লিবিয়ার পূর্বাঞ্চলে একটি গণকবর থেকে অন্তত ২১ জন অভিবাসীর মরদেহ উদ্ধার করেছে নিরাপত্তা বাহিনী। একই ঘটনায় প্রায় ১০ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে, যাদের শরীরে নির্যাতনের চিহ্ন পাওয়া গেছে। তারা জানান, আরো অনেক অভিবাসী তাদের সঙ্গে ছিলেন, কিন্তু পরে নিখোঁজ হয়ে যান।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে নিরাপত্তা সূত্র জানায়, আজদাবিয়া শহরের কাছে একটি খামারে অভিযান চালানো হয়। সেখানে সাব-সাহারান আফ্রিকার অভিবাসীদের আটকে রাখার খবর পাওয়া গিয়েছিল। অভিযান শেষে গণকবরটি আবিষ্কৃত হয়, যা শহর থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরে।
খামারের মালিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি স্বীকার করেছেন, তার জমিতে গণকবর রয়েছে। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কিছু ছবিতে দেখা যায়, নিরাপত্তা কর্মী ও রেড ক্রিসেন্টের স্বেচ্ছাসেবীরা মরদেহগুলো কালো প্লাস্টিক ব্যাগে ভরে নিয়ে যাচ্ছেন। তবে কীভাবে এসব অভিবাসীর মৃত্যু হয়েছে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
২০১১ সালে মুয়াম্মার গাদ্দাফির পতনের পর থেকে লিবিয়া ইউরোপগামী অভিবাসীদের জন্য একটি প্রধান ট্রানজিট রুটে পরিণত হয়েছে। মরুভূমি ও ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে বিপজ্জনক পথে ইউরোপে পৌঁছানোর চেষ্টা করেন তারা। তেলভিত্তিক অর্থনীতি অভিবাসীদের কাজের সুযোগ দিলেও নিরাপত্তাহীনতার কারণে তারা প্রায়ই নির্যাতন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকার হন।
গত জুলাইয়ে আজদাবিয়া থেকেই একশর বেশি অভিবাসীকে মুক্ত করা হয়েছিল, যাদের একটি চক্র মুক্তিপণের জন্য আটকে রেখেছিল। সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা জানিয়েছিল, লিবিয়ার উপকূলে একটি নৌকায় আগুন লাগার ঘটনায় অন্তত ৫০ জন সুদানি শরণার্থী মারা যান। অক্টোবরে রাজধানী ত্রিপোলির পশ্চিম উপকূলে আরো ৬১ জন অভিবাসীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের আগস্ট থেকে অক্টোবরের মধ্যে লিবিয়ার ১০০টি পৌরসভায় মোট ৯ লাখ ২৮ হাজারের বেশি অভিবাসী অবস্থান করছিলেন। এদের মধ্যে অনেকেই বিভিন্ন দেশের সংঘাত ও দারিদ্র্য থেকে পালিয়ে এসেছেন।
গত নভেম্বরে জেনেভায় জাতিসংঘের এক বৈঠকে ব্রিটেন, স্পেন, নরওয়ে, সিয়েরা লিওনসহ কয়েকটি দেশ লিবিয়াকে অভিবাসী আটক কেন্দ্রগুলো বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছিল। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর অভিযোগ, এসব কেন্দ্রে অভিবাসীদের নির্যাতন, হত্যা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটছে।
logo-1-1740906910.png)