Logo
×

Follow Us

ইউরোপ

সাইপ্রাসে স্বেচ্ছায় দেশে ফেরার সুযোগ অভিবাসীদের

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২১ জানুয়ারি ২০২৬, ১০:০৯

সাইপ্রাসে স্বেচ্ছায় দেশে ফেরার সুযোগ অভিবাসীদের

ইউরোপের দেশ সাইপ্রাসে অভিবাসীদের স্বেচ্ছায় নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার সুযোগ বাড়াতে নতুন একটি কর্মসূচি চালু হয়েছে। দেশটির অভিবাসন বিষয়ক মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে পরিচালিত এই প্রকল্পের বাজেট প্রায় ৮৪ লাখ ইউরো। ইনফো মাইগ্র্যান্টস এ সংবাদ প্রকাশ করেছে।

১৮ মাস মেয়াদি এই কর্মসূচি ইউরোপীয় ইউনিয়নের ‘আশ্রয়, অভিবাসন ও একত্রীকরণ তহবিল’ (AMIF) থেকে অর্থায়ন করা হচ্ছে। এটি ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত চলবে। মূল লক্ষ্য হলো তৃতীয় দেশের নাগরিকদের জন্য স্বেচ্ছা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া সহজ করা এবং এর পরিসর বাড়ানো।  

নতুন কর্মসূচির আওতায় অভিবাসীদের জন্য কাউন্সেলিং ও সহায়তা জোরদার করা হবে। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত করা সহজ হবে এবং ভ্রমণ টিকিটের খরচ বহন করা হবে। একই সঙ্গে নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার পর পুনঃএকত্রীকরণ সহায়তা ও পরবর্তী সময়ে তদারকির ব্যবস্থা থাকবে, যাতে প্রত্যাবাসন টেকসই হয়। কনস্যুলার কর্তৃপক্ষ ও বিমান সংস্থাগুলোর সঙ্গে সহযোগিতা বাড়ানো হবে, যাতে প্রক্রিয়াগত বিলম্ব কমে যায়।  

নিকোসিয়ার অভিবাসন ব্যবস্থাপনা কৌশলের অংশ হিসেবে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলোর মধ্যে জনসংখ্যার তুলনায় সাইপ্রাসেই আশ্রয়প্রার্থীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। দেশটি একাধিকবার ইইউকে অভিবাসন ব্যবস্থাপনায় দায়িত্ব ভাগাভাগির আহ্বান জানিয়েছে। স্বেচ্ছা প্রত্যাবাসন বাড়ানোর মাধ্যমে সাইপ্রাস আশ্রয়কেন্দ্রগুলোর চাপ কমাতে এবং প্রকৃত শরণার্থীদের জন্য জায়গা খালি করতে চায়।  

বেসরকারি সংস্থাগুলো (এনজিও) বলছে, প্রত্যাবাসন অবশ্যই পুরোপুরি স্বেচ্ছাসেবী হতে হবে এবং আবেদনকারীদের নিরপেক্ষ আইনি পরামর্শ পাওয়ার নিশ্চয়তা দিতে হবে। অন্যদিকে ব্যবসায়ী সংগঠনগুলো আশঙ্কা প্রকাশ করেছে, দ্রুত প্রত্যাবাসন শুরু হলে স্বল্প দক্ষ শ্রমবাজারে ঘাটতি তৈরি হতে পারে, যদি একই সঙ্গে কাজের অনুমতিপত্র প্রদানের নীতিতে পরিবর্তন না আনা হয়।  

আন্তর্জাতিক শ্রম ও জনবল ব্যবস্থাপনার সঙ্গে যুক্ত কর্মকর্তারা মনে করছেন, এই প্রকল্পের ফলে যেসব কর্মীর আশ্রয় আবেদন প্রত্যাহার করা হয়েছে, তাদের পরিবারের জন্য প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ হতে পারে। একই সঙ্গে অনিশ্চিত আইনি অবস্থার অভিবাসী নিয়োগের ঝুঁকিও কমবে।  

সাইপ্রাস বর্তমানে ইউরোপীয় ইউনিয়নের কাউন্সিলের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছে। তাই অভিবাসন ও আশ্রয় চুক্তি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার আগে দেশটি ‘মানবিক কিন্তু কার্যকর’ অবস্থান তুলে ধরতে চাইছে। চলতি মাসের শেষ নাগাদ অভিবাসন বিষয়ক উপমন্ত্রী বিস্তারিত নির্দেশনা ও প্রয়োজনীয় যোগাযোগের তথ্য প্রকাশ করবেন।

Logo