাসী নিজ দেশে ফিরে গেছেন। আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় এই সংখ্যা ১৪ শতাংশ বেশি। এদের মধ্যে ১৩ হাজার ৫১০ জনকে পুলিশি প্রহরায় জোরপূর্বক ফেরত পাঠানো হয়েছে। বাকিরা স্বেচ্ছায় দেশে ফিরেছেন। ইউরোস্ট্যাট বলছে, ইইউতে মোট প্রত্যাবর্তনের প্রায় ৬০ শতাংশ স্বেচ্ছায় এবং ৪০ শতাংশ জোরপূর্বক হয়ে থাকে।  

প্রত্যাবাসন কার্যকর করার দিক থেকে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে জার্মানি। দেশটি থেকে সাত হাজার ১৯০ জন অভিবাসী নিজ দেশে ফিরে গেছেন। একই সময়ে ফ্রান্স থেকে ফিরেছেন তিন হাজার ৭৬০ জন এবং সাইপ্রাস থেকে তিন হাজার জন। শুধু জোরপূর্বক বহিষ্কারের হিসাব করলে দেখা যায়, এখানেও জার্মানি শীর্ষে রয়েছে। দেশটি তিন হাজার ৭১০ জনকে জোরপূর্বক ফেরত পাঠিয়েছে। এরপর ফ্রান্স থেকে এক হাজার ৪৩৫ জন এবং ইতালি থেকে এক হাজার ১০০ জনকে ফেরত পাঠানো হয়েছে।  

জোরপূর্বক প্রত্যাবর্তনের হার সবচেয়ে বেশি ইতালিতে, যেখানে সব অভিবাসীকে জোরপূর্বক ফেরত পাঠানো হয়েছে। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ডেনমার্ক, যেখানে এই হার ৯১ শতাংশ। ফ্রান্সে তুলনামূলক কম, সেখানে ৩৮ শতাংশ জোরপূর্বক এবং ৬১ শতাংশ স্বেচ্ছায় ফিরে গেছেন।  

ইউরোস্ট্যাটের প্রতিবেদনে দেখা গেছে, আলজেরীয় নাগরিকদের ক্ষেত্রে প্রত্যাবাসনের হার খুবই কম। ২০২৫ সালের শেষ তিন মাসে মাত্র ৩৫০ জন আলজেরীয়কে জোরপূর্বক ফেরত পাঠানো সম্ভব হয়েছে। এর অন্যতম কারণ হলো, আলজেরিয়া খুব কম ক্ষেত্রেই কনস্যুলার পাস ইস্যু করে। এই নথি ছাড়া পাসপোর্টবিহীন অভিবাসীদের বহিষ্কার করা যায় না। ফ্রান্স দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে, আলজেরিয়া এই ধরনের নথি দিতে দেরি করে বা অনেক সময় প্রত্যাখ্যান করে।  

আলজেরিয়ার প্রেসিডেন্ট আবদেলমাজিদ তেব্বুন সম্প্রতি ঘোষণা দিয়েছেন, বিদেশে অবস্থানরত অনিয়মিত অভিবাসীদের দায়মুক্তি প্রদানের লক্ষ্যে একটি ডিক্রি জারি করা হবে। তবে গবেষকরা বলছেন, এই ঘোষণার বাস্তব প্রভাব এখনই নিশ্চিত নয়। শর্ত ও প্রয়োগের ক্ষেত্র স্পষ্ট না হওয়ায় ব্যাপক প্রত্যাবাসনের সম্ভাবনা কম।

Logo