২০২৬ সালে নরওয়ের অভিবাসন নিয়ে জনআলোচনা ও রাজনৈতিক বিতর্কে স্পষ্ট পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। আগে যেখানে অভিবাসন নিয়ে সমালোচনা প্রকাশ করা অনেকটা ট্যাবু ছিল, এখন তা মূলধারার আলোচনায় পরিণত হয়েছে। ডিনার পার্টি থেকে শুরু করে সংবাদমাধ্যমের মন্তব্য বিভাগ পর্যন্ত অভিবাসনকে সমস্যা হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে।
অসলো বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞানী গ্রেতে ব্রকমান জানিয়েছেন, “অভিবাসন নিয়ে বক্তব্য স্পষ্টতই কঠোর হয়েছে। জনমত আরো সমালোচনামূলক হয়ে উঠছে।” তার মতে, বামপন্থি দলগুলোর মধ্যেও এখন সীমিত অভিবাসন নীতির প্রতি সমর্থন দেখা যাচ্ছে।
অ্যাফটেনপোস্টেনের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, সোশ্যালিস্ট লেফট (SV) ও গ্রিন পার্টি (MDG) ছাড়া প্রায় সব রাজনৈতিক দল অভিবাসন নীতিতে আগের তুলনায় কঠোর অবস্থান নিয়েছে। ডেনমার্ক ও সুইডেনের অভিবাসন নীতির প্রভাবও নরওয়ের রাজনীতিতে পড়ছে। বিশেষ করে ডেনমার্কের কঠোর ‘অ্যাসিমিলেশন মডেল’কে উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
স্ট্যাটিস্টিকস নরওয়ে (SSB)-এর জরিপে দেখা গেছে, টানা দুই বছর ধরে অভিবাসীদের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব কমছে। যদিও অধিকাংশ নরওয়েজিয়ান এখনো মনে করেন অভিবাসীরা অর্থনীতিতে ইতিবাচক অবদান রাখে, তবে ক্রমবর্ধমান সংখ্যক মানুষ শরণার্থী ও আশ্রয়প্রার্থীদের বসবাসের অনুমতি কঠিন করার পক্ষে।
২০২৩ সালে মাত্র ৯ শতাংশ মানুষ মনে করতেন বসবাসের অনুমতি কঠিন করা উচিত। কিন্তু ২০২৫ সালে এই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৪ শতাংশে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অভিবাসন নিয়ে কঠোর মনোভাবের পেছনে কয়েকটি কারণ রয়েছে:
- অভিবাসীর সংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি: ২০১০ সালের পর থেকে অভিবাসী জনসংখ্যা দ্বিগুণ হয়েছে।
- অর্থনৈতিক চাপ: ছোট ছোট পৌরসভা যারা শরণার্থী গ্রহণ করেছে, তারা বাজেট সংকটে পড়ছে।
- স্ক্যান্ডিনেভিয়ান প্রভাব: ডেনমার্ক ও সুইডেনের কঠোর নীতি নরওয়েতে প্রভাব ফেলছে।
- সামাজিক অভিযোজনের চ্যালেঞ্জ: ভিন্ন পটভূমির মানুষ স্ক্যান্ডিনেভিয়ান কল্যাণ মডেলে সহজে মানিয়ে নিতে পারছে না।
নরওয়ে এখন বিভক্ত; ৪০ শতাংশ মানুষ মনে করেন অভিবাসীদের নরওয়েজিয়ানদের মতো হতে চেষ্টা করা উচিত, আবার ৪২ শতাংশ এর বিপক্ষে। তবে শ্রম অভিবাসন নিয়ে তুলনামূলক ইতিবাচক মনোভাব রয়েছে। ৯১ শতাংশ নরওয়েজিয়ান মনে করেন, অভিবাসীদের সমান চাকরির সুযোগ থাকা উচিত এবং ৭৩ শতাংশ বিশ্বাস করেন শ্রম অভিবাসন অর্থনীতিতে ইতিবাচক অবদান রাখে। তবে আশ্রয়প্রার্থীদের ক্ষেত্রে কঠোর নিয়ন্ত্রণের দাবি বাড়ছে। সরকার এমনকি বিদেশে আশ্রয়কেন্দ্র স্থাপনের সম্ভাবনা বিবেচনা করছে।
নরওয়ের অভিবাসন বিতর্ক এখন আর প্রান্তিক নয়, বরং মূলধারার রাজনীতির অংশ। জনমত ও রাজনৈতিক অবস্থান ক্রমশ কঠোর হচ্ছে, যা অভিবাসীদের জন্য একটি “ঠান্ডা পরিবেশ” তৈরি করছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, যদি মানুষ মনে করে অভিবাসন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে, তবে নরওয়ের সামাজিক আস্থা দুর্বল হতে পারে।
logo-1-1740906910.png)