Logo
×

Follow Us

ইউরোপ

চার শতাব্দীর চিঠি বিলি শেষে অবসরে ডেনিশ ডাক বিভাগ

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১৭ জানুয়ারি ২০২৬, ০৮:২৩

চার শতাব্দীর চিঠি বিলি শেষে অবসরে ডেনিশ ডাক বিভাগ

ডেনমার্কে চার শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে চলা ডাক বিভাগের ঐতিহাসিক যাত্রার সমাপ্তি ঘটছে। ১৬২৪ সালে শুরু হওয়া এই সেবা ২০২৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর শেষ চিঠি পৌঁছে দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে অবসরে যাবে। ডেনমার্ক ও সুইডেনের একীভূত ডাক বিভাগ পোস্টনর্ড ঘোষণা দিয়েছে, তারা আর চিঠি বিতরণ করবে না। এ সংবাদ প্রকাশ করেছে দৈনিক প্রথম আলো।

ডেনিশ সমাজে দ্রুত ডিজিটালাইজেশন বাড়ছে। অনলাইন কেনাকাটা ও পার্সেল ডেলিভারি বেড়েছে, কিন্তু হাতে লেখা চিঠির সংখ্যা ভয়াবহভাবে কমে গেছে। গত ২৫ বছরে চিঠি পাঠানোর হার কমেছে ৯০ শতাংশের বেশি। এই বাস্তবতায় পোস্টনর্ড দেড় হাজার কর্মী ছাঁটাই করছে এবং তুলে ফেলছে দেড় হাজার ঐতিহ্যবাহী লাল পোস্টবক্স। এখন তাদের মূল মনোযোগ থাকবে পার্সেল ডেলিভারিতে।

তবে চিঠির প্রতি মানুষের আবেগ পুরোপুরি হারিয়ে যায়নি। নিলামে তোলা লাল পোস্টবক্সগুলো দ্রুত বিক্রি হয়ে গেছে। ভালো অবস্থার একটি পোস্টবক্সের দাম ধরা হয়েছিল দুই হাজার ডেনিশ ক্রোন, আর পুরোনো হলে দেড় হাজার ক্রোন। বিক্রি শুরুর মাত্র তিন ঘণ্টার মধ্যেই এক হাজার পোস্টবক্স বিক্রি হয়ে যায়। জানুয়ারিতে আরো ২০০টি নিলামে তোলা হবে, যাতে মানুষ স্মৃতি হিসেবে এগুলো সংরক্ষণ করতে পারে।  

চিঠি পুরোপুরি বন্ধ হচ্ছে না। নতুন বছর থেকে ডেলিভারি কোম্পানি দাও (Dao) চিঠি পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব নিয়েছে। তবে চিঠি পাঠাতে হলে মানুষকে দাওয়ের দোকানে যেতে হবে অথবা বাড়ি থেকে সংগ্রহ করাতে চাইলে অতিরিক্ত টাকা দিতে হবে। ডাকমাশুলও দিতে হবে অনলাইন বা অ্যাপের মাধ্যমে। অর্থাৎ চিঠি থাকবে, কিন্তু আগের মতো সহজ উপায়ে আর পাঠানো যাবে না।  

গবেষণায় দেখা গেছে, সব বয়সী মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বেশি চিঠি পাঠাচ্ছেন ১৮ থেকে ৩৪ বছর বয়সীরা। তারা অন্য বয়সী গোষ্ঠীর তুলনায় দুই থেকে তিন গুণ বেশি চিঠি পাঠান। ট্রেন্ড গবেষক ম্যাডস আরলিয়েন সোবর্গ মনে করেন, তরুণরা ডিজিটাল ক্লান্তির বিপরীতে হাতে লেখা চিঠিকে আশ্রয় হিসেবে বেছে নিচ্ছেন।  

ডেনমার্কের আইন অনুযায়ী, চিঠি পাঠানোর সুযোগ রাষ্ট্রকে নিশ্চিত করতেই হবে। তাই দাও যদি কখনো এই দায়িত্ব ছাড়ে, সরকার অন্য কাউকে দায়িত্ব দেবে। পরিবহন মন্ত্রণালয়ের ঘনিষ্ঠ সূত্র জানিয়েছে, সাধারণ মানুষের জীবনে ব্যবহারিকভাবে কোনো বড় পরিবর্তন হবে না, শুধু কোম্পানি বদলাবে। পরিবর্তনটা মূলত আবেগের।

Logo