Logo
×

Follow Us

ইউরোপ

কোন পথে যাবে ইউরোপ?

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২২ ডিসেম্বর ২০২৪, ১৮:৩৩

কোন পথে যাবে ইউরোপ?

ইউরোপের শক্তিশালী অর্থনীতির দেশগুলোতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে অভিবাসীরা৷

ইউরোপীয় দেশগুলির রাজনীতির প্রধান আলোচ্য বিষয় এখন অভিবাসন৷ দেশে দেশে ডানপন্থিদের উত্থান সেটাকে আরো উসকে দিয়েছে৷ তারা চায়, অভিবাসীর সংখ্যা সীমিত রাখতে৷ কিন্তু অর্থনীতি বাঁচাতে গেলে এসব দাবিকে আমলে নেয়ার সুযোগ কম সরকারগুলোর৷ প্রকাশ্যে অভিবাসনবিরোধী অবস্থান নেয়া বেশ কয়েকটি দেশ এখন বিদেশি কর্মীদের আকৃষ্ট করার চেষ্টা করছে৷ 

শ্রমঘাটতির মুখে পড়া দেশগুলো ৪২টি পেশাকে চিহ্নিত করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন৷ এসব পেশায় বিদেশি কর্মীদের আকৃষ্ট করতে নেয়া হচ্ছে কর্মপরিকল্পনা৷ কারণ, জোটভুক্ত দেশের অন্তত দুই-তৃতীয়াংশ ছোট এবং মাঝারি পর্যায়ের ব্যবসায়ীরা বলছেন, তারা তাদের প্রয়োজনীয় কাজের লোক খুঁজে পাচ্ছেন না৷

অনেক ইউরোপীয় নেতা, বিশেষ করে যারা ডানপন্থি, তারা অভিবাসীদের আগমন ঠেকাতে এবং তাদের অন্য কোথাও পাঠিয়ে দিতে, তৃতীয় দেশের সঙ্গে চুক্তির কথা বলছেন৷ আবার কোনো কোনো দেশ অভিবাসীদের প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করে, আইনি পরিবর্তন করেছে কিংবা করতে যাচ্ছে৷

শ্রমবাজারের শূন্যতা পূরণে হাজারো বিদেশি কর্মী নিয়োগ দিতে চায় ইটালির অতি-ডানপন্থি হিসাবে পরিচিতি প্রধানমন্ত্রী জর্জিও মেলোনি৷ গত বছর ইটালি সরকার জানিয়েছে, ২০২৩ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে চার লাখ ৫২ হাজার বিদেশি কর্মী নিয়োগ দিতে চায় তারা৷ এই সংখ্যাটিও তাদের চাহিদার তুলনায় প্রায় অর্ধেক৷ কারণ, এই সময়কালে তাদের প্রয়োজন অন্তত আট লাখ ৩৩ হাজার কর্মী৷ 

ইটালির শিক্ষা ও গবেষণা কেন্দ্র আইডিওএস জানিয়েছে, কৃষি, পর্যটন ও স্বাস্থ্যসেবার মতো খাতগুলোকে গতিশীল রাখতে প্রতি বছর ইটালিতে অন্তত দুই লাখ ৮০ হাজার কর্মীর প্রয়োজন রয়েছে৷ শ্রমঘাটতি দূর করতে হলে এই ধারা অব্যাহত রাখতে হবে ২০৫০ সাল পর্যন্ত৷ ৩৭টি পেশায় কর্মী সংকটে রয়েছে দেশটি৷ নার্স এবং স্বাস্থ্যখাতে অন্যান্য কর্মীদের চাহিদা এই মুহূর্তে সবচেয়ে বেশি৷

ইতালি সরকার সম্প্রতি জানিয়েছে, ভারত থেকে ১০ হাজার নার্স নিয়োগ দেয়া হবে৷ তাতেও নার্স সংকট দূর হবে না৷ ইটালির স্বাস্থ্যমন্ত্রী ওরাৎসিও শিলাচি অক্টোবরে বলেছেন, ভারতে ৩৩ লাখ প্রশিক্ষিত নার্স রয়েছেন৷ তাদের মধ্যে আমরা ১০ হাজার নার্সকে নিয়োগ দিতে চান তারা৷

মিলান বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞানের অধ্যাপক এবং অভিবাসন বিশেষজ্ঞ মাউরিৎসিও আমব্রোসিনি ডিডাব্লিউকে বলেন, নিয়োগকর্তাদের কর্মী প্রয়োজন, তাই তাদের চাপেই মেলোনির সরকার নীতি পরিবর্তনে বাধ্য হয়েছেন৷

অন্যদিকে, নেদারল্যান্ডস সরকার ইউরোপীয় ইউনিয়নের আশ্রয় ব্যবস্থা থেকে অব্যাহতি চেয়েছে৷ যদিও আশ্রয়কে একটি মৌলিক অধিকার হিসাবে দেখা হয় এবং তা মেনে চলতে দেশগুলোর আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতাও রয়েছে৷ ফলে, সরকারের এমন কট্টর আচরণের কারণে বিদেশি দক্ষ কর্মীরা নেদারল্যান্ডসের প্রতি আগ্রহ হারাচ্ছে৷

জার্মানি এই বছর দক্ষ কর্মীদের দুই লাখ ভিসা ইস্যু করতে যাচ্ছে৷ যা গত বছরের চেয়ে অন্তত ১০ শতাংশ বেশি৷ এটা হয়েছে ‘অপরচুনিটি কার্ড’ প্রকল্প নেয়ার কারণে৷ এর মাধ্যমে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরের দেশগুলো থেকে আসা কর্মীরা জার্মানিতে থাকার এবং চাকরি খোঁজার অনুমতি পান৷

সম্প্রতি ভারত সফরে গিয়ে জার্মান চ্যান্সেলর ওলাফ শলৎস বলেছেন, জার্মানি ‘‘দক্ষ কর্মীদের জন্য উন্মুক্ত’’ এবং আমলাতান্ত্রিক জটিলতা দূর করে ভারতীয়দের বছরে ২০ হাজার থেকে বাড়িয়ে ৯০ হাজার ভিসা দেয়া হবে৷

প্রায় সব ইউরোপীয় দেশই বয়স্ক জনসংখ্যার কারণে শ্রমঘাটতির মুখে পড়েছে৷ ইউরোপীয় দেশগুলোতে অনিয়মিত অভিবাসীরা আসলেও, ভিসা ছাড়া তাদের আসতে দিতে রাজি নয় কর্তৃপক্ষ৷

তথ্যসূত্র: ইনফো মাইগ্রেন্টস – ২১.১১.২০২৪

Logo